শান্তি চাইলেও আলোচনায় দুর্বল অবস্থানে লেবানন
লেবানন শান্তি চাইলেও চলমান সংঘাতে কার্যকর ভূমিকা রাখার মতো খুব বেশি কিছু দেওয়ার অবস্থানে নেই বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। এর আগে প্রথমবারের মতো কয়েক দশক পর যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতরা বৈঠকে বসেছেন, যেসব দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। এই বৈঠককে অনেকেই যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যেখানে ইসরায়েল ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তবে বাস্তবতা হলো, লেবাননের সরকারি কর্তৃপক্ষের হাতে আলোচনায় দেওয়ার মতো প্রভাব খুবই সীমিত। রাষ্ট্রটি সরাসরি এই সংঘাতের পক্ষ নয় এবং হিজবুল্লাহর ওপরও তাদের কার্যত কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। বিরোধীদের অভিযোগ, এই সংগঠনটি ইরানের স্বার্থ রক্ষা করে এবং লেবাননকে অনিচ্ছাকৃত যুদ্ধে টেনে নেয়। চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য জানায়, যেখানে বেসামরিক ও যোদ্ধাদের আলাদা করা হয়নি। একইসঙ্গে জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যুদ্ধের কারণে বহু এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং অনেক বাসিন্দার আর কখনোই নিজ এলাকায় ফেরার সুযোগ নাও হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি সেনারা এখনো সীমান্ত এলাকায় স্থল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সংঘাতের অন্যতম মূল কারণ হিজবুল্লাহর অস্ত্রভাণ্ডার। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং অনেক লেবাননি নাগরিক এই বাহিনীর নিরস্ত্রীকরণ দাবি করলেও, বৈরুত সরকার হিজবুল্লাহর সম্মতি ছাড়া তা বাস্তবায়ন করতে পারে না। জোরপূর্বক পদক্ষেপ নিলে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। হিজবুল্লাহ সমর্থকেরা দাবি করেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একমাত্র সুরক্ষা এই সংগঠনই। একইসঙ্গে গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, কোনো সিদ্ধান্তেই তারা বাধ্য থাকবে না। তথ্যসূত্র: বিবিসি /অ