যুক্তরাজ্যের ইংলিশ চ্যানেলে সন্দেহভাজন রুশ ছায়া নৌবহরের তেলবাহী জাহাজ জব্দ
রাশিয়ার ‘ছায়া নৌবহর’-এর একটি তেলবাহী জাহাজ ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় তা জব্দ করেছে যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা বাহিনী। রোববার প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।স্টারমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, এই সফল অভিযান রাশিয়ার জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা এবং যারা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেন যুদ্ধকে অর্থায়ন করছে, তাদের জন্য এটি একটি স্পষ্ট বার্তা যে তাদের আড়ালে থাকতে দেওয়া হবে না।যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রোববার ভোরে ক্যামেরুনের পতাকাবাহী ‘স্মির্তোস’ নামের জাহাজটি আটক করা হয়। রয়্যাল মেরিন কমান্ডো ও জাতীয় অপরাধ দমন সংস্থার কর্মকর্তারা হেলিকপ্টার, নৌযান ও অন্যান্য সহায়তাকারী শক্তির সহায়তায় জাহাজে অভিযান চালান।প্রতিরক্ষামন্ত্রী ড্যান জার্ভিস এক বিবৃতিতে বলেন, এ ধরনের অভিযান উচ্চ দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও সাহসের দাবি রাখে। তিনি সেনা সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।তিনি আরও বলেন, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নে এই ছায়া নৌবহরের ওপর নির্ভর করে। এ ধরনের অভিযান পুতিনের অবৈধ যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতায় আঘাত হানে।মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানটি প্রায় ছয় ঘণ্টা স্থায়ী হয়। জাহাজটিকে বর্তমানে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের উপকূলের কাছে একটি নোঙর এলাকায় রাখা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ও পরিবেশগত বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই অভিযানের জন্য যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও ব্রিটিশ জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।তিনি বলেন, রাশিয়ার অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ও তেল-গ্যাস আয়ের ওপর নির্ভরশীলতা এই যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করেছে। রাশিয়ার অর্থায়নের পথ বন্ধ করতে পারলেই যুদ্ধের গতি কমানো সম্ভব।তিনি আরও বলেন, ইউরোপের এখনই এমন আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, যাতে শুধু তেলবাহী জাহাজ আটক নয়, বরং তাতে থাকা তেলও বাজেয়াপ্ত করা যায়।সামুদ্রিক ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি ৫ জুন রাশিয়ার বাল্টিক বন্দর উস্ত-লুগা থেকে যাত্রা শুরু করে এবং মিশরের পোর্ট সাইদের দিকে যাচ্ছিল। এর আগে জানুয়ারিতে ফ্রান্স একটি সন্দেহভাজন রুশ তেলবাহী জাহাজ আটক করে এবং মার্চে আরও একটি জাহাজ মার্সেই বন্দরে জব্দ করা হয়।২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়া শত শত জাহাজ নিয়ে একটি ছায়া নৌবহর ব্যবহার করছে বলে ধারণা করা হয়। যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ এ ধরনের নৌবহরের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জোরদার করেছে।যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং এসব পদক্ষেপে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আয়ের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে।রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ ধরনের জাহাজ জব্দকে ‘দস্যুতা’ বলে মন্তব্য করেছেন।সূত্র- আল জাজিরাএমএস/