বিশেষ প্রতিবেদন

রবিবার, ২১ আগস্ট, ২০১৬ (১৫:১১)

কয়েক মাসেই ২১ আগস্ট হামলার রায়: রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী

আইনজীবী

আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচারের রায় হতে পারে বলে আশা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে মামলাটি। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যেই বিচার শেষের সম্ভাবনা রয়েছে।

দেশটিভিকে দেয়া সাক্ষাতে এ কথা বলেন তারা।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পরদিনই ২২ আগস্ট রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলা করে সেসময় বিএনপি-জামাত জোট সরকার বোঝাতে চেয়েছিলো তারা এর কারণ অনুসন্ধান, তদন্ত ও বিচারে খুবই তৎপর। তবে সেদিনের বিরোধীদল আওয়ামী লীগের সেই সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ যাতে সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা ভাষণরত, সঙ্গে দলের অন্য শীর্ষ নেতারাও -তেমনি পুরো একটি দলীয় নেতৃত্বকে হত্যায় চালানো গ্রেনেড হামলার মামলাটি তদন্ত শুরুতেই চলে যায় ভিন্নখাতে। জানা যায় না কারা হামলাকারী, তাদের সামনে-পেছনের কাউকেই। অবতারনা ঘটে 'জজ মিয়া' নাটকের।

এরকম পরিপ্রেক্ষিত থেকেই ২১ আগস্টের হামলার দুটি মামলার তদন্ত হয় তিন দফায়। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে শুরু হয় ২য় পর্যায়ের তদন্ত। ২০০৮ সালের ১১ জুন জঙ্গিনেতা মুফতি হান্নানসহ ২২জনের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। একটি হত্যা এবং অপরটি বিস্ফোরক আইনে। তবে ওই তদন্তেও আর্জেস গ্রেনেডের উৎস ও হামলার পরিকল্পনায় থাকা হোতাদের বিষয়ে কিছু উদঘাটন না হওয়ায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের আমলে তৃতীয় দফা তদন্ত হয়।

২০১১ সালের ৩ জুলাই তদন্ত শেষে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, জামাত নেতা আলি আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং মামলাটিরই সাবেক তিন তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৩০ জনকে নতুন করে অভিযুক্ত করে দুটি অভিযোগপত্র দাখিল করে সিআইডি।

এভাবে অভিযোগ গঠন চূড়ান্ত করতেই লেগে যায় আট বছর। মামলায় মোট আসামি ৫২ জনের মধ্যে মুফতি হান্নান, লুৎফুজ্জামান বাবর, আব্দুস সালাম পিন্টু, ডিজিএফআইয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআইয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডয়ার জেনারেল আব্দুর রহিমসহ ২৫ জন কারাগারে রয়েছেন। এরমধ্যে যুদ্ধাপরাধী মুজাহিদের ফাঁসি হয়েছে।

আর জামিনে আছেন ৮ জন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক, সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার খোদাবক্স চৌধুরী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বোনের ছেলে সাইফুল ইসলাম ডিউক।

অন্যদিকে, এখনো পলাতক রয়েছেন ১৯ জন আসামি। এর মধ্যে তারেক রহমান যেমন আছেন তেমনি এ তালিকায় খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপির সাবেক সাংসদ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, জঙ্গি মওলানা তাজউদ্দীনের নামও রয়েছে।

এ বিষয় নিয়ে সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, ‘মাওলানা তাজউদ্দীন গ্রেপ্তার অবস্থায় আছে এবং তাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।’

‘প্রয়োজনীয় সাক্ষীর একজনও বাদ যাবে না। আশা করছি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আমরা বিচার ও নিষ্পত্তি করতে পারবো’ বলেও জানান তিনি

সৈয়দ রেজাউর রহমান আরো বলেন, এই সময়ের মধ্যে মামলার ৫১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ২২৩ জনের জেরা শেষ হয়েছে। চলছে ২২৪ নম্বর সাক্ষির জেরা।

মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ২২ ও ২৩ আগস্ট বলেও জানান রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলীর পাশাপাশি, আইন-বিচার ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে এ মামলার বিচার কার্যক্রম।

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

শ্রীলংকায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট

অগ্নি-ঝুঁকি: রাজধানী ঘিরে যে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরামর্শ

নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় পরিবহন মালিক-চালকদের দায়বদ্ধের তাগিদ

অপরিকল্পিত নগরায়ন, আইন না মানার প্রবণতা সব মিলিয়েই ঝুঁকিতে রাজধানীবাসী

পাট থেকে তৈরি হচ্ছে লেমিনেটেড ব্যাগ-স্লাইবার ক্যানশিট

পাইলটকে ফিরে দেয়া মানেই ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার শেষ নয়

সৌদির সঙ্গে সামরিক সমঝোতা স্মারক চুক্তি পররাষ্ট্রনীতির পরিপন্থি

শেখ হাসিনা বিকল্পহীন, বললেন বিশ্লেষকরা

সর্বশেষ খবর

হংকংয়ের বিক্ষোভ নিয়ে অপপ্রচার, ২১০ ইউটিউব চ্যানেল বন্ধ

যাত্রাবাড়ীতে মোটরসাইকেলে বাসের ধাক্কায় বাবা নিহত, ছেলে আহত

আজ শুভ জন্মাষ্টমী

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা