বিশেষ প্রতিবেদন

শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০১৬ (১৫:৪৮)

বঙ্গবন্ধু হত্যাযজ্ঞের কুচক্রীদের তৎপরতার রিপোর্টটা ছাপা হয়নি

আবেদ খান

দেশ টিভিকে তিনি জানান, এ বিষয়ে তার করা একটি রিপোর্ট ওইসময় আটকে দেয়া হয়েছিল, তা আর ছাপা হয়নি।

আবেদ খান। পঁচাত্তরে ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার। তার দেখা-জানায় উঠে এসেছে বঙ্গবন্ধু হত্যাযজ্ঞের কুচক্রীদের ওই সময়ের তৎপরতার কথা।

দেশ টিভিকে তিনি জানান, এ বিষয়ে তার করা একটি রিপোর্ট ওইসময় আটকে দেয়া হয়েছিল, তা আর ছাপা হয়নি।

একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয়। বঙ্গবন্ধু তখনো ফাঁসির মুখে পাকিস্তানের কারান্তরালে। বিশ্ব জনমতের চাপে পরাজিত পাকিস্তান তাকে মুক্তি দিলে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশে পা রাখেন বঙ্গবন্ধু। শুরু হয় যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার কাজ।

কিন্তু পরাজিত শক্তির দোসররা তার পিছু ছাড়েনি। প্রতিক্রিয়াশীল কুচক্রীরা তখনো মত্ত ষড়যন্ত্রে। এসব ঘটনা নজর এড়ায়নি ওইসময় ছুটে বেড়ানো সাংবাদিকদেরও। তাদেরই একজন আবেদ খান। তখন ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার। তার সাড়া জাগানো "টপ সিক্রেট" কলামে তিনি লিখেছিলেন সেই কাহিনী। কিন্তু তা ছাপা হয়নি। কেন?

আবেদ খান বলেন, কুচক্রীদের নজর ছিল গণমাধ্যমেও—কোথায় কী লেখা হচ্ছে, কী ছাপা হতে যাচ্ছে তাও তারা দেখভাল করতেন। তাহেরউদ্দীন ঠাকুর ছিলেন এসবের একজন।

তিনি বলেন, ‘তাহেরউদ্দীন ঠাকুর ওই সময় ছিলেন তথ্যপ্রতিমন্ত্রী। সম্ভবত তাহেরউদ্দীন ঠাকুরের সঙ্গে মঞ্জুর সাহেবের দেখা হয়েছে। তাহেরউদ্দীন ঠাকুর বলেছেন ঠিক আছে ওটা বন্ধ করে দিন পরে দেখছি। রেজা ভাইয়ের সঙ্গে আবার খোন্দকার মোস্তাকের ব্যক্তিগত সম্পর্কটা খুব ঘনিষ্ট ছিল। তিনি খোন্দকার মোস্তাক সাহেবকে বললেন বাদ দিন –এখন…. যেটাকে বলা ওই রিপোর্টটা যেন ছাপা না হয়।’

মুক্তিযুদ্ধের সময়ই যাদের আনুগত্য নিয়ে সন্দেহ ছিল তারাই দেশ স্বাধীনের পর বিভিন্ন উচ্চপদস্থ পদ দখল করে নিয়েছিলেন। তেমনি কুচক্রী সেনা অফিসারদের ষড়যন্ত্রের আঁচ পেয়ে তাই লিখে ফেলেছিলেন তিনি।

আবেদ খান আরো বলেন, ‘আমি চুপচাপ করে শুনছি আর লক্ষ্য রাখছিলাম কে কি করছে, তাদের আচরণটা খেয়াল করলাম—রশিদ কেমন, ফারুক খবুই অ্যারোগেন্ট, এসে বলল যে, আমরা অবস্থার পরিবর্তন চাই। খুব তাড়াতাড়ি শেখ মুজিবকে জাতীয় ইস্যুতে আর দেখতে চাই না। তখন আমার মাথায় ক্লিক করল ঘটনাটা অন্য, সন্দেহের কথাটা লিখেদিলাম যে সেনাবাহিনীর কিছু জুনিয়র অফিসার, তরুণ অফিসার তাদের মধ্যে একটা গোপন চক্রান্ত চলছে।’

এ পুরো ঘটনা ওইসময় সেনাবাহিনীর সিজিএস খালেদ মোশাররফকে জানালে তিনি তা দেখবেন বলেছিলেন। কিন্তু কিছুই করা হয়নি।

তিনি বলেন, খালেদ মোশাররফকে বললাম— খালেদ ভাই আমি আপনার সঙ্গে একটা জরুরি কথা বলতে চাই ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে, আমি তাকে বললাম যে ডু সামথিঙ্ক এটা আমি সাধারণভাবে দেখছি না জিনিসটা। তখন বললেন না ঠিক আছে , আমি তো সবকিছু আমার আয়ত্বের মধ্যে আছে, আমি দেখবো।

আবেদ খান বলেন, কীভাবে সব তাল রক্ষা করে খেলছিলেন ষড়যন্ত্রের ক্রীড়নক খন্দকার মোশতাক আর তাহেরউদ্দীন ঠাকুর।

আবেদ খান বলেন, ‘কয়েকজন ডালিম আর ফারুক রশিদ এরা কিন্তু নানাভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। এর মূল জায়গাটি কিন্তু অন্য। এখানে খোন্দকার মোস্তাকের রোল, এখানে তাহের উদ্দিন ঠাকুরের রোল এখানে ওই সময় যারা যারা ছিলেন তাএর রোল পরিস্কার ছিলনা। তাদের রোলটা আমার কাছে মনে হয়েছে অতিভক্তি।’

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

শ্রীলংকায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট

অগ্নি-ঝুঁকি: রাজধানী ঘিরে যে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরামর্শ

নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় পরিবহন মালিক-চালকদের দায়বদ্ধের তাগিদ

অপরিকল্পিত নগরায়ন, আইন না মানার প্রবণতা সব মিলিয়েই ঝুঁকিতে রাজধানীবাসী

পাট থেকে তৈরি হচ্ছে লেমিনেটেড ব্যাগ-স্লাইবার ক্যানশিট

পাইলটকে ফিরে দেয়া মানেই ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার শেষ নয়

সৌদির সঙ্গে সামরিক সমঝোতা স্মারক চুক্তি পররাষ্ট্রনীতির পরিপন্থি

শেখ হাসিনা বিকল্পহীন, বললেন বিশ্লেষকরা

সর্বশেষ খবর

কাশ্মীর সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে ভারতীয় সেনা নিহত

২২ আগস্ট গ্রুপ চ্যাট বন্ধ করে দিচ্ছে ফেসবুক

ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু আজ

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর আসছেন মঙ্গলবার