বিশেষ প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৬ (১৩:৫৩)

আইন সংশোধনেই ঝুলে আছে জামাত নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া

জামাত

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে শীর্ষ অভিযুক্তদের বিচার ও রায় কার্যকর প্রক্রিয়া শুরু হলেও আইন সংশোধনের জটিলতায় ঝুলে আছে যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে জামাতের বিচার প্রক্রিয়া। আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন-১৯৭৩ সংশোধন সংক্রান্ত বিলটি দীর্ঘদিন ধরেই মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিভিন্ন সময় আইনটির সংশোধনীর খসড়া মন্ত্রিসভায় দ্রুত তোলার কথা বললেও এখনো বিষয়টি উত্থাপিত হয়নি। এ কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামাতের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার পরও আইন সংশোধন না হওয়ায় বিচারকাজ শুরু করা যাচ্ছে না।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় নিরস্ত্র মানুষকে হত্যায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করতে গঠিত হয়েছিল আলবদর, আল-শামস, রাজাকার নামে খুনি বাহিনী। এসব বাহিনীর বেশিরভাগ সদস্য ছিল জামাত। মুক্তিযুদ্ধের শেষ সময়ে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যার নীল নকশা ও বাস্তবায়নে সরাসরি জড়িত ছিল দলটির নীতি নির্ধারক, সংগঠক, পরিচালক ও সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

২০১৩ সালে ১৭ ফেব্রুয়ারি নবম জাতীয় সংসদে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধে ব্যক্তির পাশাপাশি দলের বিচারের বিধান যুক্ত করে সংশোধনী পাস করা হয়। এরপর ১৮ আগস্ট থেকে জামাতের পাশাপাশি ৭১ এ দলটির ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘ, শান্তি কমিটি, রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনী ও জামাতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রামের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

গত বছর ২৭ মার্চ জামাত ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে একাত্তরে যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যাসহ সাত ধরনের অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ এনে চুড়ান্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেয় তদন্ত সংস্থা। বিদ্যমান আইনে যুদ্ধাপরাধী দলগুলোর কোনো সাজা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকায় বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই সরকার আইনটি আবার সংশোধনের উদ্যোগ নেয়।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও সংসদে এ আইন সংশোধনীর খসড়া মন্ত্রিসভায় দ্রুত উত্থাপন করার কথা বললেও এখনো বিষয়টি উত্থাপিত হয়নি। ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে জাতীয় সংসদের কয়েকটি অধিবেশন।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামাতের শীর্ষ নেতাদের বিচার হলেও স্বাধীনতাবিরোধী আদর্শ নির্মূল করতে দলটিকে নিষিদ্ধের কোনো বিকল্প নেই–সরকারকে তাই এই বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিস্কার করতে হবে বলে মনে করেন শহীদ আলীম চৌধুরীর স্ত্রী শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক।

এদিকে, আগামী সংসদ অধিবেশনে জামাত নিষিদ্ধের বিলটি উত্থাপিত হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আকম মোজ্জামেল হক ।

উল্লেখ, ১৯৪১ সালে জামাত প্রতিষ্ঠার পর ১৯৫৯ ও ১৯৬৪ সালে পাকিস্তানে এবং স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জামাত নিষিদ্ধ হয়েছিল। পরে জেনারেল জিয়ার আমলে প্রকাশ্য রাজনীতির সুযোগ পায় জামাত। জামাতের মতো একাত্তরে আরও কিছু দল সরাসরি যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। এদের মধ্যে পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি, নেজামে ইসলাম, মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি অন্যতম। আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন-১৯৭৩ সংশোধন হলে এই সব সংগঠনের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে।

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

শ্রীলংকায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট

অগ্নি-ঝুঁকি: রাজধানী ঘিরে যে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরামর্শ

নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় পরিবহন মালিক-চালকদের দায়বদ্ধের তাগিদ

অপরিকল্পিত নগরায়ন, আইন না মানার প্রবণতা সব মিলিয়েই ঝুঁকিতে রাজধানীবাসী

পাট থেকে তৈরি হচ্ছে লেমিনেটেড ব্যাগ-স্লাইবার ক্যানশিট

পাইলটকে ফিরে দেয়া মানেই ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার শেষ নয়

সৌদির সঙ্গে সামরিক সমঝোতা স্মারক চুক্তি পররাষ্ট্রনীতির পরিপন্থি

শেখ হাসিনা বিকল্পহীন, বললেন বিশ্লেষকরা

সর্বশেষ খবর

যুক্তরাজ্য থেকে ৫টি অত্যাধুনিক সি-১৩০ পরিবহন বিমান ক্রয়

স্টোকসের বীরত্বে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় ইংল্যান্ডের

সুদানে বন্যায় ৬২ জনের প্রাণহানি

বিদেশগামী জনগণের সাথে প্রতারণা ঠেকাতে নজরদারি জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর