বিশেষ প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন, ২০১৬ (১৪:২৫)

রাজস্ব আদায়ে মূসক নির্ভরতায় চাপ বাড়াবে সাধারণ মানুষের ওপর

এনবিআর

মূল্য সংযোজন কর বা মূসকের উপর নির্ভর করেই চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর।

এনবিআরের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দেড় লাখ কোটি টাকা সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকা।

এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫৫ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা আদায় হয়েছে মূসক থেকে—এরই ধারাবাহিকতায় আগামী বাজেটেও রাজস্ব আদায়ে সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে মূসকের ওপর।

তবে বিশেষজ্ঞরা দেশ টিভিকে জানায়, রাজস্ব আদায়ে মূসক নির্ভরতার নীতি সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়াবে।

সমতাভিত্তিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠায় প্রত্যক্ষ বা আয়করের ওপর জোর দিতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

গত অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায় বেশি হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৪%। এতে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় হয়েছে ১০৩%। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫৫ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা আদায় হয় মূসক থেকে। প্রায় ৫৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা আয়কর থেকে এবং আমদানি-রপ্তানি ও অন্যান্য শুল্ক থেকে আদায় হয়েছে সাড়ে ৪২ হাজার কোটি টাকা।

আগামী বাজেট অর্থায়নেও সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এ মূসকের ওপর। কোন পণ্য বা সেবার দামের সঙ্গে অতিরিক্ত যে অর্থ সরকারকে দিতে হয় তাই মূসক নামে পরিচিত। এই মূসকের পরিমাণ ধনী-দরিদ্র সবার ক্ষেত্রেই সমান।

যেমন রিকসাচালক,মফিজ উদ্দিন— মোবাইলে কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই তার অ্যাকাউন্ট থেকে কলরেটের সঙ্গে অতিরিক্ত ১৫% অর্থ কেটে রাখা হচ্ছে। আবার মার্জিডিজ বেঞ্জ হাকানো কোটিপতি সাহেবের কাছ থেকেও মূসক কাটা হচ্ছে একই হারে ১৫%।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মূসকের মূল সমস্যা এখানেই— ধনী-দরিদ্র বিচার করার কোনো বিধান এখানে নেই। একজন কোটিপতিকে যে পরিমাণ মূসক দিতে হয় একজন দিন মজুরকেও তাই।

তবে প্রস্তাবিত বাজেট অর্থায়নে সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে এ মূসকের ওপরেই। ২ লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের মধ্যে মূসকের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে সর্বাধিক ৭২, ৭৬৪ কোটি টাকা। আয় ও মুনাফার ওপর কর থেকে ৭১, ৯৪০ কোটি টাকা। আর আমদানি শুল্ক ও অন্যান্য আয় মিলিয়ে ৫৮,৪৪৮ কোটি টাকা।

রাজস্ব আদায়ে মূসকের ওপর সরকারের এই নির্ভরশীলতার নীতির সঙ্গে একমত নন অর্থনীতিবিদরা।

তাদের মতে, এই নীতির ফলে দরিদ্র মানুষের ব্যয় বাড়বে আর বাড়বে সামাজিক বৈষম্য।

বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. কে এ এস মুরশীদ বলেন, ‘আয়কর অনেক ভাল, ধনী দরিদ্র সকলের জন্য আয়করটাই ভাল যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী আয়কর দেবেন।’

বেশি আয়, বেশি কর, এই নীতির ওপর নির্ভর করে রাজস্ব আদায়ের কৌশল নির্ধারণ করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

শ্রীলংকায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট

অগ্নি-ঝুঁকি: রাজধানী ঘিরে যে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরামর্শ

নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় পরিবহন মালিক-চালকদের দায়বদ্ধের তাগিদ

অপরিকল্পিত নগরায়ন, আইন না মানার প্রবণতা সব মিলিয়েই ঝুঁকিতে রাজধানীবাসী

পাট থেকে তৈরি হচ্ছে লেমিনেটেড ব্যাগ-স্লাইবার ক্যানশিট

পাইলটকে ফিরে দেয়া মানেই ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার শেষ নয়

সৌদির সঙ্গে সামরিক সমঝোতা স্মারক চুক্তি পররাষ্ট্রনীতির পরিপন্থি

শেখ হাসিনা বিকল্পহীন, বললেন বিশ্লেষকরা

সর্বশেষ খবর

নাগরিকত্ব আইনের উত্তাপ এবার ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়ে

এগিয়ে গেল ওয়েস্টইন্ডিজ

মহান বিজয় দিবস আজ

ধর্ষণের পর হত্যায় অভিযুক্ত যুবক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত