বিশেষ প্রতিবেদন

শুক্রবার, ১১ মার্চ, ২০১৬ (১৭:২৭)
বিশ্লেষকদের মতামত

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঋণচুক্তি ইতিবাচক

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঋণচুক্তি

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত ২০০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তিকে সার্বিকভাবে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা। এ ঋণচুক্তির আওতায় যেসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বাছাই করা হয়েছে সেগুলোও দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করেন তারা।

তবে সময় মতো প্রকল্প বাস্তবায়নে আগের তুলনায় সরকারকে আরো বেশি সচেতন এবং ভারত থেকে পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণতা বজায় রাখার আহ্বানও তাদের।

ঋণের অর্থব্যয়ের ক্ষেত্রে যে প্রকল্পগুলো বাছাই করা হয়েছে সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়নই বাংলাদেশকে লাভবান করবে বলেও জানান বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘যে সমস্ত খাত চিহ্নিত করা হচ্ছে, সেগুলো খুব ভাল খাত এর মধ্যে রয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। গত ৭-৮ বছরে বাংলাদেশ দ্রুত গতিতে অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এটাকে আরো জোড়দার করতে সহায়তা করবে।’

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আশুগঞ্জে যে পোর্ট ডেভেলপমেন্ট করা হচ্ছে বা আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া পর্যন্ত— এখানেই প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের মতো খরচ হবে। এতে ভারতের বেশ আগ্রহ রয়েছে। তবে আমরা যে ৫০০ ট্রাক এ ঋণের আওতায় কিনছি— সে ট্রাকগুলো যদি এ ব্যবসাটা পেতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের জন্য এটা ভালো হবে।’

তবে ঋণের শর্তানুযায়ী, ভারত থেকে যে সকল পণ্য ও সেবা ক্রয় করতে হবে তার মূল্য যেন আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানান ড. মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘ঋণের আওতায় যে প্রোক্যুর্মন্টগুলো করবো, এটা যাতে প্রতিযোগিতা সক্ষম মূল্যে আমরা যদি অন্য জায়গা থেকে আনতে পারতাম— তার থেকে বড় ব্যত্বয় যাতে না হয়।’

সেইসঙ্গে সময় মতো প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারকে আরো বেশি গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান এ দুই বিশ্লেষকের।

ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘যদি আমার Home Work করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে খুব জোড়েশোড়ে ইতিবাচক করে আলাপ- আলোচনা করতে পারি তাহলে যে পরিমণ্ডটা সৃস্টি হবে তার মাধ্যমে, গতবার যেমন: ২০ কোটি রুপির অর্জন করতে পরেছি ঠিক এখানেও খুব বড় ধরনের অর্জন করে ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে।’

ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সময় মতো আমাদের যে প্রোজেক্টগুলোকে শেষ করতে হবে। আমরা ২০১০ সালে লাইন অব ক্রেডিট যেটা এক বিলিয়ন ডলার পেয়েছি, সেই ১৫টির মধ্যে ৭টি শেষ হয়েছে।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে ভারত নতুন করে ঋণ দিচ্ছে ২০০ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। বুধবার বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এ ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

এ ঋণের জন্য সুদ দিতে হবে ১% এবং কমিটমেন্ট ফি ০.৫%। ৫ বছরের মেয়াদকালসহ ২০ বছরের মধ্যে এ ঋণ শোধ করতে হবে।

বাছাইকৃত প্রকল্পে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুরো অর্থ ব্যয় করতে না পারলে আরো ২% অতিরিক্ত দণ্ড সুদ দিতে হবে। সেইসঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে ৬৫%-৭৫% পণ্য ও পরামর্শক সেবাও ভারত থেকে নিতে হবে।

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

শ্রীলংকায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট

অগ্নি-ঝুঁকি: রাজধানী ঘিরে যে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরামর্শ

নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় পরিবহন মালিক-চালকদের দায়বদ্ধের তাগিদ

অপরিকল্পিত নগরায়ন, আইন না মানার প্রবণতা সব মিলিয়েই ঝুঁকিতে রাজধানীবাসী

পাট থেকে তৈরি হচ্ছে লেমিনেটেড ব্যাগ-স্লাইবার ক্যানশিট

পাইলটকে ফিরে দেয়া মানেই ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার শেষ নয়

সৌদির সঙ্গে সামরিক সমঝোতা স্মারক চুক্তি পররাষ্ট্রনীতির পরিপন্থি

শেখ হাসিনা বিকল্পহীন, বললেন বিশ্লেষকরা

সর্বশেষ খবর

প্রধানমন্ত্রী আবুধাবি পৌঁছেছেন

শাহবাগ থেকে ঢাকা মেডিকেল এলাকা দৃষ্টিনন্দন করার পরিকল্পনা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

আফগানদের গুঁড়িয়ে মাসাকাদজার দাপুটে বিদায়

কলাবাগান ক্রীড়াচক্রে অস্ত্র-ইয়াবা, কৃষকলীগ নেতাসহ আটক ৫