বিশেষ প্রতিবেদন

বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৫ (১৯:১৮)

যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের দাবি, শহীদ পরিবার-বিশিষ্টজনদের

মুক্তিযুদ্ধের বর্বরতা

মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর হয়ে যুদ্ধাপরাধীরা শুধু নির্বিচারে এদেশের মুক্তিকামী মানুষকে হত্যা করেছে। ক্ষমাহীন অপরাধ করেও বিচারহীন থেকেছে কয়েকদশক ধরে পাশাপাশি গড়েছে সম্পদের পাহাড়। আর শহীদ পরিবারগুলো পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটিকে হারিয়ে হয়েছেন সর্বশান্ত।

চারদশক পরে স্বজন হত্যার বিচার পেলেও মুক্তিযুদ্ধের সময় এ অপশক্তির দ্বারা যে অর্থনৈতিক পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এখনো তা থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব হয়নি সেই পরিবার পরিজনদের।

শহীদ পরিবার, বিশিষ্টজনদের তাই দাবি সরকারকে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের সকল সম্পদ অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত করে তা ব্যয় করতে হবে শহীদ পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে।

সেইসঙ্গে যুদ্ধাপরাধী দল জামাত নিয়ন্ত্রিত সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সম্পদ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেয়ারও দাবি তুলেছে শহীদ পরিবার।

এ দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী জনাব আ.ক.ম মোজাম্মেল হক।

তবে অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ মনে করেন, আদালতের কোনো নির্দেশনা না থাকায় বিষয়টি বাস্তবায়ন সহজ হবে না।

একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত এ পর্যন্ত ২১ জনের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেষপর্যায়ে রয়েছে ১০ জনের চূড়ান্ত বিচারপর্ব। এর মধ্যে বিচারের সকল আইনি ধাপ শেষে ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হয়েছে ৪ যুদ্ধাপরাধীর।

মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর এদেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদর-আলশামস ও শান্তি কমিটির হোতারা মানবতাবিরোধী একের পর এক অপরাধ ঘটিয়ে গেছেন। হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ-নির্যাতন-বর্বরতা, সম্পদ লুট ও ধ্বংস ছাড়াও বহু মানুষকে দেশান্তর ও ধর্মান্তর করতে বাধ্য করার মতো বহু অপরাধে বিচারে সোপর্দ করা অভিযুক্তরা করেছে।

যুদ্ধের সময় তাদের নির্বিচার হত্যার শিকার হয়েছেন বুদ্ধিজীবীরাসহ বহু নিরপরাধ মানুষ। অনেক ক্ষেত্রেই হত্যা-বর্বরতার শিকার এসব মানুষ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। সে কারণে মুক্তিযুদ্ধ শেষ হলেও হত্যার বিচার না পাওয়ার পাশাপাশি ৪৪বছর ধরে শহীদ পরিবারগুলো স্বাধীন দেশেও রয়েছেন ভিন্ন এক জীবন সংগ্রামে।

অনেককে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করতে হয়েছে দারিদ্র্যে সঙ্গে। অন্যদিকে সেই যুদ্ধাপরাধীরা একদিকে যেমন দশকের পর দশক বিচারের আওতার বাইরে থেকেছে তেমনি গড়ে তুলেছে অঢেল সম্পদ।

শহীদ পরিবারের সদস্যরা এত বছর পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও দণ্ড কার্যকর হওয়ায় খুশী হলেও ক্ষতিপূরণ বিষয়ে রায়ে কোনো নির্দেশনা না থাকাটা দুঃখজনক বলে মনে করছেন।

বিশিষ্টজন ও শহীদ পরিবার-সদস্যদের দাবি ক্ষতিপূরণের এবং দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার। প্রয়োজনে এ বিষয়ে সংসদে আইন পাস করারও দাবি তাদের।

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

শ্রীলংকায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট

অগ্নি-ঝুঁকি: রাজধানী ঘিরে যে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরামর্শ

নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় পরিবহন মালিক-চালকদের দায়বদ্ধের তাগিদ

অপরিকল্পিত নগরায়ন, আইন না মানার প্রবণতা সব মিলিয়েই ঝুঁকিতে রাজধানীবাসী

পাট থেকে তৈরি হচ্ছে লেমিনেটেড ব্যাগ-স্লাইবার ক্যানশিট

পাইলটকে ফিরে দেয়া মানেই ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার শেষ নয়

সৌদির সঙ্গে সামরিক সমঝোতা স্মারক চুক্তি পররাষ্ট্রনীতির পরিপন্থি

শেখ হাসিনা বিকল্পহীন, বললেন বিশ্লেষকরা

সর্বশেষ খবর

হংকংয়ের বিক্ষোভ নিয়ে অপপ্রচার, ২১০ ইউটিউব চ্যানেল বন্ধ

যাত্রাবাড়ীতে মোটরসাইকেলে বাসের ধাক্কায় বাবা নিহত, ছেলে আহত

আজ শুভ জন্মাষ্টমী

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা