বিশেষ প্রতিবেদন

সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৪ (১৯:২১)

আমার পরিচয় আমার সন্তানের কাছে জরুরি: মনোয়ারা

যুদ্ধশিশু মনোয়ারা ক্লার্ক

আমি একটা নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট চাই— আমি একটা জন্ম সনদ চাই আর চাই আত্মপরিচয় কারণ আমি কানাডায় সাদা মানুষদের সঙ্গে মিশতে পারছি না এ কথাগুলো করুণভাবে বলে গেলেন যুদ্ধশিশু মনোয়ারা ক্লার্ক। দেশ টিভিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশের সমবয়সী মনোয়ারা পেশায় সেবিকা। তিনি বলেন এতদিন আত্মপরিচয়ের সনদ না পাওয়ার বেদনা তাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিলো।

সনদ পাওয়ার পর তিনি বলেন, আমি আমার শেকড় খুঁজে পেয়েছি এদেশে। কে আমি, কি আমরার পরিচয়, আমার সন্তান জুলিয়ার জন্য জানান জরুরি। আমি ভীষণ সুখি এ তীর্থ ভূমিতে এসে।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনারা এ দেশে মানবিকতার যে বিপর্যয় ঘটিয়েছিল তারই স্বাক্ষর যুদ্ধশিশুরা। তাদের আত্মপরিচয় দেয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এমন মন্তব্য মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের পাশে থাকা কানাডার মানবাধিকার কর্মী বনি কাপুচিনোর।

আর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আসা যুদ্ধশিশু মনোয়ারা তার আক্ষেপের সুরে বলেন, ৪৩ বছরেও কেউ তার খোঁজ নেয়নি। তাই নিজেই এসেছেন আত্মপরিচয়ের সন্ধানে প্রিয় স্বদেশে।

যুদ্ধশিশুদের মধ্যে রায়ান বাদল গুড, আমেনা ইউলসি এর আগে বাংলাদেশে এলেও প্রথমবারের মতো এসেছেন মনোয়ারা। যুদ্ধজয়ী মাতৃভুমির স্বাদ নিয়েছেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, মুত্তিযুদ্ধ জাদুঘর ঘুরে। তবে কানাডায় বড় হয়েও জীবনসংগ্রামে স্বস্তির হতে পারেননি মনোয়ারা। জন্মভূমি ও আত্মজার অনুসন্ধান তাড়িয়ে বেড়ায় তাকে। সভ্য দেশেও বারবারই বিপাকে ফেলে জন্মপরিচয়, অভিভাবকত্ব সংকট।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার পাকিস্তানিদের হত্যা-গণহত্যা- ধ্বংসযজ্ঞের একই সমান্তরালে পাশবিকতা, বর্বরতা, নির্যাতনের ভয়াবহতা ছিল বহুমাত্রিক।

মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে পাকিস্তানিদের নির্যাতনের শিকার হয় ২ লাখের ওপর নারী। বীর নারীরা কেউ জীবন দিয়ে, কেউ সম্ভ্রম দিয়ে শত্রুমুক্ত করেছেন দেশকে। সেই যুদ্ধেরই আরেক ভয়াবহতার প্রতীক যুদ্ধশিশুরা। মুক্তিযোদ্ধা-বীরাঙ্গনাদের গর্ভে জন্ম নেয়া এ শিশুদের অনেকেই আছেন আত্মপরিচয়ের সংকটে। অভিভাবকহীন হয়ে ঠাঁই নিতে হয়েছে ভিনদেশে। ভিন্নতর এক জীবনসংগ্রামের মুখোমুখি তারা। তাদেরই একজন মনোয়ারা, মনোয়ারা ক্লার্ক।

বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে বাংলাদেশে এসেছেন মনোয়ারা। মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে যুদ্ধশিশুদের দায়িত্ব নিতে বিভিন্ন বিদেশি সংস্থার আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি করেন। এগিয়ে আসে কানাডার ফ্যামিলিজ ফর চিলড্রেন। সেদেশের তিন দম্পতি দুই দফায় নিয়ে যান মনোয়ারাসহ ২৮জন যুদ্ধশিশুকে।

যুদ্ধশিশুদের পুনর্বাসনকারী কানাডার মানবাধিকার কর্মী বনি কাপুচিনোও ঢাকায় আসেন। এসময় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে হস্তান্তর করেন সে সময়ের কিছু দলিল ।

এ সময় বনি বলেন, পাকিস্তানি সৈন্যরা একাত্তরে এ দেশে মানবিকতার যে বিপর্যয় ঘটিয়েছিলো তা জীবনব্যাপী বয়ে বেড়াচ্ছে যুদ্ধশিশুরা। তাদের আত্মপরিচয় দেয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।

কানাডার মানবাধিকার কর্মী বনি কাপুচিনো বলেন, ‘আমরা সুখি এখান থেকে যুদ্ধ শিশুদের নিয়ে যেতে পেরে। সামাজিক কারণে তাদের পরিচয় প্রকাশ করি না, তবে রাষ্ট্রের একটা দায়িত্ব রয়েছে, চাইলে ওইসব শিশুদের বাংলাদেশ আত্মপরিচয় দিতে পারে।’

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

শ্রীলংকায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট

অগ্নি-ঝুঁকি: রাজধানী ঘিরে যে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরামর্শ

নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় পরিবহন মালিক-চালকদের দায়বদ্ধের তাগিদ

অপরিকল্পিত নগরায়ন, আইন না মানার প্রবণতা সব মিলিয়েই ঝুঁকিতে রাজধানীবাসী

পাট থেকে তৈরি হচ্ছে লেমিনেটেড ব্যাগ-স্লাইবার ক্যানশিট

পাইলটকে ফিরে দেয়া মানেই ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার শেষ নয়

সৌদির সঙ্গে সামরিক সমঝোতা স্মারক চুক্তি পররাষ্ট্রনীতির পরিপন্থি

শেখ হাসিনা বিকল্পহীন, বললেন বিশ্লেষকরা

সর্বশেষ খবর

নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

আফগানিস্তানে গাড়ি বোমা হামলায় নিহত ১০

রবিবার থেকে দেশে বৃষ্টিপাত বাড়বে

দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৭ উইকেটে হারাল ভারত