বিশেষ প্রতিবেদন

রবিবার, ১০ আগস্ট, ২০১৪ (২০:১০)

ভূমির অধিকার নিশ্চিতের দাবি আদিবাসীদের

ভূমির অধিকার নিশ্চিতের দাবি আদিবাসীদের

ভূমি হচ্ছে মা। আর মাকে আশ্রয় করেই জীবন-জীবিকা, সংস্কৃতিচর্চা, সবকিছু। ভূমিকে মা বিবেচনা করেই যে কোনো জনগোষ্ঠীর জীবন-প্রণালী প্রবাহিত হয়। এটা তাদের অধিকার।

কিন্তু প্রথাগত শাসন ব্যবস্থার ও সেই ভূমির অধিকারে বঞ্চনার কারণে তাদের জীবন একরকম বিপন্ন হয়ে পড়ে। পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা এখনও সংসদে উত্থাপনের অপেক্ষায়। আর সমতলের জন্য তো পৃথক ভূমি কমিশন এখনও হয়নি। গবেষকরা বলেন, এ সমস্যার সমাধান না হলে ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতি সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

দেশ টিভিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন তারা।

পার্বত্য শান্তিচুক্তি অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলার ভূমি সমস্যা সমাধানে ২০০১ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন প্রণয়ন করে সরকার। আইনের বেশকিছু ধারা ওই চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে তা সংশোধনের দাবি ওঠে। ধারাগুলো কেমন হলে ভাল হবে, সেভাবে সুপারিশও এসেছে। অবশেষে এ বছর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় আইনের খসড়া চূড়ান্ত হয়। তবে সংসদে উত্থাপন করা হয়নি বলে আইনটি আর আলোর মুখ দেখেনি।

অন্যদিকে, নির্বাচনী ইশতেহারে থাকলেও সমতলের আদিবাসীদের জন্য আলাদা ভূমি কমিশন গঠন করেনি আওয়ামী লীগ সরকার।

সঞ্জীব দ্রং বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগের শাসনামল) গত ৫ বছরে এ নিয়ে কাজ করেনি। অবশ্য তারা বলেনি তারা কাজ করবে না। আমি নিশ্চিত এখনো তারা বলবে তারা করবে। কিন্তু কবে করবে।’

শক্তিপদ ত্রিপুরা বলেন, ‘আমরা শুনেছি সরকারের মধ্যে আরো সরকার আছে। ওইটার কারণে ওইটা যদিও পাবর্ত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন

কমিটিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে যদিও সেটা আন্তঃমন্ত্রণালয়ে নিষ্পত্তি হয়েছে পরবর্তীতে আমরা দেখলাম সেটা সংসদে আর উত্থাপিত হলো না। আর সংসদের পাস হলো না।’

ভিন্ন জাতিসত্তার প্রতিনিধিত্ব করা নেতারা বলছেন, সাংবিধানিক অধিকার এবং সরকারের প্রতিশ্রুতি, উভয় বিবেচনাতেই সরকারকে অবিলম্বে ভূমি সমস্যার সমাধান করতে হবে।

সঞ্জীব দ্রং বলেন, ‘আজকে পর্যন্ত সমতলের আদিবাসীদের যেটুকু জমি আছে এগুলো সুরক্ষার নিশ্চিত করা হোক। আমরা প্রথাগত অধিকারের কথা বলি ঐতিহ্যগত অধিকারের কথা বলি কিন্তু বাংলাদেশে ভূমির ওপর যে চাপ, আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এগুলোর একটি মালিকানা বা দলিল দরকার।’

শক্তিপদ ত্রিপুরা বলেন, ‘আদিবাসীদের আলাদা ভূমি ব্যবস্থাপনা আছে সেটাকে প্রথমে আপনাকে শ্রদ্ধা করতে হবে। আপনাকে স্বীকৃতি দিতে হবে। সেটা বাংলাদেশের সংবিধানে স্বীকৃতি দিতে হবে। সেটা শুধু জেলা পরিষদ আইনে দিলে হবে না, ভূমি কমিশন আইনে দিলে হবে না। সেটা বাংলাদেশে সংবিধানে স্বীকৃতি থাকতে হবে।’

গবেষকরাও পাহাড় ও সমতলের পৃথক জনগোষ্ঠীর জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের পক্ষে। সুষ্ঠু সমন্বয় করেই তা বাস্তবায়ন করতে হবে বলে মনে করেন তারা।

অধ্যাপক মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, ‘প্রথা এগুলোর একটা বিধিবদ্ধ নিয়মের মধ্যে আনা দরকার হয়ে পড়েছে। কারণ আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় তাদের যে উত্তরণ ঘটেছে সেখানে তারা ভূমির সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে তারা শিক্ষা, সংস্কৃতি ব্যবসা চাকরির ইত্যাদির মাধ্যমে কিন্তু আধুনিক রাষ্ট্রের সঙ্গে তারা সংযুক্ত হবে।’

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মেসবাহ কামাল বলেন, ‘পাবর্ত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন ২০১৪ টা অবিলম্বে পাস হওয়া দরকার। সমতল ভূমির জন্য একটা ভূমি কমিশন দরকার, এটা অতি জরুরি এবং এটা না করলে এদেশের আদিবাসীরা দেশত্যাগ করতে বাধ্য হবে।’

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

শ্রীলংকায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট

অগ্নি-ঝুঁকি: রাজধানী ঘিরে যে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরামর্শ

নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় পরিবহন মালিক-চালকদের দায়বদ্ধের তাগিদ

অপরিকল্পিত নগরায়ন, আইন না মানার প্রবণতা সব মিলিয়েই ঝুঁকিতে রাজধানীবাসী

পাট থেকে তৈরি হচ্ছে লেমিনেটেড ব্যাগ-স্লাইবার ক্যানশিট

পাইলটকে ফিরে দেয়া মানেই ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার শেষ নয়

সৌদির সঙ্গে সামরিক সমঝোতা স্মারক চুক্তি পররাষ্ট্রনীতির পরিপন্থি

শেখ হাসিনা বিকল্পহীন, বললেন বিশ্লেষকরা

সর্বশেষ খবর

খালেদার মুক্তির দাবিতে আজ বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি

এসএ গেমসে পদক জয়ীদের গণভবনে আমন্ত্রণ

আশুলিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে শ্রমিক নিহত

তুমুল বিতর্কের মধ্যেই ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস