বিশেষ প্রতিবেদন

শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০১৪ (১৯:৪৭)

রামপালের বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদন নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সংশয়

বিশেষজ্ঞদের সংশয়

বাস্তবতা বিবেচনা করে ২০১৮ সালে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদনে যাওয়ার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন দেশের বিশেষজ্ঞরা। বৃহস্পতিবার ঢাকায় ভারত-বাংলাদেশ যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক শেষে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২০১৮ সালে মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘোষণা দেয়া হয়।

ভারতের বিদ্যুৎ সচিব পিকেসিনহা নীতিগত এ সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী বললেও দেশের বিশেষজ্ঞরা, সরকারের এ সিদ্ধান্তকে অনেকটাই আত্নঘাতি বলে মনে করছেন।

দেশের বিদ্যুত চাহিদা মিটাতে চলছে নানা মুখী প্রচেস্টা। এরই অংশ হিসেবে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বিদ্যুৎ সহযোগিতা নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনাগ্রহণ করা হচ্ছে।

এমনই পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত বাংলাদেশ ভারত যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির ৭ম সভা রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ও এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে দুই দেশেরই সুবিধা পাওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শেষে নীতিগত সিদ্ধান্তে আসে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সচিব মনোয়ার ইসলাম বলেন, ‘আমরা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির ব্যাপরের সম্মত হয়েছি। আমরা একটি টেকনিকাল কটিম করে দিয়েছি তারা ৩ মাসের মধ্যে একটি ওর্য়াকপ্লেন সাবমিট করবে। আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করবো, যতো দ্রুত করা যায়।’

ভারতের বিদ্যুৎ সচিব পিকে সিনহা বলেন, ‘যেভাবে কাজ চলছে আমরা আশা করতে পারি ২০১৮ সালে ডিসেম্বর মাসের আগেই রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সম্ভব হবে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আমাদের বিনিয়োগ থাকলেও উৎপাদিত পুরো বিদ্যুৎ বাংলাদেশ পাবে। আর ভারত শুধু লভ্যাংশের অংশটুকু পাবে।’

তবে ২০১৮ সালে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন শুরু করা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে জানান দেশের বিশেষজ্ঞরা।
জ্বালানী বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ বিশেষজ্ঞ বিডি রহমত উল্লাহ বলেন, ‘আমি এ জন্য মনে করছি না যে বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু নেপাল ও ভুটানের মানুষের মতো না। ভারতের আকাঙ্খা এবং এ সরকারে আকাঙ্খা এটা হচ্ছে একটি অবৈধ আকাঙ্খা।’

জ্বালানী বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ বিশেষজ্ঞ ইজাজা হোসাইন বলেন, ‘২০১৮ সালে না হলে ২০১৯ সালে হয় তো হবে। কিন্তু আমরা যেটা লক্ষ্য করছি যে প্রস্তুতি যেটা ২০১৮ বা ২০১৯ যাই বলি সেটা কিন্তু আমি দেখছি না বা লক্ষ্য করছি, শুধু মিটিং দেখিছি।’

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়েও বৈঠকে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেপাল ও ভুটানকে বাদ দিয়ে শুধু ভারতের কাছ থেকে বিদ্যুৎ আনা অযৌক্তিক।

ইজাজা হোসাইন বলেন, ‘আমরা একটি দেশের ওপরে অত্যান্ত নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছি একটি গুরুত্বপূর্ণ এনার্জির ব্যাপারে। আমি মনে করি আমরা নেপাল, ভুটান ও মায়ানমার সব খান থেকেই চেষ্টা করা উচিৎ।’

এছাড়া, দেশের মধ্য দিয়ে ভারতকে বিদ্যুৎ করিডোর ব্যবহার করতে দেয়াকেও বিশেষজ্ঞরা দেশের স্বার্থানুকূল বলে মনে করছেন না।

রহমত উল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদশকে সে ব্যবহার করবে যতো না বেশি বিদ্যুৎ নেয়ার জন্য ব্যবহার করবে তার চেয়ে বেশি করিডোর হিসেবি ব্যবহার করবে। কারণ নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আনা এর সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহ করতে হলে ভারতের ভিতর দিয়ে এটা লাভজনক হবে না। কাজেই বালাদশ হচ্ছে তার সাইড কারণ সেটা চারিদিকে রয়েছে। বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে যদি নেয় তাহলে ভারতের জন্য এটা একটি দারুণ জিনিস হচ্ছে। ভারত একটা রাজা তার কিনারে আমরা হচ্ছি প্রজা। প্রজা হিসেবে ভারতকে সহায়তা কারার জন্য। এই সুবিধাটা ভারত নিচ্ছে।’

ইজাজা হোসাইন বলেন, ‘এখান থেকে যদি ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যায় তার ১০% বিদ্যুৎ আমাদের এখানে দেয়া উচিৎ। কিংবা এটা জন্য ভালো অ্যামাউন্টের করিডোর রেন্ট পাওয়া উচিৎ।’

বিশেষজ্ঞরা আরো বলেন, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি অনেকটাই কমে আসবে। তবে তাদের ধরণা রামপালে স্থায়ী কোনো শিল্পাঞ্চল গড়ে তুললে পরিবেশ হুমকির সন্মুখীন হবে।

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

শ্রীলংকায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট

অগ্নি-ঝুঁকি: রাজধানী ঘিরে যে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরামর্শ

নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় পরিবহন মালিক-চালকদের দায়বদ্ধের তাগিদ

অপরিকল্পিত নগরায়ন, আইন না মানার প্রবণতা সব মিলিয়েই ঝুঁকিতে রাজধানীবাসী

পাট থেকে তৈরি হচ্ছে লেমিনেটেড ব্যাগ-স্লাইবার ক্যানশিট

পাইলটকে ফিরে দেয়া মানেই ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার শেষ নয়

সৌদির সঙ্গে সামরিক সমঝোতা স্মারক চুক্তি পররাষ্ট্রনীতির পরিপন্থি

শেখ হাসিনা বিকল্পহীন, বললেন বিশ্লেষকরা

সর্বশেষ খবর

ফকরুলসহ বিএনপির ২১ নেতার আগাম জামিন আবেদন

১০ হাজার ৭৮৯ রাজাকারের তালিকা প্রকাশ

আশুলিয়ায় নিটিং ফ্যাক্টরিতে আগুন, ৭ কোটি টাকার ক্ষতি

দক্ষিণ আফ্রিকার হেড কোচ হলেন মার্ক বাউচার