রাজনীতি

শনিবার, ০৩ নভেম্বর, ২০১৮ (১৪:০১)

নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি হলে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে যাবে: বি. চৌধুরী

নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি হলে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে যাবে: বি. চৌধুরী

আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিকল্পধারার চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

নিরপেক্ষ নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি হলে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে যেতে পারে বলে জানান তিনি।

শুক্রবার গণভবনে সংলাপ শেষে সাংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। আন্তরিক পরিবেশে সংলাপ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের বেশ কিছু দাবি মেনে নেয়া হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধায় ৫ দফা দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয় যুক্তফ্রন্ট ও এর শরিক দলগুলোর ২১ সদস্যের প্রতিনিধিদল। সংলাপে যুক্তফ্রন্টের পক্ষে নেতৃত্ব দেন জোটের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারার সভাপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

আন্তরিক পরিবেশে সংলাপ হয়েছে জানিয়ে বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, তাদের কিছু দাবি মানা হয়েছে, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

নির্বাচনে নিরপেক্ষ পরিবেশ তৈরি হলে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে আসতে পারে বলে জানান বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

বি. চৌধুরী বলেন, দাবি বাস্তবায়িত হবে কি না তা আমি বলতে পারব না। তবে তারা স্বীকার করেছেন যে এ দাবিগুলো বাস্তব। তারা স্বীকার করেছেন, এগুলো প্রণিধানযোগ্য, তারা স্বীকার করেছেন এগুলো তারা বিবেচনা করবেন এবং কোনো কোনো জায়গায় তারা স্বীকৃতি দিয়েছেন এটা এটা গ্রহণ করা হবে।

আমরা এর বেশি কিছু বলব না— আমরা দেখব তারা কীভাবে এটা বাস্তবায়িত করে, সেই হিসেবে আমরা বলব আমাদের সংলাপ আন্তরিকভাবে হয়েছে বলে মনে হয়। সরকার যদি কথা রাখেন, তাহলে এটা আশাবাদের দিকেই যাচ্ছে জানান তিনি।

বিকল্পধারা নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের সাত দফা দাবি সরকার বিবেচনায় নিবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিকল্পধারা ও যুক্তফ্রন্টের নেতারা।

সংলাপ শেষে গণভবন থেকে বের হয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তারা আরো বলেন-আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে।

ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি নেতারা যেখানে সংলাপ নিয়ে হতাশার কথা বলছেন, সেখানে সংলাপের পর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে কি না- তা জানতে চান সাংবাদিকরা।

এর জবাবে বি. চৌধুরী বলেন, যদি সরকারকে নিরপেক্ষকরণ করা যায়, নির্বাচন কমিশন যদি সরকার থেকে পুরোপুরি আলাদা থাকতে পারে, তাহলে অবশ্যই একটি পরিবেশ তৈরি হবে। আমাদের অন্য দাবিগুলো গ্রহণ করলে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আমরা নির্বাচনে যেতে পারি। ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করব।

প্রয়োজনে একদিনের জন্য সংসদ ডেকে নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের যে দাবি, তা পূরণ না হলেও নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি নিরপেক্ষ হলে ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ডের অনেকটা কাছাকাছি’ পৌঁছানো সম্ভব বলে মনে করেন যুক্তফ্রন্টের শীর্ষ নেতা।

তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রীত্বেই যে নির্বাচন হবে তা সংলাপে আবার স্পষ্ট করেছে আওয়ামী লীগ। তবে যুক্তফ্রন্টের কিছু দাবির সঙ্গে ক্ষমতাসীনরা একমত হয়েছে যা ইতিবাচক।

বি চৌধুরী আরো বলেন, আজকে অন্তত কিছু দাবি মেনে নিল। আমরা একটা ভালো শুরু করেছি, আমরা দেখব। আমরা নিজেরা আলোচনা করব- এক লাফেই সব হয়ে যাবে এটা না, আমরা রাজনীতি করি।

যুক্তফ্রন্টের সাত দফা:

১. নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা। সংসদ ভেঙে দেয়া, সম্ভব না হলে নিষ্ক্রিয় রাখা।

২. নির্বাচনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কর্মচারীদের নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত করা। নির্বাচন কমিশনকে শতভাগ রাষ্ট্রপতির অধীনে রাখা। তফসিল ঘোষণার পর এমপিরা যাতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো প্রকল্প উদ্বোধন বা প্রতিশ্রুতি দিতে না পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া। প্রয়োজনে আইন করে মন্ত্রী ও এমপিদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাহার করা। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের বিল বোর্ড, ব্যানার, পোস্টার অপসারণ করা।

৩. নির্বাচন হতে হবে নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে। প্রয়োজনে একদিনের জন্য সংসদ ডেকে জাতীয় সরকার গঠন করা যেতে পারে। অথবা মন্ত্রিপরিষদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বা জোট থেকে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে একটি সন্তোষজনক নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা যেতে পারে। নির্বাচনে সকল প্রকার নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার অথবা বর্তমান সরকারের নির্বাচন বিষয়ে ক্ষমতা সীমিত করতে হবে।

৪. নির্বাচনের আগে ও পরে যাতে শান্তি-শৃঙ্খলার বিঘ্ন না ঘটে-সেজন্য সেনাবাহিনীকে নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে এবং নির্বাচনের দুই সপ্তাহ পর পর্যন্ত মোতায়েন করতে হবে। ভোটের দিন সেনাবাহিনীকে সীমিত ক্ষমতা দিতে হবে যেমন, আটক রাখার ক্ষমতা ও ভোট কেন্দ্রে থাকা।

৫. নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করা।

৬.নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক কারণে আটক বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে।

৭.নির্বাচন সম্পর্কিত মামলা নির্বাচনের পর এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা। সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন অতি প্রণয়ন করা।

এদিকে, আওয়ামী লীগ ও চৌদ্দ দলীয় জোটের নেতারা এ সময় বলেন-আলোচনা ভাল হয়েছে।

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

‘ক্যাসিনো খালেদ’ যুবলীগ থেকে বহিষ্কার

নতুন নেতৃত্ব পেল ছাত্রদল

ছাত্রদলের সম্মেলন নিয়ে সন্ধ্যায় জরুরি বৈঠক

আজ এরশাদের চেহলাম, রংপুরে খাওয়ানো হবে ৩০ হাজার মানুষকে

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক সোমবার

বন্যার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না সরকার: ফখরুল

সরকার বেশিদিন ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে না : ফখরুল

খালেদার অসুস্থতা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে: রিজভী

সর্বশেষ খবর

স্বৈরশাসক সিসি'র পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল মিসর

সৌদি আরব ও আমিরাতে সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

দুর্দান্ত স্পেসিফিকেশন নিয়ে আসছে Redmi 8A, ফাঁস হল ডিজাইন

প্রধানমন্ত্রী আবুধাবি পৌঁছেছেন