রাজনীতি

গণমাধ্যম কোনো পোষা বাঘ নয়, তাকে পোষ মানানো যাবে : তথ্যমন্ত্রী

হাসানুল হক ইনু
হাসানুল হক ইনু

মিথ্যাচার ও তথ্য বিকৃতির বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকে অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে ভূমিকা রাখতে হবে মনে করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। শনিবার বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের (পিআইবি) সেমিনার কক্ষে ‘সরকারি জনসংযোগ ও গণমাধ্যম’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গণমাধ্যম মাঝে-মধ্যেই হলুদ সাংবাদিকতা বা ভারসাম্যের সংবাদ পরিবেশন করে থাকে। এমনকি রাজাকার ও স্বৈরাচারের পক্ষাবলম্বন করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকেও অনেকে সমর্থন করে থাকে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও গণমাধ্যমের সম্পর্ক হচ্ছে অম্লমধুর। এ সম্পর্ক বিরোধপূর্ণ। এ পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের তথ্য কর্মকর্তাদের কাজ কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে সামরিক হস্তক্ষেপ ও অগণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে গণমাধ্যমগুলো সরকারের কাছ থেকে কোনো তথ্য পায় না বলে তখন বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।

তিনি বলেন, বর্তমানে জনগণের সরকার ক্ষমতায়। এখন সমাজ ও জনগণের যে উন্নয়ন ও অগ্রগতি হচ্ছে তার মূলে রয়েছে শেখ হাসিনার সরকার। যুগের চাহিদা অনুযায়ী দিনবদলের উন্নয়নের যে ধারা শুরু হয়েছে এবং সমাজে এর কি ইমপেক্ট পড়ছে, তার কোন রিপোর্ট সরকারের তথ্য কর্মকর্তারা মন্ত্রণালয়ে বা গণমাধ্যমে পেশ করছেন না।

ইনু বলেন, তথ্য কর্মকর্তাদের স্মরণ রাখতে হবে, তারা মন্ত্রী এবং সরকার ও প্রশাসনের জনসংযোগ কর্মকর্তা। মন্ত্রীর একান্ত প্রচার কর্মকর্তা হিসেবে সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ডের সঠিক তথ্য গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরাই তাদের কর্তব্য। তথ্য অধিকার আইনের কারণে এখন গণমাধ্যম কর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্ন আসবে, সেসবের উত্তর দেয়াও তথ্য কর্মকর্তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এ জন্য তাদের পড়াশুনা করতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সঙ্গে বিগত বিএনপি-জামায়াত সরকারের কি পার্থক্য আছে, তা তথ্য কর্মকর্তাদের গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরতে হবে। সরকারের আঞ্চলিক কর্মকান্ড এবং বর্হিবিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কের যে পরিবর্তন বা নতুন মেরুকরণ হয়েছে, সেটিও তুলে ধরার দায়িত্ব এ কর্মকর্তাদেরই।

মন্ত্রী বলেন, তথ্য কর্মকর্তাদের সংবিধান সম্পর্কে জ্ঞান এবং সব ধরণের সরকার সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। কিছুটা গণতন্ত্র, কিছুটা সামরিক তন্ত্র ও কিছুটা ধর্মতন্ত্রের মিশেলে খালেদা-নিজামীর খিচুরীতন্ত্রের সরকার সম্পর্কেও ধারণা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, খিচুরীতন্ত্রের গণতন্ত্র থেকে বর্তমান সরকার এখন প্রত্যাবর্তন পর্বে আছে। সামরিকতন্ত্র জায়েজ করতে খালেদা-নিজামী ১৩৭টি আইন করে গেছেন। শেখ হাসিনার সরকার সামরিক ও স্বৈতন্ত্রের পদচিহ্ন মুছে ফেলতে যুগের চাহিদা অনুযায়ী এখন আইনকে হালনাগাদ করতে ২৬৭টি আইন করেছে। সরকারের তথ্য কর্মকর্তাদের এসব তথ্য গণমাধ্যমে সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম কোন পোষা বাঘ নয়, যে তাকে পোষ মানানো যাবে। তবে এ হিংস্র বাঘের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করতে তথ্য কর্মকর্তাদের মুন্সিয়ানা জানতে হবে। সংবিধানকে তাদের আপহোল্ড করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোন সমস্যায় পড়লে সচিব তাদের পক্ষে অবস্থান নিবে।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা জয়নাল আবেদিন ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত। সভাপতিত্ব করেন পিআইবি’র মহাপরিচালক শাহ আলমগীর।

তথ্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় (পিআইডি) এ কর্মশালার আয়োজন করে পিআইবি। সূত্র বাসস।

দেশটিভি/এএ
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

জোর-জবরদস্তির নির্বাচন হবে, এমন মেসেজ পাচ্ছি: জিএম কাদের

আমরণ অনশনের ঘোষণা ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতদের

আলোচিত মহিউদ্দিন মহারাজের মনোনয়ন প্রত্যাহার

প্রধানমন্ত্রী সকল যড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বীরদর্পে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে: মির্জা আজম

যা যা চাওয়া হয়েছে ভারত সব দিয়েছে: সেতুমন্ত্রী

কৃত্রিম সার সংকট সৃষ্টিকারীদের কঠোর হুশিয়ারি কৃষক লীগের

সড়ক-মহাসড়ক যেন মরণ ফাঁদ: জিএম কাদের

আগামী নির্বাচনে ফাইনাল খেলা হবে: কাদের

সর্বশেষ খবর

সবজির হাটে মালবাহী ট্রাকের চাপায় নিহত ৫

গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তিন শতাধিক প্রবাসীকে অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুটের মূলহোতা গ্রেপ্তার

ইমরান খানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি