জাতীয়

বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ (১০:৫৯)
সংসদে কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতি

দেশে ‘গ্রহজনিত জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার প্রস্তাব গৃহীত

দেশে ‘গ্রহজনিত জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার প্রস্তাব গৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অস্তিত্বের সঙ্কট, উপর্যুপরি দুর্যোগের ভয়াবহ আঘাত এবং চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়া বৃদ্ধি, জীব বৈচিত্রের অপূরণীয় ক্ষতি, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা, ক্রমবর্ধমান পানি সঙ্কট, মহাসাগরগুলোর ওপর অভাবনীয় চাপ এবং সম্পদের অমিতাচারী ব্যবহারের পেক্ষাপটে ‘গ্রহজনিত জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার প্রস্তাব জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে।

বুধবার (১৩ নভেম্বর) রাতে জাতীয় সংসদে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির পক্ষে সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী সংসদে প্রস্তাবটি আনেন। এসময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্ব করছিলেন। পরে স্পিকার তা ভোটে দিলে প্রস্তাবটি পাস হয়ে যায়।

প্রস্তাবটিকে সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দীন, সরকারি দলের সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, এমপি কাজী নাবিল আহমেদ, ওয়াশিকা আয়েশা খানম, নজরুল ইসলাম বাবু, জাসদের শিরিন আখতার, বিএনপির হারুনূর রশীদ, রুমিন ফারহানা, জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজী, মুজিবুল হক চুন্নু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, রফিকুল ইসলঅম বীর উত্তম ও প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।

বুধবার (১৩ নভেম্বর) রাতে এরই প্রেক্ষিতে প্রথমবারের মতো ‘গ্রহজনিত জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার সিদ্ধান্ত প্রস্তাব কণ্ঠ ভোটে পাস করলো সংসদ। জলবায়ু নিয়ে বাংলাদেশের আন্দোলন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার সংসদে কার্যপ্রণীলী বিধির ১৪৭ বিধির আওতায় এ নিয়ে প্রস্তাব উত্থাপন করেন সাবের হোসেন চৌধুরী।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, বিশ্বের ধনী দেশগুলোর কার্বণ নিঃসরণের ফলে পরিবেশগত ক্ষতি ও জলবায়ু পরিবর্তন জনিত অভিঘাতের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ড। ক্ষতির শিকার হচ্ছে বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশও। ক্লাইমেট চেঞ্জ ও জলবায়ু অভিঘাতের ফলে দেশের সাড়ে ৪ কোটি মানুষ ক্লাইমেট উদ্বস্তু হতে বাধ্য হচ্ছে। বিশ্বের ধনী দেশগুলোর কার্বণ নিঃসরণে ফলে আমাদের মতো দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোটি কোটি মানুষ ক্লাইমেট রিভিউজি হতে বাধ্য হচ্ছে বলে জানান সাবের হোসেন চৌধুরী । তিনি বলেন, এ প্রস্তাবটি পাস হলে আগামী দিনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক কূটনীতির একটি ক্ষেত্র তৈরি হবে, যা হতে পারে রোল মডেল।

সাবের হোসেন চৌধুরী আরো বলেন, জলবায়ুর এই অভিঘাতের ফলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা ৬ ফুট বেড়ে যেতে পারে। যার ফলে ঢাকাসহ বিশ্বের বহু শহর পানির তলায় ডুবে যেতে পারে। জলবায়ু বিপর্যয়ের ফলে বিশ্বের ১৬ ভাগ প্রাণী বিলুপ্ত। আরো ১০ লাখ প্রাণী বিলুপ্তির পথে। তিনি বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্ব এক ভয়াবহ খাবার পানি সঙ্কটে পড়তে যাচ্ছে। বছরের ১২ মাসে যে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করার কথা তা আমরা ৭ মাসেই ব্যবহার করছি। বিশ্বের প্রায় ২৩ টি উন্নত দেশের পার্লামেন্ট তাদের দেশে জলবায়ু জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। আমাদের সংসদে এ প্রস্তাবটি পাস হলে তা সারা বিশ্বের জন্য একটি মাইল ফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। আগামী মাসে স্পেনে অনুষ্ঠিত কপ-২৫ সম্মেলনে আমরা মডেল হতে পারি। প্রায় ৩৫ মিনিটের বক্তব্যে সাবের হোসেন চৌধুরী বিশ্বের ধনী দেশগুলোর জন্য তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো পরিবেশগত ভাবে যে ক্ষতির সস্মুখিন হন তা তুলে ধরেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ক্লাটমেট চেঞ্জের ফলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে গিয়ে বাংলাদেশের উপকূলীয় ২৯ টি জেলা ঢুবে যাবে। সমুদ্র পৃষ্ঠের পানির উচ্চতা ৫-৬ ফুট বেড়ে যাবে।

শেখ ফজলুল করীম সেলিম বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ুর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ বাংলাদেশ। আয়লা, ফনী, বুলবুল সবই আমাদের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। যার ফলে কোটি কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে, আমাদের অস্তিত্বের ওপর আঘাত আসছে। প্রধানমন্ত্রীকে কপ-২৫ সম্মেলনে এটি জোরাল ভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দীন বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের ১০টি ঝুঁকিপূর্ণ দেশের মধ্যে ওঠা নামা করে। ক্লাইমেট চেঞ্জের অভিঘাতে বাংলাদেশ সব চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত। বাংলাদেশ বিশ্বে সব চেয়ে কম কার্বন নিঃসরণ দেশ হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু ধনীদেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি মতো ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে না। ঐক্যবদ্ধভাবে প্রস্তাবটি পাস করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

বক্তারা এ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় বলেন, দিনে দিনে ক্লাইমেট চেঞ্জের ফলে বিশ্ব বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। বিশ্বের ধনী দেশগুলো কার্বন নিঃসরণের ফলে দরিদ্র দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ২০ ভাগ দেশ কার্বণ নিঃসরণ করে আর ৮০ ভাগ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অথচ তারা কোনো ক্ষতি পূরণ দেয় না। ধনীদেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি মানছে না। তাই বিশ্বের সব দেশকে এক যোগে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব নিয়ে উন্নত বিশ্বগুলো যেসব অঙ্গীকার অতীতে করেছে তা তারা রাখেনি। তবে জলবায়ু নিয়ে বাংলাদেশ সাধ্যমত চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাবের কারণে দুর্যোগের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে, জীববৈচিত্র হুমকির মুখে। আমরা হবো পৃথিবীর প্রথম ও একমাত্র সংসদ যারা প্লানেটারি ইমার্জেন্সি ঘোষণা করছি।

সাবের হোসেন আরো আমাদের আগামীদিনের রাজনীতি, কূটনীতিতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্লাটফর্মে এটা উপস্থাপন করতে পারবো। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বিশ্বব্যপী যে আন্দোলন চলছে তার নেতৃত্ব দিতে পারবে।

‘গ্রহজনিত জরুরি অবস্থা’ প্রস্তাবের কথা

‘গ্রহজনিত জরুরি অবস্থা’ প্রস্তাবের কথা

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

লুটেরা ও আগুন সন্ত্রাসীরা যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশের জন্য ১০ হাজার হজ কোটা বাড়াল সৌদি আরব

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

১০ ডিসেম্বর ঢাকাসহ সব বিভাগীয় শহরে বিএনপির র‌্যালি

প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন

আ’লীগের জাতীয় কমিটির সভা বিকালে

সিসিইউতে সিরাজুল আলম খান

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের উপর চাপ প্রয়োগে নেদারল্যান্ডসের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

সর্বশেষ খবর

আইপিএল নিলামে রয়েছেন বাংলাদেশের যে ৬ ক্রিকেটার

মৌরিতানিয়া উপকূলে নৌকা ডুবে ৫৮ শরণার্থীর মৃত্যু

লুটেরা ও আগুন সন্ত্রাসীরা যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশের জন্য ১০ হাজার হজ কোটা বাড়াল সৌদি আরব