জাতীয়

রবিবার, ১৭ মার্চ, ২০১৯ (১৮:৫৯)

৭৪ সালে শিশু আইন প্রণয়ন করেন বাবা, সে পথেই হাঁটছি

৭৪ সালে শিশু আইন প্রণয়ন করেন বাবা, সে পথেই হাঁটছি : শেখ হাসিনা

আজকের শিশু যাতে আগামী দিনে একটি সুন্দর জীবন পায়, তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর ৯৯তম জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে শিশু সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

নিজের জীবনটাকে দেশ ও জনগণের জন্য উৎসর্গ করার কথা পুর্নব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরে সবাইকে হারানোর পর সমৃদ্ধ-উন্নত দেশ গড়তে বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে ফিরে এসেছি। সেই সিদ্ধান্তের ওপরই আজো পথ চলছি।

সব সময় একটা কথা চিন্তা করেছি, আমাকে কাজ করতে হবে— আমার বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে হবে। সেই সিদ্ধান্ত নিয়েই আমি আজো পথ চলছি বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আজকে আমাদের লক্ষ্য তিনি (বঙ্গবন্ধু) যেভাবে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছিলেন সেই বাংলাদেশ গড়ে তোলা সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

আর এ জন্য শিশুরা যেন শিক্ষা, খেলাধুলা, শরীরচর্চা, সাংস্কৃতিক চর্চা- সব দিকে পারদর্শী হয়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করা হবে।

আমরা পরিবেশ সৃষ্টি করছি যেন আমাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখতে পারে, মানুষের মত মানুষ হতে পারে, উচ্চ শিক্ষা নিতে পারে বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, শিশুদের অধিকার যেন প্রতিষ্ঠিত হয়, পাশাপাশি শিশু শিক্ষা, খেলাধুলা, শরীরচর্চা, সাংস্কৃতিক চর্চা- সবদিকে যেন তাদের পারদর্শিতা গড়ে ওঠে সেদিকে আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়া হয়েছে।

শিশুদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাবনা আর নেতৃত্বে তার দূরদর্শিতার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন দেশ গড়তে, এরই মধ্যে তিনি শিশুদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা পুরোপুরি অবৈতনিক করে দিয়ে যান। শিশুদের যে অধিকার সেটা যাতে নিশ্চিত হয় তার জন্য ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা এই বাংলাদেশে শিশু আইন প্রণয়ন করেন, তখনো জাতিসংঘ শিশু আইন করেনি। কত দূরদর্শিতা ছিল তার নেতৃত্বে… আমরা তার আলোকেই জাতীয় শিশু নীতি প্রণয়ন করি ২০১১ সালে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও কম্পিউটার ল্যাব করে দেয়া হয়েছে। সারাদেশে ছাত্রছাত্রীদের বিনামূল্যে বই দেয়া হচ্ছে, পাশাপাশি যারা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী তাদের জন্য ব্রেইল বইয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য তাদের ভাষার বই দেয়া হচ্ছে।

মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা বঙ্গবন্ধুর ছেলেবেলা থেকেই ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার দাদীর কাছে গল্প শুনেছি যে নিজের বই… গরীব ছাত্রছাত্রী হলে… অনেক সময় কষ্ট করে পড়তে হত, তখন.. তাদেরকে তিনি বিলিয়ে দিতেন। মাইলের পর মাইল হেঁটে বা নৌকা করে স্কুলে যেতে হত, হেঁটে যাওয়ার সময় ছাতা কিনে দেয়া হত।… যারা দূর দূরান্তে যেতেন তাদের তিনি নিজের ছাতাটা দিয়ে দিতেন।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছিল। ৭ই মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারপরও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সে ভাষণ প্রচার করেছিল। তাদের নির্মম নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ প্রাঙ্গণে পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া লামিয়া সিকদারের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান সেলিমা হোসেন, শিশু ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার কেএম আলি আজম বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেয় চতুর্থ শ্রেণির আরাফাত হোসেন। জেলা প্রসাশক মোখলেসুর রহমান সরকার গোপালগঞ্জ জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের লোগোর একটি রেপ্লিকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রী ‘বঙ্গবন্ধুকে লেখা চিঠি’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করার পর সেখান থেকে নির্বাচিত সেরা চিঠিটি পড়ে শোনায় যশোরের কেশবপুরের শিশু সুরাইয়া।

অনুষ্ঠানে দুস্থদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ‘আমার কথা শোন’ শীর্ষক একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

এছাড়া সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার প্রদান, শিশু শিল্পীদের ফটোসেশন ও বইমেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের আঁকা ছবি নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে টুঙ্গিপাড়া পৌঁছে জাতির জনকের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেন শেখ মুজিবুর রহমান। কালক্রমে তার হাত ধরেই বিশ্ব মানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ।

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

রোহিঙ্গারা রাজি না হওয়ায় থমকে গেল তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া

যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে বিমানের সুনাম বৃদ্ধির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

‘আলীগই গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করেছিল’

প্রধানমন্ত্রী বিমানের‘গাংচিল’ উদ্বোধন করবেন আজ

কাশ্মীর ইস্যু ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়: বাংলাদেশ

ভয়াল একুশে আগস্ট আজ

শেখ হাসিনাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ মোদীর

সর্বশেষ খবর

হংকংয়ের বিক্ষোভ নিয়ে অপপ্রচার, ২১০ ইউটিউব চ্যানেল বন্ধ

যাত্রাবাড়ীতে মোটরসাইকেলে বাসের ধাক্কায় বাবা নিহত, ছেলে আহত

আজ শুভ জন্মাষ্টমী

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা