জাতীয়

বুধবার, ৩০ জুলাই, ২০১৪ (১৮:৪৪)

জনগণের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনা

আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার ব্যাপারে তার দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করে এ ব্যাপারে সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার তার সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের নেতা-কর্মী, পেশাজীবী, বিচারপতি এবং কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০৮ সালে সাধারণ নির্বাচনের আগে আমরা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। এখন আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করছি।

তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আমরা বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত করার লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবো ইনশাল্লাহ এবং এ ব্যাপারে আমরা দেশবাসীর শুধু দোয়া ও সহযোগিতা চাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার সুষ্ঠুভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারলে এখানে কোন ক্ষুধা ও দারিদ্র্র্য থাকবে না। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশকে এমনভাবে গড়ে তুলতে চাই, যাতে দেশবাসী বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।

দেশবাসীকে ঈদুল ফিতরের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁর সরকার দেশকে এগিয়ে নিতে চায়।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে এক দিকে জনগণের দারিদ্র্য হ্রাস পাচ্ছে অপরদিকে ক্রয় ক্ষমতা বাড়ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার রাজধানীর পাশাপাশি জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে কোন রকম সমস্যা ছাড়াই রমজানে জনগণ গভীর রাত পর্যন্ত কেনাকাটা করেছে। তিনি বলেন, এতে প্রমাণ হয় যে, জনগণের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে এবং তারা গভীর উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে ঈদ উদযাপন করছে।

ঈদে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে সরকারি বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ঈদ উপলক্ষে জনগণের ঘরেফেরা নির্ঝণজাট ও নিরাপদ করতে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আল্লাহর রহমতে রমজান মাসে কোন অনাংখিত ঘটনা ঘটেনি।

তিনি বলেন, মার্কেট ও শপিংমলগুলো গভীর রাত পর্যন্ত খোলা ছিল এবং সর্বস্তরের নারী-পুরুষ শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কেনাকাটা করেছে। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর পরিবেশে ঈদ উৎসব উদযাপনের সুযোগ সৃষ্টি করায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে জনগণের সেবা করার একটি সুযোগ পেয়েছে। ‘নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করে আমরা জনগণের সেবা করছি- তিনি উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার গত ছয় মাসে দেশে দারিদ্র্যের হার এক শতাংশ কমিয়ে এনেছে। ২০০৯ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত দারিদ্র্যের হার ৩১ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণের জন্য সুন্দর জীবন নিশ্চিত করা। আমরা দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করে জনগণের উন্নত জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছি।‘

ঈদ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে আসা সমাজের সর্বস্তরের জনগণের জন্য গণভবনের গেট সকাল সাড়ে ৯টায় খুলে দেয়া হয়। ঈদের নামাজের পরে তারা এখানে এসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। এ উপলক্ষে গণভবনের বিশাল প্রাঙ্গণ দৃষ্টিনন্দন করে সাজানো হয়।

শুরুতে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ ফুল দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।

পরে প্রধানমন্ত্রী কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং ভিক্ষুক ও ছিন্নমূল নারী-পুরুষসহ সর্বস্তরের জনগণ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অন্যান্যের বছরের মতো এবারও কিছু দর্শনার্থী শুভেচ্ছা বিনিময় সুযোগে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের দুঃখ-দুর্দশা ও দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তা সমাধানে তাঁর সহযোগিতা কামনা করেন।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও এডভোকেট সাহারা খাতুন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগ যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, কেন্দ্রীয় নেতা ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি, মহানগরী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, বীর বিক্রম অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি, সিনিয়র বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং কূটনীতিকদের সঙ্গে গণভবন প্রাঙ্গণে পৃথকভাবে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, আমেরিকা, ইউরোপ ও সার্ক দেশসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাবৃন্দ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আব্দুস সোবহান শিকদার, প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী এবং বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী অতিথিদের মিষ্টান্ন, ফলমূল, সমুচা, কাবাব, সেমাই এবং চা দিয়ে আপ্যায়ান করেন। সূত্র বাসস।

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়লেন ৩২৭ জাপানি

শামসুর রহমানের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক

আজ থেকে কঠোর হচ্ছে সেনাবাহিনী

সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান মারা গেছেন

আরো দুজন আক্রান্ত, নতুন কোনো মৃত্যু নেই

আজ থেকে রমজান উপলক্ষে স্বল্পমূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু

সাধারণ ছুটি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে বিজিবির সাড়ে ১২ কোটি টাকা প্রদান

সর্বশেষ খবর

ফিলিপাইনে বাড়ির বাইরে দেখামাত্রই গুলির নির্দেশ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো বাতিল হলো উইম্বলডন

আজ থেকে কঠোর হচ্ছে সেনাবাহিনী

এআর গ্লাস আনবে ফেইসবুক