পরিবেশ

বুধবার, ০২ ডিসেম্বর, ২০১৫ (১৪:০০)
জলবায়ু সম্মেলন

বাধ্যবাধকতামূলক চুক্তিতে আসতে চায় না শিল্পোন্নত দেশগুলো

জলবায়ু সম্মেলন

প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনের মূল দাবি কার্বন নিঃসরণ কমানো ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ প্রদানে শিল্পোন্নত দেশগুলোর আইনগত বাধ্যবাধকতামূলক চুক্তিতে নেয়া।

তবে বিশ্বের ১৫১ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বক্তব্য দিলেও তারা প্যারিসে আইনি বাধ্যবাধকতার চুক্তিতে পৌঁছাতে কোনো দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন না।

অথচ উন্নত বিশ্বের ভোগ-বিলাসিতার বিপরীতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মানুষের বেঁচে থাকাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।

গতকাল দিনভর দেন-দরবার করেও কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং অর্থ বরাদ্দ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, নিউজিল্যান্ড, কানাডা, রাশিয়া, ব্রাজিল, সৌদি আরব, অস্ট্রেলিয়া ও চীন এসব বৃহত্তর দেশগুলোকে কোনো আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে রাজি করাতে স্বল্পোন্নত দেশগুলো ব্যর্থ হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র কোনো আইনি বাধ্যবাধকতায় থাকতে চাচ্ছে না যদিও এবার ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখাচ্ছে।

কার্বন নিঃসরণ কমানো ছাড়াও অভিযোজন খাত নিয়ে উদীয়মান অর্থনীতির জোট বেসিক এবং জি-৭৭ ও চীন এখনও নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে।

সবুজ তহবিলে অর্থায়ন প্রশ্নে উন্নত বিশ্ব নানা ফাঁকফোকর খোঁজার চেষ্টা করছে। শিল্পোন্নত দেশগুলো তাদের আর্থিক অবস্থা ভালো নয় বলে তহবিল গঠনে বিশ্বব্যাংকসহ বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে তহবিল ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়নে নিয়ে আসার প্রস্তাব করছে।

স্বল্পোন্নত ও দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো এর বিরোধিতা করছে। সম্মেলনে নিষ্ক্রিয় ভূমিকার জন্য গতকাল নিউজিল্যান্ডকে ফসিল অব দ্য ডে ঘোষণা করেছেন পরিবেশবাদীরা।

তবে প্যারিস সম্মেলন থেকেই শেষ পর্যন্ত একটা গ্রহণযোগ্য সমঝোতা আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। শিল্পোন্নত দেশগুলো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বলেন, প্যারিস সম্মেলনে বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে ও জলবায়ু তহবিল নিয়ে সুনির্দিষ্ট চুক্তি হবে।

তবে সম্মেলনের শুরুতেই হতাশ পরিবেশবাদী ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা।

তাদের অভিযোগ, বেশি মাত্রায় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলো কিছু একটা করার কথা বললেও কেউই আইনি চুক্তিতে যেতে চাচ্ছে না।

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত কনভেনশনের (ইউএনএফসিসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ক্রিস্টিনা ফিগুইরা সম্মেলনে আসা প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, প্যারিসে কার্বন নিঃসরণ ও জলবায়ু তহবিল নিয়ে বেশ কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হবে। বেশিরভাগ শিল্পোন্নত দেশ কার্বন নিঃসরণ কমানোর ব্যাপারে রাজি হয়েছে।

তিনি বলেন, এবারই প্রথম বিশ্বের ১৫১ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান সম্মেলনে যোগ দিয়ে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় একটি বৈশ্বিক চুক্তিতে পৌঁছাতে সবাইকে উৎসাহিত করেছেন।

বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সম্মেলনের নতুন সভাপতি লরা ফোবিয়াস ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। এবার জলবায়ু চুক্তিতে পৌঁছাতেও তিনি বিশ্ব নেতৃত্বকে রাজি করাতে বিশেষ ভূমিকা রাখলে প্যারিস সম্মেলন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

জলবায়ু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিষয়ে গোপন দলিল নিয়ে সম্মেলনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র গতকাল তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোকে এক গোপন চিঠিতে প্যারিসে কোনো আইনি বাধ্যবাধকতামূলক চুক্তিতে না যেতে পরামর্শ দেয়।

এ চিঠিসহ জলবায়ু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের গোপন দলিলপত্র গতকাল ফাঁস হয়ে যায়। এক পৃষ্ঠার এ চিঠি নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভের মুখে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। বিভিন্ন দেশের সমঝোতাকারী ও পরিবেশবাদীরা যুক্তরাষ্ট্রকে প্যারিস সম্মেলনে বড় শক্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

এ বিষয়ে সম্মেলনে অংশ নেয়া বাংলাদেশের কোস্ট ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় না কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা চুক্তি হোক। যুক্তরাষ্ট্র গোপনে বন্ধু দেশগুলোকে চিঠি দিয়ে যে ষড়যন্ত্র করেছে তা অনৈতিক। প্যারিসে নিরাপত্তার বেড়াজাল না থাকলে এ নিয়ে ব্যাপক হৈচৈ হতো।

গতকাল দিনভর এডিবির আলোচনায় দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু অর্থায়নের পরিমাণ ২০২০ সাল নাগাদ ১০০ বিলিয়ন ডলার করার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে স্বল্পোন্নত এবং দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো ২০২০ সালের আগে বছরে ৬০ বিলিয়ন ডলার প্রদানের দাবি তুলেছে।

তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃত্বে সবুজ তহবিলে ফ্রান্স, রাশিয়া, চীনসহ শিল্পোন্নত দেশগুলো বছরে ১০ বিলিয়ন ডলার দেয়ার ব্যাপারে নমনীয় মনোভাব দেখাচ্ছে।

এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী অর্থায়ন হিসেবে ফার্স্ট স্টার্ট তহবিলের (৩০ বিলিয়ন ডলার) বার্ষিক গড় অবদানের সমপরিমাণ ১০ বিলিয়ন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতিকে মনে করিয়ে দিয়েছে ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলো।

গতকাল এডিবির সভায় জার্মানি, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, ডেনমার্ক, সুইডেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ২০১৯ সাল নাগাদ ১০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

গতকাল বিকেলে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) সভায় বাংলাদেশের বিপন্নতার কথা বারবার আলোচিত হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আইনুন নিশাত বলেন, কার্বন নিঃসরণ কমানো না গেলে ভয়াবহ বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। সম্মেলনে এ ব্যাপারে উন্নত বিশ্বের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

তিনি বলেন, প্যারিসে অভিযোজনের পরিকল্পনা, কীভাবে অর্থায়ন হবে, মধ্য মেয়াদে ও দীর্ঘমেয়াদে অর্থায়ন কাঠামো, অ্যাডাপটেশন ফান্ড বোর্ড গঠনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এলোমেলো আলোচনা চলছে। দু-একদিনের মধ্যে আলোচনায় একটা সমঝোতা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

ঢাকাসহ আশপাশের অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ

উপকূলীয় ৯ জেলায় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত

আজ থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ

রাইট লাইভলিহুড এওয়ার্ড পেল পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ

বিশ্ব নদী দিবস আজ

রবিবার থেকে দেশে বৃষ্টিপাত বাড়বে

বিশ্বের অনিরাপদ নগরীর তালিকায় পঞ্চম ঢাকা

তাপমাত্রা স্বাভাবিক, হালকা-মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে

সর্বশেষ খবর

নাগরিকত্ব আইনের উত্তাপ এবার ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়ে

এগিয়ে গেল ওয়েস্টইন্ডিজ

মহান বিজয় দিবস আজ

ধর্ষণের পর হত্যায় অভিযুক্ত যুবক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত