শিক্ষা-শিক্ষাঙ্গন

রবিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০১৬ (১৮:৪২)

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ডেকে পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী

সপ্তম দিনে পৌঁছালো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের আন্দোলন

শিক্ষকদের আন্দোলন

কর্মবিরতির সপ্তমদিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা কাটাতে শিক্ষক সমিতির নেতাদের ডেকে পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় গণভবনে তাদের এ সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্দোলন:

অষ্টম বেতন কাঠামোয় অসঙ্গতি দূরের দাবিতে টানা ৭ম দিন রোববারের মতো কর্মবিরতি পালন করছেন দেশের ৩৭টি সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকরা। বন্ধ রয়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সব ক্লাস।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস বর্জনের পাশাপাশি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরীক্ষাও হচ্ছে না— মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে কীভাবে সমস্যার সমাধান করা যায় তা নিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন আজ নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসেছে।

মর্যাদা ও বেতন প্রশ্নে লাগাতার কর্মবিরতির আন্দোলনে এক সপ্তাহ পার করছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

গত ১১ জানুয়ারি থেকে দেশের ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা লাগাতার কর্মবিরতি পালন করে আসছেন।

অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোতে সিলেকশন গ্রেড বাতিল করায় শিক্ষকদের উচ্চতর পর্যায়ে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়, যা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে।

এদিকে, পদন্নোতি- পদমর্যাদাসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতিতে সমর্থন জানিয়েছে সরকারি প্রকৌশলী, কৃষিবূদ, চিকিৎসক ও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারাও। নতুন বেতন কাঠামোতে পদমর্যাদা, সিলেকশন গ্রেড বহাল ও বৈষম্য নিরসনের দাবিতে চলমান এ কর্মবিরতির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। সমস্যা সমাধানে তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইছেন তারা।

আন্দোলনের শুরু থেকে কথা:

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, আমরা ক্লাসে ফিরতে চাই, দাবি আজকে মেনে নেয়া হলে আজই ক্লাসে ফিরে যাবো।

কর্মবিরতি চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ড. মাকসুদ কামাল বলেন, আমাদের দাবি যৌক্তিক—এ যৌক্তিক দাবি মেনে নিলে আজই ক্লাসে ফিরে যাবো আমরা, আন্দোলন প্রত্যাহার করবো।

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে মঙ্গলবারের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছি।

তিনি আমাদেরকে জানিয়েছেন, অর্থমন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এটা সম্ভব হবে না।

তাহলে আমরা ধরে নেব আমাদের আন্দোলন যদি দির্ঘায়িত হয় কিংবা দাবি না মানা হয় তাহলে এর পেছনে অর্থমন্ত্রীর হাত আছে— শুধু অর্থের জন্য আমরা আন্দোলন করছি না, বিশ্ববিদ্যাল শিক্ষক হিসেবে যে মর্যাদা দরকার সেই মর্যাদার জন্য আমরা আন্দোলন করছি বলে জানান তিনি।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন-মর্যাদা নিয়ে বিদ্যমান সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানে আলোচনা এগোচ্ছে–জানান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের লাগাতার কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে বৈঠকে করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের নেতারা।

সচিবালয়ে বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, যেভাবেই হোক, সংকট সমাধান সুষ্ঠুভাবেই হবে।

ওইদিন শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, সংকট সমাধানে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে আলোচনা ও আন্দোলন একইসঙ্গে চলবে।

ফিরে দেখা আন্দোলন নিয়ে কিছু কথা:

বেতন বৈষম্য নিরসনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি পূরণ না হওয়ায় একযোগে সবকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করেছেন শিক্ষকরা।

এর আগে দাবি পূরণের জন্য ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারকে সময় বেধে দিয়েছিলেন শিক্ষকরা। তবে ওই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হওয়ায় গত ২ জানুয়ারি সাধারণ সভা করে শিক্ষকরা সোমবার থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয় 'কমপ্লিটলি শাটডাউন' করার ঘোষণা দেন।

শিক্ষকদের দাবি আদায়ে ৩ জানুয়ারি শিক্ষকরা কালো ব্যাজ পরে ক্লাসে যান এবং ৭ জানুয়ারি বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তিন ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

এর আগে শিক্ষকদের বিরোধিতার মধ্যে সরকার গত ১৫ ডিসেম্বর অষ্টম বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশ করে।

অষ্টম বেতন কাঠামো ঘোষণার পর থেকেই গ্রেডে মর্যাদার অবনমন এবং টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিলের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষকরা।

এরপর সরকার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের এই দাবি পর্যালোচনায় কমিটি করে। কমিটির সভাপতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠকও করেন।

গত ৬ ডিসেম্বর বৈঠকে অর্থমন্ত্রী শিক্ষকদের তিনটি দাবি মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও ১০ দিন পর বেতন কাঠামোর গেজেটে প্রথম দুটি দাবির প্রতিফলন ঘটেনি বলে শিক্ষকদের অভিযোগ।

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষক গ্রেপ্তার

ঢাবি অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীনকে ছাত্রলীগ নেত্রীদের মারধর

ঢাবিতে দ্বিতীয় দিনের মত চলছে আন্দোলন

পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষার ফল আজ

জেএসসি-পিইসি পরীক্ষার ফল ৩১ ডিসেম্বর

ডাকসুতে নুরদের ওপর হামলার ঘটনায় ৪৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ডাকসু ভবনে হামলা : লাইফ সাপোর্টে ফারাবী

ডাকসুর গেট বন্ধ করে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের হামলা, রক্তাক্ত ভিপি নুরসহ ৬ জন

সর্বশেষ খবর

ইসি চাইলে ভোট পেছাতে পারে: কাদের

ভোলার দুর্গম চরের বিদ্যালয়ে ই-এডুকেশন সেবা উদ্বোধন করলেন জয়

টিএসসিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ, নির্বাচন পেছানোর দাবি

সোলাইমানি হত্যার পর ইসরাইলে প্রথম রকেট হামলা