অর্থনীতি

মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৪ (১৬:২১)

চেক চুরির ঘটনায় তদন্ত কমিটি, সোনালী কর্মকর্তা বরখাস্ত

সোনালী ব্যাংক

সোনালী ব্যাংকের লালমাটিয়া শাখায় অর্ধশতাধিক চেক খোয়া যাওয়ার ঘটনায় এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ।

সোনালী ব্যাংকের রমনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, গত রোববার দুপুরে ব্যাংকের ক্লিয়ারিং সেকশনের ড্রয়ার থেকে চেক চুরির ঘটনায় কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে লালমাটিয়া শাখার সিনিয়ার অফিসার ফরিদা বেগমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

হলমার্কের ঋণ কেলেঙ্কারি এবং বিভিন্ন স্থানে সুড়ঙ্গ কেটে টাকা চুরির ঘটনায় সোনালী ব্যাংকের অনিয়ম ও নিরাপত্তার ত্রুটির বিষয়টি গত দুই বছর ধরে বার বার আলোচনায় আসার পরও তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না।

এছাড়া রমনা প্রিন্সিপাল অফিসের এজিএম মুশফিকুর রহমানের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে, যার সদস্যরা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট শাখায় গিয়ে কাজ শুরু করেছেন বলে কামরুজ্জামান জানান।

চেক চুরির ঘটনায় রাষ্ট্রায়ত্ত সর্ববৃহৎ এই বাণিজ্যিক ব্যাংকের তরফ থেকে সোমবার মোহাম্মদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। ব্যাংকের সিসি ক্যামেরার ফুটেজও পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মোহাম্মাদপুর থানার ওসি আজিজুল হক জানান ,এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এসব চেক অন্য ব্যাংক বা সোনালী ব্যাংকেরই অন্য শাখা থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য জমা দেন। সব মিলিয়ে এসব চেকের টাকার অঙ্ক হবে কোটি টাকার মতো।

শাখা ব্যবস্থাপক রেজাউল করিম খান অবশ্য দাবি করেন, চেকগুলোতে সর্বোচ্চ ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার হতে পারে। তবে শাখার কাছে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট হিসেব নেই বলেও তিনি স্বীকার করেন।

জানা গেছে, হারানো চেকগুলোর মধ্যে কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের বেতনের চেকও রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বেতন হয় ওই শাখার একাউন্টে। ২৬ অক্টোবর সরকারি অফিস থেকে বেতনের চেক এসেছে। কিন্তু তা হারিয়ে যাওয়ায় ডুপ্লিকেট না পাওয়া পর্যন্ত ওইসব প্রতিষ্ঠানের বেতন জমা হচ্ছে না।

এছাড়া পাটকল কর্পোরেশনের টেন্ডারে অংশ নেওয়া ঠিকাদারদের পে-অর্ডারও এর মধ্যে ছিল বলে ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান।

মো. কামরুজ্জামান বলেন, ৫০ থেকে ৫৫টি চেক হারানো গেছে। এর মধ্যে ৪০টি চেকের ইরফরমেশন আছে। বাকিগুলো লেজারে তোলার আগেই চুরি গেছে।

জানা গেছে, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সাধারণ ডায়েরি করার আগেই হারানো চেক ভাঙিয়ে নেয়ার চেষ্টা হয়েছে। রোববার চুরি যাওয়ার পরপরই রাজধানীর গুলশানে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের লালমাটিয়া শাখায় হারিয়ে যাওয়া একটি চেক জমা দিয়ে টাকা তোলার চেষ্টা হয় বলে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান।

এর আগে ফ্যানফোল্ড ভাউচার জালিয়াতি করে সোনালী ব্যাংকের ঢাকার মিরপুর শাখা থেকে ১৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় একটি চক্র, যা আর ব্যাংক উদ্ধার করতে পারেনি।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে ধরা পড়ে, সোনালী ব্যাংকের শিল্প মন্ত্রণালয় শাখার জাহিদুল ইসলাম নামে এক কর্মকর্তা ভুয়া হিসাব খুলে বিভিন্ন গ্রাহকের একাউন্ট থেকে ও ব্যাংকের হিসাব থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের চিঠি দিয়ে এ ধরনের কর্মকর্তাদের সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল।

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার অনুরোধ বিজিএমইএর

জুন পর্যন্ত ক্রেডিট কার্ডে জরিমানা নয়

করোনার মধ্যেও বাংলাদেশের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির আশা এডিবির

১১ এপ্রিল পর্যন্ত শেয়ারবাজার বন্ধ

আজ থেকে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া সব ঋণের এক অঙ্কের সুদহার

ইইউভুক্ত দেশসমূহে জিএসপি সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব খারিজ

আজ থেকে সীমিত সময়ের জন্য ব্যাংক চালু

বিশ্ব অর্থনীতি চাঙ্গা করতে সহায়তার ঘোষণা দিল জি-২০

সর্বশেষ খবর

মানুষ ঘরে না থাকলে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়

কাশ্মীর সীমান্তে সংঘর্ষে ৫ ভারতীয় সেনা নিহত

মুসল্লিদের ঘরে নামাজ পড়ার নির্দেশ

ফার্মেসি ছাড়া সন্ধ্যার পর সব দোকান-বাজার বন্ধ