সংস্কৃতি-বিনোদন

বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ (১৮:৫৩)

সুরকার-সংগীত পরিচালক আলী আকবর রুপু না ফেরার দেশে

আলী আকবর রুপু

দেশের বরেণ্য সুরকার ও সংগীত পরিচালক আলী আকবর রুপু না ফেরার দেশে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

আলী আকবর রুপুর স্ত্রী নারগিস আকবর জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ও কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। সাত মাস ধরে তার কিডনির ডায়ালাইসিস করা হয়। চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি কিডনির ডায়ালাইসিস করার সময় তার স্ট্রোক হয়।

রুপুর মরদেহ গুলশানের আজাদ মসজিদে বাদ আসরের পর তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তার কর্মস্থল টিভি চ্যানেল বাংলাভিশন কার্যালয়ে। এরপর মরদেহ নেয়া হয় বাসায় (বড় মগবাজারের ডাক্তারের গলিতে)। সেখানে তার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হবে।

প্রায় দুই যুগ ধরে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র অসংখ্য গানের সুর করছিলেন তিনি। উপহার দিয়েছেন অনেক শ্রোতাপ্রিয় গান।

রুপুর উল্লেখযোগ্য গানের তালিকা- সাবিনা ইয়াসমিনের ‘প্রতিটি শিশুর মুখে হাসি’, এন্ড্রু কিশোরের ‘পদ্ম পাতার পানি নয়’, মুরাদের ‘আমি আগের ঠিকানায় আছি’ প্রভৃতি।

আলী আকবর রুপুর সুর ও সংগীত পরিচালনায় অসংখ্য গান জনপ্রিয় হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কুমার বিশ্বজিতের গাওয়া ‘একদিন কান্নার রোল পড়বে আমার বাড়িতে’, ‘যারে ঘর দিলা সংসার দিলা রে’, ‘দস্যু যেমন মুখোশ পরে প্রবেশ করে ঘরে’, ‘দরদিয়া’, ‘এ অনিশ্চয়তা’, ‘এ পশলা বৃষ্টি’। এন্ড্রু কিশোরের গাওয়া ‘পদ্মপাতার পানি নয়’, শাকিলা শর্মার ‘তোমাকে দেখলেই মৌনতা ভুলে যাই’, সাবিনা ইয়াসমিন, কনক চাঁপা ও সামিনা চৌধুরীর ‘সব চাওয়া কাছে পাওয়া’, সাবিনা ইয়াসমীনের ‘প্রতিটি শিশুর মুখ’, নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর ‘কবিতার মতো মেয়েটি, গল্পের মতো ছেলেটি’, ‘সামিনা চৌধুরীর ‘জানতে চেয়ো না কোন সে বেদনাতে’, দিনাত জাহান মুন্নীর ‘পুরোনো কাপড়ের মতো আমি আজ অবহেলিত’, মৌটুসীর ‘বারে বারে পোড়া বাঁশি এত রাতে আর ডেকো না’। তিনটি টিভি চ্যানেলের উদ্বোধনী সংগীত তৈরি করেছেন তিনি। গানগুলো হলো একুশে টিভির ‘নব শতকের সম্ভাবনার দিনে’, এনটিভির ‘বাংলাদেশর বিজয়ের আলো জ্বেলে’ আর এটিএন বাংলার ‘দিনরাত এটিএন এশিয়া ইউরোপে’।

জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে আলী আকবর রুপু প্রায় ২৫ বছর ধরে বিভিন্ন গানের সুর ও কম্পোজ করেছেন। ১৯৮২ সালের দিকে ‘উচ্চারণ’ ব্যান্ডে কিছুদিন গিটার ও কি-বোর্ড বাজিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে উচ্চারণ ছেড়ে দেন। তারপর ‘উইন্ডস’ নামে একটি ব্যান্ড গঠন করেছিলেন। অবশ্য তাঁর পরিচয় মূলত গীতিকার ও সুরকার হিসেবে। নিজ কণ্ঠে গেয়েছেন হাতে গোনা কয়েকটি গান। দেশের স্বনামধন্য শিল্পীদের প্রায় সবাই তাঁর সুর করা গানে কণ্ঠ দিয়েছেন।

১৯৮৪ সালে মালেক আফসারী পরিচালিত ‘রাস্তার ছেলে’ ছবিতে গান করেছেন বিখ্যাত এ সুরকার। মাত্র ছয়টি চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন তিনি। আব্দুল্লাহ আল মামুনের ‘দুই বেয়াইর কীর্তি’ তার সংগীত পরিচালনায় সর্বশেষ চলচ্চিত্র।

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

ঔপন্যাসিক রিজিয়া রহমান আর নেই

প্রসেনজিতের সঙ্গে জয়া আহসান

এসএম সুলতানের ৯৫তম জন্মবার্ষিকী আজ

ডেঙ্গু আক্রান্ত চিত্রনায়ক আলমগীর

কবি সুফিয়া কামালের ১০৯তম জন্মদিন আজ

লাকী আখন্দের জন্মদিনে গুগলে ডুডল

জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের ১২০তম জন্মবার্ষিকী আজ

নজরুল সঙ্গীত শিল্পী খালিদ হোসেন আর নেই

সর্বশেষ খবর

হংকংয়ের বিক্ষোভ নিয়ে অপপ্রচার, ২১০ ইউটিউব চ্যানেল বন্ধ

যাত্রাবাড়ীতে মোটরসাইকেলে বাসের ধাক্কায় বাবা নিহত, ছেলে আহত

আজ শুভ জন্মাষ্টমী

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা