সংস্কৃতি-বিনোদন

রবিবার, ২১ মে, ২০১৭ (১৫:৩৯)

আবদুল্লাহ খালিদের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন

আবদুল্লাহ খালিদের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের ভাস্করয অপরাজেয় বাংলা-র ভাস্কর সৈয়দ আব্দুলাহ খালিদের প্রতি সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে। চারুকলা অনুষদ ও তার অমর সৃষ্টি অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে দুই দফা শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এই ভাস্কর্য ও চিত্রশিল্পীর প্রতি।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে যোহর নামাজের পর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তাকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবি কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে।

প্রখ্যাত ভাস্কর সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদের মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে নেয়া হয়েছে। সেখানে শিল্পিকে শ্রদ্ধা জাননো শেষে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য নেয়া হয় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে।

শনিবার রাত পৌনে ১২টায় রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ। দীর্ঘদিন ধরে ডায়বেটিস, শ্বাসকষ্ট ও ফসফুসের জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। গত ১০ মে থেকে বারডেম হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ— এক নামেই যাকে সবাই চেনে ‘অপরাজেয় বাংলা’র ভাস্কর হিসেবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করা কালীন, ১৯৭২ সালে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অন্যতম প্রতীকে পরিণত হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে এই ভাস্কর্যটি তৈরি করেন তিনি। এরপর একে একে নির্মাণ করেছেন 'আবহমান বাংলা', 'টেরাকোটা', 'অঙ্কুর', 'অঙ্গীকার', 'ডলফিন' এবং 'মা ও শিশু'।

তার গৌরবজনক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৪ সালে তিনি পান শিল্পকলা পদক এবং ২০১৭ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন।

সিলেট জেলা শহরে গত শতকের ৪০ এর দশকে জন্ম প্রখ্যাত ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদের। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান কলেজ অব আর্টস অ্যান্ড ক্রাফ্টস, বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে চিত্রাঙ্কন বিষয়ে স্নাতক এবং পরে ১৯৭৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিত্রাঙ্কন ও ভাস্কর্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য বিভাগে শিক্ষকতা দিয়ে আব্দুল্লাহ খালিদের কর্মজীবন শুরু। ১৯৭২ সালে সেখানে প্রভাষক থাকাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসুর উদ্যোগে কলাভবনের সামনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মারক 'অপরাজেয় বাংলা' নির্মাণের দায়িত্ব পান।

পরের বছরই নকশার কাজ শুরু করেন এই ভাস্কর শিল্পী। পচাত্তরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর মৌলবাদীদের বিরোধিতার কারণে এর নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৯৭৯ সালে আবারো ভাস্কর্যটি নির্মাণ শুরু করেন। ওই বছর ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধন হয় 'অপরাজেয় বাংলা'র।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের ইতিহাস উঠে এসেছে এই ভাস্কর্যে। স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রতীকে পরিণত হওয়া ভাস্কর্যটি তিলে তিলে গড়েছেন আব্দুল্লাহ খালিদ। তবে ভাস্করের নামখচিত কোনো শিলালিপি নেই ভাস্কর্যে।

তার তৈরি ভাস্কর্যের মধ্যে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশন কেন্দ্রের সামনের ম্যুরাল 'আবহমান বাংলা' এবং ১৯৯৫-৯৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনের 'টেরাকোটা'ও তার অনন্য কীর্তি। আব্দুল্লাহ খালিদের উল্লেখযোগ্য আরো কিছু কাজ-অঙ্কুর, অঙ্গীকার, ডলফিন এবং মা ও শিশু।

শিল্পকলা ও ভাস্কর্যের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৪ সালে তিনি পান শিল্পকলা পদক এবং ২০১৭ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন এ শিল্পী।

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

নায়করাজের ৭৯তম জন্মবার্ষিকী আজ

ইশরাত নিশাত আর নেই

কবি নজরুলের পুত্রবধূ উমা কাজী আর নেই

সেলিম আল দীনের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

অমিতাভ বচ্চন ফের অসুস্থ

আবারো হাসপাতালে এটিএম শামসুজ্জামান

সবার জন্য উন্মুক্ত কনসার্ট ফর ডিজিটাল বাংলাদেশ

চলচ্চিত্র বিকাশে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে

সর্বশেষ খবর

আগুনে পুড়ে একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু

আফগানিস্তানে ৮৩ আরোহীসহ বিমান বিধ্বস্ত

বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার তিন স্কুলছাত্রী, আটক ২

দেশে এখনো করোনা ভাইরাস আসেনি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী