বিনোদন

‘তুমি রবে নিরবে’

হুমায়ূন আহমেদ
হুমায়ূন আহমেদ

দেশবরেণ্য লেখক, জননন্দিত ঔপন্যাসিক এবং চলচ্চিত্র ও নাট্যনির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। দীর্ঘ ১০ মাস ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করার পর ২০১২ সালের এই দিনে মৃত্যু বরণ করেন বাংলা সাহিত্যের এই কিংবদন্তি।

৬৪ বছরের জীবনে ৪০ বছরই তিনি বিচরণ করেছেন সাহিত্যের বিচিত্র জগতে। চলে গেলেও নিজের অজস্র সৃষ্টির মধ্যে দিয়েই মানুষের মাঝে চিরদিন বেঁচে থাকবেন হুমায়ূন আহমেদ।

একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোট গল্পকার, নাট্যকার ও চলচ্চিত্রকার হিসেবে সমাদৃত বহুমাত্রিক এ সৃজনশীল এই মানুষটির জন্ম ১৯৪৮ সালে ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কুতুবপুর গ্রামে। ডাক নাম কাজল।

সত্তরের দশকে ছাত্র বয়সেই হুমায়ুন আহমেদের লেখালেখির শুরু। প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ দিয়ে সাহিত্যের জগতে তার আত্মপ্রকাশ। প্রথম লেখাতেই জয় করে নেয় পাঠকের মন, এরপর আর থেমে থাকেননি লিখে গেছেন আমৃত্যু। লিখেছেন ২০০ বেশি উপন্যাস আর গল্প।

শঙ্খনীল কারাগার, এইসব দিনরাত্রি, সৌরভ, অপেক্ষা, কবি- তার সব রচনার সহজ-সরল কথকতা আর অনুভূতি ছুঁয়ে যাওয়া বর্ণনা পাঠককে করেছে মন্ত্রমুগ্ধ। মিসির আলী আর হিমুর মতো চরিত্র সৃষ্টি করে লজিক আর এন্টিলজিকের দোলাচলে মাতিয়েছেন পাঠককে।

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখেছেন জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প, ১৯৭১, সূর্যের দিন, শ্যামল ছায়ার মতো বইগুলি, যা ফিরিয়ে নিয়ে যায় উত্তাল সেই দিনগুলোতে।

১৯৮১ সালে পান বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার। পেয়েছেন আরো ৭টি পুরস্কার।

নাট্যকার হিসেবে তার হাতেখড়ি বিটিভিতে প্রথম ধারাবাহিক নাটক এইসব দিনরাত্রির মধ্য দিয়ে। টিভি নাটকের গতানুগতিক ধারা বদলে দেন তিনি। বহুব্রীহি, অয়োময়, কোথাও কেউ নেই-এর মতো ধারাবাহিকগুলো তাকে অসামান্য খ্যাতি এনে দেয়।

৯০ এর দশকে চলচ্চিত্র জগতে তার প্রবেশ। সেখানেও রেখে যান খ্যাতির স্মাক্ষর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপনা পেশা ছেড়ে পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করেন সৃজনশীল কাজে। হুমায়ুন স্বাধীনতা পরবর্তী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন ‘আগুনের পরশমনি’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে। জিতে নেন একুশে পদকসহ ৮টি শাখায় জাতীয় পুরস্কার। তারপর একে একে নির্মাণ করেন ১৩টি চলচ্চিত্র।

ইতিহাসের নানা সময়ও উঠে এসেছে তার লেখনিতে। উতল হাওয়া, মধ্যাহ্ন, বাদশাহ নামদারের মতো উপন্যাসে ঐতিহাসিক চরিত্রগুলোর পাশাপাশি উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের কথাও।

১০ মাস ক্যান্সার নামের মারণব্যাধির সঙ্গে লড়ে শেষপর্যন্ত ২০১২ সালের ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের বেলভিউ হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন জননন্দিত এ লেখক।

দেশটিভি/টিআরটি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

দুর্গম চরে মৌসুমী

সরে দাঁড়ালেন সুনেরাহ

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে বাচসাস’র নবনির্বাচিত কমিটির শ্রদ্ধা

মাসুম আজিজের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

ঢাকায় আসার অনুমতি পাননি নোরা ফাতেহি

অভিনেতা মাসুম আজিজ আর নেই

কবীর সুমন গাইবেন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে

দুই সিনেপ্লেক্সসহ ২৮ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলো ‘রাগী’

সর্বশেষ খবর

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ

এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

সিলেটে ভোক্তা অধিদপ্তর ও সিসিএস-এর সচেতনতামূলক সভা