সংস্কৃতি-বিনোদন

সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৫ (১৭:২৬)

দ্বার প্রান্তে বাংলা বঙ্গাব্দ ১৪২২

দ্বার প্রান্তে বাংলা বঙ্গাব্দ ১৪২২

মহাকালের সেই রথযাত্রায় আরেকটি বছর পার হয়ে আবার বাংলার আগমন বঙ্গাব্দ ১৪২২। বাংলা বর্ষ। পহেলা বৈশাখ, নতুন বছরের পরিক্রমা শুরু হলো বাঙালির নিজস্ব বর্ষপঞ্জিতে। বৈশাখী উৎসব। নানা আয়োজনে এ উৎসব পালন করে বাংলা ভাষাভাষীরা—পরিণত হয় এক প্রাণের মিলন মেলায়।

রাজধানীসহ সারাদেশের নানা বয়সী মানুষ সাড়ম্বরে উৎসবের আনন্দে মেতে উঠেন। পোশাক-পরিচ্ছদ, খাওয়া-দাওয়া, গানবাদ্য— সবকিছুই আজ বাঙালিয়ানা।

মঙ্গলবার ভোর থেকে শুরু হয় রমনার বটমূলে ছায়ানটের প্রভাতি গানের আসর। শুরু হয় চারুকলায় মঙ্গল শোভাযাত্রা। রবীন্দ্রসরোবরে গানের আসর, বাংলা একাডেমিতে বৈশাখী মেলা। শহরজুড়ে আরো নানা আয়োজন। নবীন গ্রীষ্মের প্রখর তাপ উপেক্ষা করে পথে পথে ঘুরে, কখনো বা রমনা-সোহরাওয়ার্দী-বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গাছতলায় বসে তুমুল আড্ডায় মেতে উঠে উৎসবের বেলা।

সেই উৎসবের বাংলা সনের প্রবর্তন কবে হয়েছিল, কে তার প্রবর্তক, তা নিয়ে পণ্ডিতমহলে আছে নানা বিতর্ক। বেশির ভাগ মানুষেরই জানে মোগল সম্রাট আকবর এর প্রবর্তক। এ মহাপুরুষ ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে, হিজরি ৯৬৩ সালে যে ‘তরিক-ই-ইলাহি’ নামের নতুন সনের প্রবর্তন করেছিলেন দিল্লিতে আর তখন থেকেই আঞ্চলিক পর্যায়ে বাংলা সনের গণনা শুরু হয়েছিল।

তবে রাজা শশাঙ্ক, সুলতান হোসেন শাহ ও তিব্বতের রাজ স্রংসনকেও বাংলা সনের প্রবর্তক বলে মনে করেন কেউ কেউ। ‘সন’ শব্দটি আরবি এবং ‘সাল’ শব্দটি ফারসি। এই শব্দ দুটির কারণে বাংলা সন বা সাল মুসলিম শাসকদেরই প্রবর্তিত বলে পণ্ডিতেরা মনে করেছেন।

বৈদিক যুগে অঘ্রহায়নকে বছরের প্রথম মাস বলে গণ্য করা হতো। তবে এ অঞ্চলের চাষাবাদের সঙ্গে মিলিয়ে খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে ফসলি সন হিসেবে বৈশাখকেই বছরের প্রথম মাস ধরে বাংলা সনের গণনা শুরু হয়েছিল।

সুবাদার মুর্শিদ কুলি খানের সময়ে বৈশাখ মাসের শুরুতে খাজনা আদায়কে কেন্দ্র করে পয়লা বৈশাখে এক ধরনের আর্থসামাজিক আনন্দ-উৎসবের সূচনা হয় গবেষকদের মতে।

পুণ্যাহ অনুসরণে অচিরেই আরো একটি অনুষ্ঠানের সংযোগ ঘটে পয়লা বৈশাখে আর সেটি হালখাতা। ব্যবসায়ীরা এর আয়োজন করতেন এখনো হয়ে থাকে।

সাংবাৎসরিক যারা বাকিতে কেনাকাটা করতেন তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এসময় মিষ্টির রাখা হয় বাকি দিতে আসা অতিথিদের জন্য। পুরাতন বছরেই দোকানঘরটি ধুয়েমুছে করা হয় ঝকঝকে। ছিটানো হয় পঞ্চবটীর পাতা ভেজানো পবিত্র জল। আপ্যায়ন শেষে পুরোনো বাকি শোধ করে খাতকেরা আগামও কিছু জমা করে যেতেন নতুন খাতায়। পুণ্যাহ ও হালখাতা ছিল মূলত অর্থনীতি নির্ভর অনুষ্ঠান। ১৯৫০ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে পুণ্যাহ আয়োজন বন্ধ হয়ে যায় এবং হালখাতাও তার জৌলুশ হারাতে থাকে।

সরকারি ছুটি থাকে দিনটিতে। পত্রপত্রিকাগুলো নববর্ষ উপলক্ষে প্রকাশ করে বিশেষ সংখ্যা। বেতার ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সম্প্রচার করছে বিশেষ অনুষ্ঠান।

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

এই মনগড়া তদন্ত মানি না, বললেন সালমান শাহর মা

সালমান শাহ’র আত্মহত্যার পাঁচ কারণ

বিয়ে করলেন চিত্রনায়িকা রোদেলা জান্নাত ও মডেল খালেদ

কমল হাসানের সিনেমার শুটিংয়ে ক্রেন ভেঙে ৩ সহকারী পরিচালক নিহত

না ফেরার দেশে অভিনেতা তাপস পাল

কনসার্টে কণ্ঠস্বর হারিয়ে কাঁদলেন এলটন জন! (ভিডিও)

কবি নির্মলেন্দু গুণ আইসিইউতে

কিংবদন্তি ফরীদির মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সর্বশেষ খবর

চীনের বাইরে যে দেশগুলোতে ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস

এই মনগড়া তদন্ত মানি না, বললেন সালমান শাহর মা

সব ঋণে ৯ শতাংশ সুদ

ইতালিতে করোনা পরীক্ষা হবে মেসিদের