বিনোদন

বিদায়ের ভেলায় কাইয়ূম

 কাইয়ুম চৌধুরী
কাইয়ুম চৌধুরী

বরেণ্য শিল্পী কাইয়ূম চৌধুরী। তেল রঙ, জল রঙ, কালি-কলম, মোমরং, রেশমছাপ ইত্যাদি নানা মাধ্যমে কাজ করেছিলেন তিনি। গুণি এই শিল্পী ছয় দশকের বেশি সময় ধরে শিল্পচর্চায় দেশের চারুকলার জগৎকে সমৃদ্ধ করেছেন। আপন সৃষ্টিশীলতায় আলোকিত করে চলেছেন শিল্পভূবন।

শুধু চিত্রশিল্পী হিসেবেই নয় প্রচ্ছদ শিল্পের সঙ্গেও জড়িয়ে ছিলেন অঙ্গাঅঙ্গিভাবে। তিনি তার শিল্প কর্মের স্বীকৃতি স্বরূপ নানা পদক ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

চিত্রশিল্পকে একান্ত আপন ভেবে এ বাংলার শিল্পান্দোলনের সূচনা থেকে জড়িয়ে আছেন এমনই একজন শিল্পী ছিলেন কাইয়ূম চৌধুরী। জীবনের ৮০ বছর পার করেছেন ছবি আঁকা আঁকি করেই। তার প্রতিটি চিত্রের গভীরেই যেন বাস করে প্রিয় স্বদেশ।

সুন্দর ও সৌন্দর্যবোধের সুবিশাল ভূমিতে উপস্থিত হলেই এক সুন্দর মনের মানুষে রূপান্তরিত হয় মানুষ। এ সার সত্যবোধের অনুভব থেকেই কাইয়ূম চৌধুরী তার শিল্প ভূবনকে সমৃদ্ধ করে ছিলেন।

১৯৩৪ সালের ৯ মার্চ ফেনীর এক জমিদার পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। বাবা আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী ছিলেন সমবায় ব্যাংকের কর্মকর্তা। তার হাতে খড়ি মক্তবে হলেও পরে ভর্তি হন চট্টগ্রামের এক স্কুলে। সরকারি চাকুরে বাবার বদৌলতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কেটেছে তার জীবন। ১৯৪৯ সালে ময়মনসিংহের সিটি কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন তিনি। তখন তার বয়স মাত্র কুড়ি।

পরে, ১৯৫৪ সালে ঢাকা আর্ট কলেজ থেকে ফাইন আর্টসে ডিগ্রি নেন বরেণ্য এই শিল্পী। ঐ বছরই একটি আর্ট ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন তিনি।

১৯৫৫ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত কাইয়ূম চৌধুরী নানা ধরনের ব্যবহারিক কাজ করেছেন। তেল রঙ, জল রঙ, কালি-কলম, মোমরং, রেশমছাপ ইত্যাদি নানা মাধ্যমে বিচরণ ছিল তাঁর। বিজ্ঞাপনী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন, আর বইয়ের প্রচ্ছদ ও সচিত্রকরণের কাজও করেছেন। ১৯৫৬ সালে সহ শিল্পী মোরতোজা বশির ও সৈয়দ জাহাঙ্গীরকে নিয়ে গড়ে তুলেন পেইনটার্স ইউনিট। পরে, ১৯৫৭ সালে তিনি একটি আর্ট কলেজে শিক্ষকতায় যোগ দেন।

১৯৬০ সালে তাহার খাতুনের সঙ্গে পরিনয় বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। ঐ বছরই আর্ট কলেজ ছেড়ে কামরুল হাসানের নেতৃত্বে তিনি যোগ দেন নবগঠিত ডিজাইন সেন্টারে। ১৯৬১ সালে ওবর্জাভার হাউজে চিফ আর্টিস হিসেবে যোগ দেন তিনি।

কাইয়ূম চৌধুরী ১৯৮৬ সালে একুশে পদক লাভ করেন। ২০১০ সালে সুফিয়া কামাল পদক ও ২০১৪ সালে তিনি শহীদ মাহমুদ পদকে ভূষিত হন গুণী এ শিল্পী। এছাড়াও, পেয়েছেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পদক।

এছাড়া ১৯৭৫ সালে ন্যাশনাল বুক সেন্টারের বইয়ের নকশার জন্য স্বর্ণপদক পান তিনি। সেরা প্রচ্ছদের জন্য ১৯৮৮, ৮২, ৮১, ৭৯, ৭৮, ৭৫, ৭০, ৬৬, ৬৪ ও ৬৩ সালে প্রথম পুরস্কার পান তিনি।

১৯৫৯ এবং ১৯৬১ সালে রেলওয়ে টাইমটেবিলের প্রচ্ছদ এঁকে সেরা পুরস্কারটি লাভ করেন কাইয়ুম চৌধুরী।

দেশটিভি/টিআরটি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

দুর্গম চরে মৌসুমী

সরে দাঁড়ালেন সুনেরাহ

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে বাচসাস’র নবনির্বাচিত কমিটির শ্রদ্ধা

মাসুম আজিজের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

ঢাকায় আসার অনুমতি পাননি নোরা ফাতেহি

অভিনেতা মাসুম আজিজ আর নেই

কবীর সুমন গাইবেন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে

দুই সিনেপ্লেক্সসহ ২৮ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলো ‘রাগী’

সর্বশেষ খবর

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ

এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত