আদালত

মঙ্গলবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৮ (১৯:০০)

আটকে গেল খালেদার নির্বাচনে অংশগ্রহণ

খালেদা জিয়া

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

মঙ্গলবার হাইকোর্টের এক আদেশের পর নিম্ন আদালতে সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার ভোটে অংশগ্রহণের পথ অনেকটাই আটকে গেল।

রায়ে বলা হয়েছে, দুই বছরের বেশি সাজা হলে ওই সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না যতক্ষণ না আপিলে ওই দণ্ড বাতিল বা স্থগিত হয়।

এ আদেশের পর শুধু খালেদা জিয়া নন, প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য হবেন সব দলের সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা। যাদের সাজা স্থগিত হয়নি।

সকালে নিম্ন আদালতে দুই বছরের বেশি সাজা হলে আপিলে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না বলে আদেশ দেয় হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের আদেশ:

আদালতের এ আদেশের ফলে দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেয়ার পথও আটকে গেল।

মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

বিচারকি আদালতের দেওয়া দণ্ড ও সাজা স্থগিত চেয়ে আমান উল্লাহ আমানসহ বিএনপির পাঁচ নেতার করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। এ আদেশের ফলে তারা আর একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।

আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কারও দুই বছরের বেশি সাজা বা দণ্ড হলে সেই দণ্ড বা সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপিল বিভাগ ওই রায় বাতিল বা স্থগিত করে তাকে জামিন দেয়।

দুর্নীতির মামলার রায়ে বিএনপি নেতা আমান উলাহ আমান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ওয়াদুদ ভূঁইয়া, মো. মশিউর রহমান ও মো. আব্দুল ওহাবের পক্ষে দণ্ড ও সাজা বাতিলের ওই আবেদন করা হয়েছিল।

আইনজীবীদের কথা:

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও তার অন্যতম আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্যই খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় দণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ড স্থগিত না হলে সংবিধান অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

এদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার প্রার্থী হওয়া–না হওয়ার বিষয়টি আদালতের ওপর নির্ভরশীল।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমসহ কয়েকজন আইনজ্ঞও বলেন, দণ্ডিত হওয়ায় খালেদা জিয়া এবারের সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। সংবিধান অনুযায়ী, দুই বছরের বেশি কেউ দণ্ডিত হলে তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা হারান।

বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক খালেদা জিয়ার আইনজীবী কায়সার কামাল বলেন, নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা এসব রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হচ্ছে।

আর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম বলেন, দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দিয়েছেন এখানে কোনো রাজনীতি নেই।

সংবিধান, বিভিন্ন রায় ও আইন:

সংবিধানের ৬৬ (২) গ অনুচ্ছেদ বলছে, কেউ নৈতিক স্খলনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ন্যূনতম দুই বছর কারাবাসে থেকে মুক্তির পর পাঁচ বছর পার না হলে তিনি নির্বাচনে যোগ্য হবেন না।

১৯৯৩ সালে জনতা টাওয়ার দুর্নীতির মামলায় বিচারিক আদালতে দণ্ডিত হওয়ার সাত বছরের মাথায় সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মাদ এরশাদ সংসদ সদস্য পদ হারান। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা করলে ২০০১ সালের ২১ মে বিচারপতি জয়নাল আবেদীন ও বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সংবিধানের ৬৬ (২) গ-তে উল্লেখিত কারাদণ্ডের ব্যাখ্যা দেন। বিচারপতি জয়নুল আবেদীন রায়ে বলেন, আপিল বিভাগের মাধ্যমে না বলা পর্যন্ত ‘দণ্ডিত হওয়া’ বোঝাবে । বিচারপতি খায়রুল হক রায়ে বলেন, বিচারিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ামাত্রই তিনি নির্বাচনে অযোগ্য হবেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিচারপ্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন এমন—একজন আইনজ্ঞ বলেন, দণ্ডিত হওয়ার পর আপিল করার মাধ্যমে একজন আসামি স্বীকার করে নেন, তিনি দণ্ডিত। সংবিধান অনুযায়ী, নৈতিক স্খলনের দায়ে দণ্ডিত হওয়ার পর আপিল করেই তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

বিচারপতি মোস্তাফা কামাল এক রায়ে বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরে দুটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ছাড়া আর কিছুতেই হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয় ।

খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তার প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি আদালতের ওপর নির্ভরশীল। সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি ইসির ওপর নির্ভরশীল। ইসির নেওয়া সিদ্ধান্তের বৈধতা রিটে পরীক্ষা না করতেও আপিল বিভাগের নির্দেশনা আছে। বৈধতা পরখ করতে চাইলে ভোটের পরে করতে হবে, ভোটের আগে নয়। তফসিলের পরে এগুলো নির্বাচনী বিরোধ হিসেবে বিবেচিত হবে। বিষয়টি দেখবেন নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল। হাইকোর্টের বিচারকদের নিয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনাল অনধিক ছয় মাসের মধ্যে রায় ঘোষণা করবে।

বিচারিক আদালতে দণ্ডিত হওয়ার পর আপিল করে সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকার নজির আছে। দুর্নীতির মামলায় ২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার একটি আদালত ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীকে ১৩ বছর কারাদণ্ড দেন। আর সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর সরকারদলীয় সংসদ আবদুর রহমান বদির তিন বছর কারাদণ্ড দেন ঢাকার একটি আদালত।

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, দুর্নীতির দুটি মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়া সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। কারণ, হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের দণ্ড বাতিল করেনি সাজা বাড়িয়েছে। দণ্ড বাতিল বা স্থগিত না হলে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকে না।

এরই মধ্যে দুদকের দায়ের করা দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ১০ ও ৭ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। আপিলে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড বেড়ে ১০ বছর এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিশেষ আদালতে ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি। গত ৮ ফেব্রুয়ারিতে রায়র ঘোষণা হওয়ার পর থেকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন তিনি।

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

১২ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার পরবর্তী জামিন শুনানি

আদালতে বিএনপির আইনজীবীদের হট্টগোল, এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতি

স্বাস্থ্যের ডিজিকে হাইকোর্টে তলব

দিয়া-রাজীবের মৃত্যু: বাস চালকসহ তিনজনের যাবজ্জীবন

খালেদার জামিন শুনানি ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুলতবি

যে সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো

হলি আর্টিজান হামলার রায় আজ, আদালত চত্বরে বিশেষ নিরাপত্তা

হলি আর্টিজান মামলায় ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড

সর্বশেষ খবর

আইপিএল নিলামে রয়েছেন বাংলাদেশের যে ৬ ক্রিকেটার

মৌরিতানিয়া উপকূলে নৌকা ডুবে ৫৮ শরণার্থীর মৃত্যু

লুটেরা ও আগুন সন্ত্রাসীরা যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশের জন্য ১০ হাজার হজ কোটা বাড়াল সৌদি আরব