খেলা

সোমবার, ০৩ জুন, ২০১৯ (১০:২০)

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের উড়ন্ত সূচনা

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের উড়ন্ত সূচনা

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে উড়ন্ত জয় দিয়ে ইংল্যান্ডে দ্বাদশ বিশ্বকাপ মিশন শুরু করলো বাংলাদেশ। কেনিংটন ওভালে দক্ষিণ আফ্রিাকে ২১ রানে হারিয়েছে টাইগাররা। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৩০ রানের বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। জবাবে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩০৯ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা।

কেনিংটন ওভালের রৌদ্রজ্জল আবহাওয়াতে টস ভাগ্যে জয় পাননি বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তাই দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফাফ ডু-প্লেসিসের সিদ্বান্তে প্রথমে ব্যাট হাতে নামতে হয় বাংলাদেশ। আমন্ত্রন সাদরে গ্রহণ করেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। ব্যাট হাতে নেমে বেশ দেখেশুনেই খেলতে থাকেন দু’জন। তাই প্রথম ৪ ওভারে ১৪ রান পায় বাংলাদেশ। এই ১৪ রানের মধ্যে মাত্র একটি বাউন্ডারি ছিলো টাইগারদের। তাও প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে।

তবে উইকেটের সাথে সেট হতে খুব বেশি সময় নেননি সৌম্য। পঞ্চম ওভারে ৩টি চারে নিজের আত্মবিশ্বাসী রুপ ফুটিয়ে তুলেন তিনি। সৌম্যকে দেখে নিজেকে গুটিয়ে রাখতে পারেননি অন্যপ্রান্তে থাকা তামিম। পরের ওভারে নিজের প্রথম বাউন্ডারি হাকান এই বাঁ-হাতি। এরপর আর থেমে থাকেনি বাংলাদেশের রান তোলার গতি। কারন মারমুখী মেজাজ দেখান সৌম্য। ৭ ওভারেই ৫০ রান পেয়ে যায় বাংলাদেশ।

তবে নবম ওভারে বাংলাদেশের উদ্বোধণী জুটিকে বিচ্ছিন্ন করে দেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার আন্দিল ফেলুকুয়াও। ২টি চারে ২৯ বলে ১৬ রান করা তামিমকে থামান ফেলুকুয়াও। কিছুক্ষন বাদে আউট হন সৌম্যও। দুর্দান্ত শুরু করা সৌম্য এবার হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নিতে ব্যর্থ হন। ৯টি চারে ৩০ বলে ৪২ রান করেন সৌম্য।

৭৫ রানের মধ্যে দুই ওপেনারের বিদায়ের পর বাংলাদেশের হাল ধরেন বাংলাদেশের তিন ও চার নম্বর ব্যাটসম্যান যথাক্রমে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। দু’জনের ব্যাটিং ভেল্কিতে লাইন-লেন্থহীন হয়ে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং। অবলীলায় বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডকে ভারী করতে থাকেন সাকিব-মুশফিক।

১৬ ওভারে ১০০, ২৪ ওভারে ১৫০ ও ৩২ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ২০০ রানে নিয়ে যান সাকিব-মুশফিক। ততক্ষনে দু’জনই তুলে নেন হাফ-সেঞ্চুরি। সাকিব ৪৩ ও মুশফিক ৩৪তম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন। দু’জনের ব্যাটিং নৈপুন্য আভাস দিচ্ছিলো- দু’টি সেঞ্চুরির। কিন্তু ৩৩তম ওভারে ভেঙ্গে যায় সাকিব-মুশফিক দুর্দান্ত জুটিটি। দক্ষিণ আফ্রিকার লেগ-স্পিনার ইমরান তাহির থামিয়ে দেন সাকিবকে। সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন সাকিব। ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় ৮৪ বলে ৭৫ রান করেন সাকিব। তৃতীয় উইকেটে ১৪১ বলে ১৪২ রান যোগ করেন সাকিব-মুশকিক।

সাকিব ব্যর্থ হলেও, মুশফিকের সেঞ্চুরি দেখার অপেক্ষায় ছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু তিনিও ব্যর্থ হন। ৮টি চারে ৮০ বলে ৭৮ রান করেন মুশি। মুশফিক ফিরে যাবার আগে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন পাঁচ নম্বরে নামা মোহাম্মদ মিথুন। মারমুখী মেজাজে শুরু করা মিথুন ২১ বলে করেন ২১ রান। তার ছোট্ট ইনিংসে ছিলে ২টি চার ও ১টি ছক্কা।

দলীয় ২৫০ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তখন ইনিংসের ৪৭ বল বাকী ছিলো। এ অবস্থায় বাংলাদেশের ক্রিকেপপ্রেমিদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছিলো, লাল-সবুজের দল কি- ৩শ রানের কোটা স্পর্শ করতে পারবে??

আর এটি নির্ভর করছিলো বাংলাদেশের মিডল-অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের উপর। ষষ্ঠ উইকেটে মোসাদ্দেক হোসেনকে নিয়ে ভয়ংকর রুপ নেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের উপর চড়াও হন দু’জন। ফলে ৪৮তম ওভারেই ৩শ রান পেয়ে যায় বাংলাদেশ। ৪৯তম ওভারের শেষ বলে আউট হন মোসাদ্দেক। মাহমুদুল্লাহ’র সাথে ষষ্ঠ উইকেটে মাত্র ৪১ বলে ৬৬ রান যোগ করেন আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ২৭ বলে অপরাজিত ৫২ রান করা মোসাদ্দেক। এবার মোসাদ্দেক করেন ২০ বলে ৪টি চারে ২৬ রান।

আট নম্বরে নামা মেহেদি হাসান মিরাজকে নিয়ে পরবর্তীতে ইনিংস শেষ করেন মাহমুদুল্লাহ। মাহমুদুল্লাহ’র ৩৩ বলে অপরাজিত ৪৬ রানের সুবাদে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৩০ রানের বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। মাহমুদুল্লাহর ইনিংসে ৩টি চার ও ১টি ছক্কা ছিলো। মিরাজ ৩ বলে ৫ রানে অপরাজিত থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ফেলুকুওয়াও-ক্রিস মরিস ও তাহির ২টি করে উইকেট নেন।

জয়ের জন্য ৩৩১ রানের টার্গেটে ভালো শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকাও। ৫৮ বল মোকাবেলা করে উদ্বোধনী জুটিতে ৪৯ রান জড়ো করেন প্রোটিয়া দুই ওপেনার কুইন্ট ডি কক ও আইডেন মার্করাম। বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেক-থ্রু এনে দেন দলের উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম। তার বুদ্ধিমত্তায় রান আউটের ফাঁেদ পড়েন ৩২ বলে ২৩ রান করা ডি কক।

এরপর ইনিংস মেরামতের কাজ করেন আরেক ওপেনার মার্করাম ও অধিনায়ক ডু-প্লেসিস। তাতে শতরানের কোটায় পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। বড় হতে থাকা জুটিটিকে দলীয় ১০২ রানে থামিয়ে দেন বাংলাদেশের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব। মার্করামকে ব্যক্তিগত ৪৫ রানে বোল্ড করেন তিনি। এই উইকেট নিয়ে ওয়ানডেতে ২৫০তম শিকার পূর্ণ করেন সাকিব। যার মাধ্যমে সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলে ৫ হাজার রানের পাশাপাশি ২৫০ উইকেট শিকারের বিশ্বরেকর্ড গড়েন সাকিব। আজ নিজের ১৯৯তম ম্যাচ খেলতে নামেন সাকিব।

মার্করামকে হারালেও, নিজের মারমুখী মেজাজ ধরে রাখা ডু-প্লেসিস ৪৪ বলে হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন। বাংলাদেশের স্পিনার মোসাদ্দেককে ছক্কা মেরে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করা ডু-প্লেসিস হাফ-সেঞ্চুরির পরও নিজের ইনিংস বড় করছিলেন। অন্যপ্রান্তে তাকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন ডেভিড মিলার। এ অবস্থায় ইনিংসের ২৭তম ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা শিবিরে আঘাত হানেন বাংলাদেশের স্পিনার মিরাজ। ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫৩ বলে ৬২ রান করা ডু-প্লেসিসকে বোল্ড করেন মিরাজ। খেলায় ফেরে বাংলাদেশ।

কিন্তু চতুর্থ উইকেটে জুটি গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আবারো খেলায় ফেরান মিলার ও পাঁচ নম্বরে নামা ভ্যান ডার ডুসেন। আস্কিং রেট বেড়ে যাওয়ায় দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন তারা। তাতে দু’শতে পৌছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ। এ অবস্থায় ম্যাচে ফিরতে ব্রেক-থ্রুর প্রয়োজন পড়ে বাংলাদেশের। আর সেই কাজটিই করেন বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। মারমুখী ব্যাটসম্যান মিলারকে বিদায় দেন ফিজ। পয়েন্টে মিরাজকে ক্যাচ দিয়ে ৩৮ রানে থেমে যান মিলার। ডুসেনের সাথে ৫১ বলে ৫৫ রানের জুটি গড়েন মিলার।

মিলার- ডুসেন জুটি ভেঙ্গে চাঙ্গা হয়ে উঠে বাংলাদেশ। সেই চাঙ্গাভাবটা বেশি প্রভাব ফেলে মিডিয়াম পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের উপর। উইকেটের সাথে দারুনভাবে সেট হয়ে যাওয়া ডুসেন ও সাত নম্বরে নামা ফেলুকুওয়াও’কে দলীয় ২৫২ রানের মধ্যে ফিরিয়ে দেন সাইফউদ্দিন। ডুসেন ৩৮ বলে ৪১ ও ফেলুকুওয়াও ৮ রান করে সাইফউদ্দিনের শিকার হন। এ অবস্থায় ৪ উইকেট হাতে নিয়ে ৪৩ বলে ৭৯ রান দরকার পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার। কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব পেয়েছিলেন স্বীকৃত ব্যাটসম্যান ডুমিনি ও বোলিং অলরাউন্ডার ক্রিস মরিস।

মারমখী মেজাজেই রান তুলছিলেন ডুমিনি ও মরিস। কিন্তু বেশি দূর এগোতে পারেননি তারা। ১০ বলে ১০ রান করা মরিসকে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ। অষ্টম ওভারে মরিসকে শিকারের পর, নিজের নবম ওভারের প্রথম বলে দক্ষিণ আফ্রিকার শেষ ভরসার ডুমিনির বিদায় নিশ্চিত করেন ফিজ। তাতে ২৮৭ রানে অষ্টম উইকেট হারায় প্রোটিয়ারা। পুরোপুরিভাবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রন নিয়ে নেয় বাংলাদেশ। ডুমিনি ৩৭ বলে ৪৫ রান করেন। শেষ পর্যন্ত পুরো ৫০ ওভার খেলে ৮ উইকেটে ৩০৯ রান করে ম্যাচ হারে দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর ৩টি ও সাইফউদ্দিন ২টি উইকেট নেন।

ফল : বাংলাদেশ ২১ রানে জয়ী।

ম্যাচ সেরা : সাকিব আল হাসান(বাংলাদেশ)।

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের সামনে আজ অস্ট্রেলিয়া

রের্কড গড়া ম্যাচ জিতেই পয়েন্টের শীর্ষে ইংল্যান্ড

সাকিবের সেঞ্চুরি ও লিটনের হাফ-সেঞ্চুরিতে দাপুটে জয় বাংলাদেশের

ত্রিদেশীয় সিরিজের সুখস্মৃতি উজ্জীবিত করছে বাংলাদেশকে

জয় দিয়ে কোপা আমেরিকা মিশন শুরু উরুগুয়ের

বিকেলে ভারতের বিপক্ষে লড়বে পাকিস্তান

তাহিরের স্পিন বিষে ১২৫ রানে গুটিয়ে গেল আফগানিস্তান

শ্রীলংকাকে ৮৭ রানে হারালো অস্ট্রেলিয়া

সর্বশেষ খবর

'পাবজি' খেলা হারাম, ফতোয়া ইন্দোনেশিয়ায়

কবি সুফিয়া কামালের ১০৯তম জন্মদিন আজ

কবি সুফিয়া কামালের জন্মদিনে গুগলের ডুডল

সোহেল তাজের ভাগ্নে সৌরভ ময়মনসিংহ থেকে উদ্ধার