বিশেষ প্রতিবেদন

বুধবার, ৩০ মে, ২০১৮ (১৪:২২)

পরিবার ও দলের সদিচ্ছার অভাবেই জিয়া হত্যা মামলা এগোয়নি

জিয়াউর রহমান

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী- বুধবার পালন করছে বিএনপি।

বিগত ১৯৮১ সালের এ দিনে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন তিনি। জিয়া হত্যার পর সেনা বিদ্রোহের বিচার হয়েছে কিন্তু ৩৭ বছরেও জিয়া হত্যাকাণ্ডের বিচার আর হয়নি।

১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম কতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু তদন্ত হয়নি। জিয়া হত্যার পর বিএনপি তিন তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও মামলার কোনো অগ্রগতি ছিল না। ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে মামলাটি পুনঃতদন্তের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু পাওয়া যায় নি ওই হত্যাকাণ্ডের আলামত, মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনসহ কোনো নথিপত্রই।

বিশ্লেষকদের ধারণা জিয়া পরিবার ও দলের সদিচ্ছার অভাবেই মামলার এ দশা। এর পেছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে বলেও তাদের অভিমত।

আনোয়ার হোসেনের রিপোর্ট।

রাষ্ট্রপতি থাকাকালে ১৯৮১ সালের ৩০ শে মে গভীর রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন জিয়াউর রহমান। এই বিদ্রোহের ঘটনা বিচারের জন্য গঠন করা হয় কোর্ট মার্শাল। ৩১ জনকে অভিযুক্ত করে 'চট্টগ্রাম সেনাবিদ্রোহ মামলা' নামে চট্টগ্রাম কারাগারের ভেতরে মাত্র ১৮ দিন চলে এ কোর্ট মার্শাল।

কোর্ট মার্শালের এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করা হলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়।

পরে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা হলে ১৯৮১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট আপিল খারিজ করে।

এরপর জিয়া হত্যার অভিযোগে ২৩ সেপ্টেম্বর দেশের বিভিন্ন কারাগারে ফাঁসি দেয়া হয় ১৩ জন সেনাকর্মকর্তাকে।

সেনা বিদ্রোহের বিচার হলেও ৩৭ বছরে বিচার হয়নি জিয়া হত্যার বিচার। ১৯৮১ সালের ১ জুন চট্টগ্রাম কতোয়ালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের দুই বছর পর ১৯৮৩ সালে ১০ এপ্রিল এটি বিচারের জন্য নথিভুক্ত হয়। কিন্তু বছরের পর বছর নানা টালবাহানায় তদন্ত আর হয়নি। ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকলেও মামলার কোনো আগ্রগতি হয়নি।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মামলা পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়। মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তরিত হয়। পরবর্তী সময়ে এর নথিপত্রের হদিস না পাওয়ায় মামলাটির কোনো অগ্রগতি আর হয়নি। থানা থেকে গায়েব হয়ে যায় মামলার সব নথিপত্র। এরপর এ বিষয় কিছুই করার নেই তা উপরের মহলে জানিয়ে পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।

জিয়া হত্যা মামলার মূল আসামি ছিলেন চট্টগ্রাম সেনানিবাসের তৎকালীন জিওসি জেনারেল আবুল মঞ্জুর। কিন্তু সেনানিবাসে তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হাওয়ার পরই মূলত চাপা পড়ে যায় জিয়া হত্যার নেপথ্য কাহিনী। তার হত্যা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও সেসব প্রশ্নের উত্তর আজও পাওয়া যায়নি। বর্তমানে তার হত্যা মামলটিও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এই হত্যা মামলার প্রধান আসামি তৎকালিন সেনা প্রধান হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদ।

৩৭ বছরেও জিয়া হত্যার বিচার কেন হয়নি। অনেকেরই ধারণা এর পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক কারণ।

ওই হত্যাকাণ্ডের আলামত, লাশের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনসহ সব নথিপত্র হারিয়ে যাওয়াও রহস্যজনক। জিয়া হত্যাকাণ্ডের পর বিএনপি তিন তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এলেও এ হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচারকাজ কেন এগোয়নি তার ব্যাখ্যা দেন দলের নেতা আহমেদ আযম খান।

জিয়া হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ইতিহাসের অনেক অধ্যায় জড়িত বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

তারা বলেন, জিয়া হত্যার পেছনের কুশিলবরা এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে। জিয়া পরিবার ও বিএনপিরও এই বিচারের ব্যাপারে সদিচ্ছার অভাব ছিল।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মতো জিয়া হত্যারও বিচার হওয়া উচিৎ বলে তারা মনে করেন।

 

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

ঈদে ফিটনেস বিহীন গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি

সহসাই মুক্তি পাচ্ছেন না খালেদা জিয়া

শান্তি চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়াই পার্বত্য অঞ্চলে অস্থিরতা

এবারও অর্জিত হচ্ছে না রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা

তারেককে ফেরানো কঠিন হবে আসামি প্রত্যার্পণ চুক্তি না থাকায়

কোটা বাতিলে সাংবিধানিকভাবে সমস্যা নেই, সংস্কারই শ্রেয়

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কার চান বিশ্লেষকেরা

সহায়ক বাণিজ্য পরিবেশ পেলে ব্যবসায়ীরা চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত

রাশিয়া বিশ্বকাপ: আজও রয়েছে ৩টি ম্যাচ

অদ্ভূত হেয়ারকাটের সমালোচনায় নেইমার

জোট থেকে বেরিয়ে গেল বিজেপি

দেশে প্রায় ২ লাখ ৬৮ হাজার একর বনভূমি বেদখলে: বনমন্ত্রী