জাতীয় নির্বাচন

চলছে রাজনৈতিক দরকষাকষি, নির্বাচন করতে পারবে না জামাত

মঙ্গলবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৭ (১৯:০৪)
জাতীয়-নির্বাচন-নিয়ে-চলছে-রাজনৈতিক-দরকষাকষি

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে চলছে রাজনৈতিক দরকষাকষি

আগামী জাতীয় নির্বাচন কীভাবে, কী অবস্থায় হবে তা নিয়ে চলছে রাজনৈতিক দরকষাকষি। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই প্রধান দলই চাচ্ছে নিজেদের মতো করে অনুকূল পরিবেশ।

এদিকে, নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নিয়ে বলতে গিয়ে চিহ্নিত জামাত নেতাদের নির্বাচন করতে না দিতে ইসির ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিস্থিতি কার অনকূলে যায় তা স্পষ্ট হবে আরো কয়েক মাস পর। বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন বছরের প্রথমার্ধেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তাদের ট্রাম্পকার্ডগুলো সামনে নিয়ে আসবে। আর চলতি মাসের শেষদিকে বিএনপি সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেয়ার পর রাজনৈতিক সমীকরণ আরো পরিস্কার হবে বলে মনে করছেন তারা। সব মিলিয়ে বড় দুই জোটকেই কিছু কিছু ছাড় দিতে হবে বলেই বিশ্লেষকদের ধারণা।

সরকারের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরই যে আগামী নির্বাচন হবে তা নিয়ে আর কোনো সংশয় নেই রাজনৈতিক মহলে। তবে সেই নির্বাচন কার অধীনে কিভাবে হবে তা নিয়ে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনীতির ময়দান।

নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন ইস্যুতে বড় দুটি রাজনৈতিক জোটের মধ্যে চলছে নানা দরকষাকষি। আরো কয়েক মাস পরে পরিস্থিতি বোঝা যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চলতি মাসের শেষেই সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেয়ার কথা বিএনপির।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রূপরেখা প্রকাশ করার পরই আগামী নির্বাচনে বিএনপির অবস্থান আরো স্পষ্ট হবে।

তবে বড় দুই জোট এখন নিজ নিজ অবস্থানে যতোই অনড় হোক না কেন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নির্বাচন নিয়ে তাদের সমঝোতায় আসতেই হবে বলে অভিমত বিশ্লেষকদের।

সব মিলিয়ে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে বলে আশাবাদী তারা।

এদিকে, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েন নিয়ে ভাবছে নির্বাচন কমিশনও। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি এমনটা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

তিনি বলেন, সেনা মোতায়েনের প্রক্রিয়াটা নির্ভর করবে ওই সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। নির্বাচনে এবার ইভিএম ব্যবহারের সম্ভাবনা নেই বলেও জানান তিনি।

নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নিয়ে বলতে গিয়ে, চিহ্নিত জামাত নেতাদের নির্বাচন করতে না দিতে ইসির ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান এই নির্বাচন কমিশনার।

মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যম প্রতিনিধির সঙ্গে মাহবুব তালুকদারের আলাপচারিতা নিয়ে আরো জানাচ্ছেন সৈকত সাদিক।

একাদশ জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে দেশের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, নির্বাচন পর্যবেক্ষক, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যমের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন। সংলাপে উঠে আসা বিভিন্ন সুপারিশ আর প্রস্তাবে প্রাধান্য পায় নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ও সেনা মোতায়েনের বিষয়টি।

আগামী নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করার পক্ষে নির্বাচন কমিশনও তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আর সেনা মোতায়েনের প্রক্রিয়াটা কী হবে সেটা ওই সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

তার মতে, জনগণও নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের প্রত্যাশা করে।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন-ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, আগের মেশিনগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ায় আগামী নির্বাচনে এগুলো ব্যবহারের সম্ভাবনা কম।

সেইসঙ্গে নির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধনেও যথাযথ শর্তপূরণের বিষয়টি বিবেচনায় রাখার কথা জানান এ কমিশনার।

এই ক্যাটাগরীর আরও খবর

ঠাকুরপাড়ায় হিন্দু বাড়িগুলোতে হামলায় নেতৃত্ব দেয় জামাত-বিএনপি-জাপা

ভয়াল ১২ নভেম্বর: প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় কেড়ে নিয়েছিল ৫ লাখ মানুষের জীবন

শেষ ধাপে রয়েছে একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা-মামলার বিচার প্রক্রিয়া

উচ্চ পর্যায়ে ক্ষমতার অভিলাসেরই পরিণতি ৭ নভেম্বর

অভ্যুত্থান সফল না হওয়ার জন্য মোশাররফের অদূরদর্শিতাই দায়ী

সংঘাতের মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোকে