সমন্বয়হীনতাই পুলিশ-র‌্যাবের মধ্যে টানাপোড়েন

বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৬ (১৮:৫৪)
সমন্বয়হীনতাই-পুলিশ-র‌্যাবের-মধ্যে-টানাপোড়েন

পুলিশ-র‌্যাব

সমন্বয়হীনতার কারণেই পুলিশ-র্যা বের টানাপোড়েন- দুই বাহিনীর কাজ সুনির্দিষ্টভাবে বণ্টন করে দিলে এমনটি হতো না বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

এ টানাপড়েনের সুযোগে সন্ত্রাসী বা জঙ্গিরা আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলে তারা আশঙ্কা তাদের।

পাশাপাশি র্যা বকে পুলিশের অধীন থেকে বের করে আলাদা বাহিনীতে পরিণত করারও কথা বলেছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।

গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে র্যা বের মহাপরিচালক জানান, আশুলিয়ায় ৮ অক্টোবর অভিযানের সময় ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে নিহত আবদুর রহমানই নব্য জেএমবির প্রধান শায়খ আবু ইব্রাহিম আল হানিফ। তার মূল নাম সারোয়ার জাহান।

ওইদিন তিনি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এ জঙ্গির নেতৃত্বে অন্তত ২৪টি হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁ এবং ঢাকা ও রংপুরে দুই বিদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনাও রয়েছে। নব্য জেএমবির প্রধান বা আমির ছিল সে। তার সাংগঠনিক নাম আবু ইব্রাহিম আল হানিফ।

এরপর বুধবার পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের বলেন, সারোয়ার জাহান ছিল নব্য জেএমবির তৃতীয় সারির নেতা। তাবেলা হত্যায় জঙ্গিগোষ্ঠী নয়, বরং যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়েছে তারাই জড়িত। তাদের মধ্যে ৭ জন বিএনপি নেতা রয়েছেন।

পুলিশের ওই বক্তব্যের পরই নব্য জেএমবির আমির ও ইতালির নাগরিক তাবেলা সিজার হত্যার তদন্ত নিয়ে পুলিশ ও র্যা বের ভিন্ন বক্তব্যে সংস্থা দুটির সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে।

আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর দুই সংস্থার এ ধরনের বক্তব্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে

নিরপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নব্য জেএমবির নিয়ে দুই বাহিনীর মধ্যে এক ধরনের টানাপড়েনের সৃষ্টি হয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দুই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার এ মতপার্থক্যের ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

তাই দুই বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

নিরাপত্তা ও সামরিক বিশ্লেষক ইশফাক ইলাহী ও মে. জে আলী এবং পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা নুরুল আনোয়ার।

তারা বলেন, র্যা বের জন্য প্রয়োজন একটি সুনির্দিষ্ট কার্য পরিকল্পনা। র্যা বের সদস্যরা বিভিন্ন বাহিনী থেকে আসায় তাদের মধ্যে কাজের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। জঙ্গি দমনের সার্বিক দায়িত্ব নতুন সংস্থা সিটিকে দেয়া উচিত বলেও মত দেন অনেকে।

খুব দ্রুত এ টানাপোড়েনের সমাধানে উদ্যোগ নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

তাদের দাবি, দুই বাহিনীর এ বিষয়টি জনসম্মুখে না আসাই ভালো।

এই ক্যাটাগরীর আরও খবর

ঠাকুরপাড়ায় হিন্দু বাড়িগুলোতে হামলায় নেতৃত্ব দেয় জামাত-বিএনপি-জাপা

চলছে রাজনৈতিক দরকষাকষি, নির্বাচন করতে পারবে না জামাত

ভয়াল ১২ নভেম্বর: প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় কেড়ে নিয়েছিল ৫ লাখ মানুষের জীবন

শেষ ধাপে রয়েছে একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা-মামলার বিচার প্রক্রিয়া

উচ্চ পর্যায়ে ক্ষমতার অভিলাসেরই পরিণতি ৭ নভেম্বর

অভ্যুত্থান সফল না হওয়ার জন্য মোশাররফের অদূরদর্শিতাই দায়ী