জাতীয়

সোমবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৮ (১৩:৫০)

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ার দায় বাংলাদেশের: মিয়ানমার

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন-ভাসানচরে স্থানান্তর পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনে বাংলাদেশের কক্সবাজারে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ার আবারো দেশটি বাংলাদেশের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে।

আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ প্রত্যাবাসন শুরু করবে না—এমন অপপ্রচার শুরু করছে তারা।

এদিকে,আসন্ন সংসদ নির্বাচনের আগে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হচ্ছে না এবং ভাসানচরেও রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের শরণার্থী বিষয়ক ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবুল কালাম রয়টার্সকে এ তথ্য জানায়।

রোহিঙ্গাদের মূল দাবি অনুযায়ী, নাগরিক মর্যাদা ও পূর্ণ নিরাপত্তাসহ মিয়ানমারে তাদের প্রত্যাবাসন শুরু করতে নতুন ধারার পদক্ষেপ প্রয়োজন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চাইলে মিয়ানমারকে নাগরিকত্বের বিষয়ে একটি পরিষ্কার পথনির্দেশনা প্রস্তাব করতে হবে বলে জানান তিনি।

আগমী মাসে প্রত্যাবাসন বিষয়ক পরবর্তী দ্বিপাক্ষিক সভায় এ বিষয়টি তিনি উত্থপান করবেন বলে জানান তিনি।

এ কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ফিরতে চাইলে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে প্রস্তুত বাংলাদেশ— তবে জোর করে কাউকে পাঠানো হবে না।

এছাড়া তিনি আরো জানান, ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হওয়ায় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন এবং ভাসানচরে তাদের স্থানান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত থাকবে। কারণ সরকার নির্বাচনের পরই কেবল ভবিষ্যতের নতুন ধারার পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

কালাম জানান, ভাসানচরে বিকল্প পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ প্রায় শেষ হয়ে আসছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কৃষিকাজ ও মাছ ধরে জীবীকা নির্বাহের সুযোগ থাকায় কোনও কোনও রোহিঙ্গা সেখানে যেতে সম্মত হবে। তবে ত্রাণ সংস্থাগুলো সেখানে বন্যার পানি ওঠার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের নির্ধারিত দলকে রাখাইনে পাঠানোর মাধ্যমে প্রত্যাবাসন শুরু করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ।

তবে মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রকাশ করে— এ অবস্থায় রোহিঙ্গারাও আদি নিবাসে ফিরতে রাজি হয়নি।

গত শনিবার মিয়ানমারের সরকারি দৈনিক দ্য নিউ গ্লোবাল লাইট অব মিয়ানমার তাদের এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে, ডিসেম্বরের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগে প্রত্যাবাসন শুরু না–ও হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শুক্রবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলরের দপ্তরের মন্ত্রী কিউ টিন্ট সোয়ের টেলিফোনে আলাপের সময় প্রত্যাবাসন নিয়ে এ কথা বলেন।

মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী উইন মিয়াট আয়ে বিবিসির বর্মিজ সার্ভিসকে বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। দুই পক্ষের মন্ত্রী পর্যায়ে এ নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে।

তবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহ্‌রিয়ার আলম বিবিসিকে বলেন, নির্বাচনের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো বা না পাঠানোর কোনো সম্পর্ক নেই। দুই রাষ্ট্রের সম্মতিতে ১৫ নভেম্বর প্রত্যাবাসনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু তা কার্যকর হয়নি কারণ যারা -রোহিঙ্গারা যাবেন তারা রাজি হননি।

শাহরিয়ার বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই প্রত্যাবাসনের জন্য ১৫ নভেম্বর তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু রোহিঙ্গাদের আস্থার সংকটের জায়গাটি বাধার সৃষ্টি করেছে। রোহিঙ্গারা এখানে অস্থায়ী ভিত্তিতে আছে। যেকোনো সময় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়াটা বাংলাদেশের জন্য সুবিধাজনক।

এদিকে, জোর করে রোহিঙ্গাদের না পাঠানোয় বাংলাদেশের প্রশংসা করেন ইউনিসেফের মুখপাত্র ক্রিস্টফ বুলিয়েরেখ।

গত শুক্রবার জেনেভায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ইউএনএইচসিআরের মতো ইউনিসেফের কাছেও রোহিঙ্গারা রাখাইনে না যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে।

ক্রিস্টফ বুলিয়েরেখ বলেন, কক্সবাজারের শিবিরে ইউনিসেফের কর্মীরা রোহিঙ্গাদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে একটি জরিপ চালান। জরিপে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই রাখাইনে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফিরে যাবে না বলে মত দিয়েছে।

রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে আস্থা তৈরির স্বার্থে সম্প্রতি জাপান রোহিঙ্গা মাঝিদের (স্থানীয় নেতা) একটি প্রতিনিধিদলকে সেখানে পাঠানোর প্রস্তাব করে। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর সঙ্গে এক আলোচনায় জাপান ওই প্রস্তাব দিয়েছিল।

১৪ মাসে রাখাইনে ৬৬৯ শিশু হত্যা: জাতিসংঘ

ইউএনবি জানায়, জাতিসংঘের হিসাবমতে, গত ১৪ মাসে মিয়ানমারে ৬৬৯টি শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। নৃশংসতার শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে ৩৯টি শিশু। হতাহত এসব শিশুর বেশির ভাগই রোহিঙ্গা।

শুক্রবার জাতিসংঘ প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গত বছরের আগস্ট থেকে পরবর্তী ১৪ মাসে মিয়ানমারের বিভিন্ন ঘটনাবলি নিয়ে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। জাতিসংঘের শিশু ও সশস্ত্র সংঘাত–বিষয়ক মহাসচিবের কার্যালয় প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে প্রতিবেদন প্রকাশের পর এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিখ বলেন, মিয়ানমারে শিশু, কিশোর-কিশোরীরা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছে।

গত ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নৃশংস অভিযানের কারণে জাতিসংঘের হিসেবে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় প্রায় সাত লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা।

রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার জবাবে এই অভিযান শুরু হয় বলে দাবি করে থাকে মিয়ানমার। তবে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দাবি, সেনা সদস্য ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বেসামরিক মানুষ তাদের হত্যা, ধর্ষণ এবং ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিতে থাকায় পালাতে বাধ্য হয়েছে তারা।

জাতিসংঘ সমর্থিত একটি তদন্ত দল মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যার উদ্দেশ্য ও জাতিগত নিধনযজ্ঞের উদ্দেশ্যে অভিযান চালানোর অভিযোগ আনে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

 

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

আ.লীগ নির্বাচনে ১৬৮-২২২টি আসনে জয়ী হবে: জয়

সারাদেশে আজ নৌকার জোয়ার উঠেছে: কাদের

নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান শেখ হাসিনার

নির্বাচনে বিক্ষিপ্ত সহিংসতার ঘটনা ঘটতে পারে মন্তব্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আমাদের সুস্পষ্ট কৌশল আছে: কাদের

নৌকায় ভোট না দিলে দেশ আবারো অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে

ইসির নির্দেশ মোতাবেক প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নানা অজুহাতে নির্বাচন থেকে সরে যেতে পারে বিএনপি: ওবায়দুল

সর্বশেষ খবর

প্রশাসনের গোপন বৈঠকের তথ্য দিলেন রিজভী

নৌকায় ভোট না দিলে দেশ আবারো অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে

হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় সন্ত্রাসের আশ্রয় নিচ্ছে বিএনপি: কাদের

২৪ ডিসেম্বর থেকে সেনাবাহিনী মোতায়েন: সিইসি