জাতীয়

সোমবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৮ (১৩:৫০)

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন-ভাসানচরে স্থানান্তর আপাতত স্থগিত: রয়টার্স

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন-ভাসানচরে স্থানান্তর পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত

আসন্ন সংসদ নির্বাচনের আগে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হচ্ছে না এবং ভাসানচরেও রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের শরণার্থী বিষয়ক ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছে।

তাদের মতে, রোহিঙ্গাদের মূল দাবি অনুযায়ী, নাগরিক মর্যাদা ও পূর্ণ নিরাপত্তাসহ মিয়ানমারে তাদের প্রত্যাবাসন শুরু করতে নতুন ধারার পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এদিকে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ার জন্য মিয়ানমার এখন বাংলাদেশের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে। ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ প্রত্যাবাসন শুরু করবে না—এমন অপপ্রচার শুরু করেছে তারা।

গত বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের নির্ধারিত দলকে রাখাইনে পাঠানোর মাধ্যমে প্রত্যাবাসন শুরু করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল। এ অবস্থায় রোহিঙ্গারাও আদি নিবাসে ফিরতে রাজি হয়নি।

মিয়ানমারের সরকারি দৈনিক দ্য নিউ গ্লোবাল লাইট অব মিয়ানমার গতকাল শনিবার তাদের এক প্রতিবেদনে লিখেছে, ডিসেম্বরের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগে প্রত্যাবাসন শুরু না–ও হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শুক্রবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলরের দপ্তরের মন্ত্রী কিউ টিন্ট সোয়ের টেলিফোনে আলাপের সময় প্রত্যাবাসন নিয়ে এ কথা বলেন।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা এখন কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩০টি ক্যাম্পে অবস্থান করছে যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় আশ্রয় শিবির।

আন্তর্জাতিক চাপ ও সরকারের নানা তৎপরতায় তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুদেশের মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৮ হাজার ৩২ জনের তালিকা দেওয়া হয়েছিল তা থেকে বাছাই করে ৪ হাজার ৬০০ জনকে ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে সম্মতি দেয় মিয়ানমার।

প্রথম ধাপে ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। আর প্রতিদিন দেড়শ জন করে মিয়ানমারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই প্রক্রিয়া গত বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকরের কথা ছিল। তবে রোহিঙ্গারা কেউ মিয়ানমারে ফিরে যেতে রাজি না হওয়ায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া পিছিয়ে পড়ে।

ন্যায়বিচার, নাগরিকত্ব এবং নিজ গ্রামে ফেরা ও ভূমির অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবি পূরণের আগে মিয়ানমারে যেতে অস্বীকৃতি জানান প্রত্যাবাসন তালিকায় থাকা রোহিঙ্গা।

সেইসঙ্গে এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা এবং সহায়তা সংস্থাগুলো।

তাদের আশঙ্কা মিয়ানমারে ফিরে গেলে আবারো নিরাপত্তা সংকটে পড়বে রোহিঙ্গারা।

গত অক্টোবরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার গত ১৫ নভেম্বর থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে সম্মত হয়। তবে এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা শরণার্থীরা, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা এবং সহায়তা সংস্থাগুলো। তাদের আশঙ্কা, মিয়ানমারে ফিরে গেলে আবারও নিরাপত্তা সংকটে পড়বে রোহিঙ্গারা।

গত ১৫ নভেম্বর প্রথম ব্যাচের ২২০০ শরণার্থীর মিয়ানমারের কথা থাকলেও শরণার্থীদের বিক্ষোভের মুখে তা স্থগিত রাখা হয়। ন্যায়বিচার, নাগরিকত্ব এবং নিজ গ্রাম ফেরা ও ভূমির অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবি পূরণের আগে মিয়ানমার যেতে অস্বীকৃতি জানায় প্রত্যাবাসন তালিকায় থাকা শরণার্থীরা।

এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশের শরণার্থী বিষয়ক ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেছেন, ‘এসব ছাড়া কেউ ফিরতে রাজি হবে বলে মনে হয় না। রোহিঙ্গাদের অবৈধ বাঙালি হিসেবে বিবেচনা করে তাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করে মিয়ানমার। প্রত্যাবাসনের আওতায় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিলেও নাগরিকত্বের পরিবর্তে তাদের ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড দিতে রাজি হয় মিয়ানমার।

তাদের দাবি, এই কার্ডধারীরা নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবে। তবে রোহিঙ্গারা ওই কার্ড নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলে আসছে এর মাধ্যমে তাদের আবারও ‘বিদেশি’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

গতকাল বাংলাদেশের শরণার্থী বিষয়ক ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবুল কালাম রয়টার্সকে জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চাইলে মিয়ানমারকে নাগরিকত্বের বিষয়ে একটি পরিষ্কার পথনির্দেশনা প্রস্তাব করতে হবে।

আগমী মাসে প্রত্যাবাসন বিষয়ক পরবর্তী দ্বিপাক্ষিক সভায় এ বিষয়টি তিনি উত্থপান করবেন বলে জানান।

রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ফিরতে চাইলে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে প্রস্তুত বাংলাদেশ। তবে জোর করে কাউকে পাঠানো হবে না।

এছাড়া তিনি আরো জানান, ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হওয়ায় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন এবং ভাসানচরে তাদের স্থানান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত থাকবে। কারণ সরকার নির্বাচনের পরই কেবল ভবিষ্যতের নতুন ধারার পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

কালাম জানান, ভাসান চরে বিকল্প পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ প্রায় শেষ হয়ে আসছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কৃষিকাজ ও মাছ ধরে জীবীকা নির্বাহের সুযোগ থাকায় কোনও কোনও রোহিঙ্গা সেখানে যেতে সম্মত হবে। তবে ত্রাণ সংস্থাগুলো সেখানে বন্যার পানি ওঠার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে।

গত ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নৃশংস অভিযানের কারণে জাতিসংঘের হিসেবে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় প্রায় সাত লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা।

রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার জবাবে এই অভিযান শুরু হয় বলে দাবি করে থাকে মিয়ানমার। তবে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দাবি, সেনা সদস্য ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বেসামরিক মানুষ তাদের হত্যা, ধর্ষণ এবং ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিতে থাকায় পালাতে বাধ্য হয়েছে তারা।

জাতিসংঘ সমর্থিত একটি তদন্ত দল মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যার উদ্দেশ্য ও জাতিগত নিধনযজ্ঞের উদ্দেশ্যে অভিযান চালানোর অভিযোগ আনে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

 

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

আ.লীগ নির্বাচনে ১৬৮-২২২টি আসনে জয়ী হবে: জয়

সারাদেশে আজ নৌকার জোয়ার উঠেছে: কাদের

নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান শেখ হাসিনার

নির্বাচনে বিক্ষিপ্ত সহিংসতার ঘটনা ঘটতে পারে মন্তব্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আমাদের সুস্পষ্ট কৌশল আছে: কাদের

নৌকায় ভোট না দিলে দেশ আবারো অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে

ইসির নির্দেশ মোতাবেক প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নানা অজুহাতে নির্বাচন থেকে সরে যেতে পারে বিএনপি: ওবায়দুল

সর্বশেষ খবর

প্রশাসনের গোপন বৈঠকের তথ্য দিলেন রিজভী

নৌকায় ভোট না দিলে দেশ আবারো অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে

হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় সন্ত্রাসের আশ্রয় নিচ্ছে বিএনপি: কাদের

২৪ ডিসেম্বর থেকে সেনাবাহিনী মোতায়েন: সিইসি