জাতীয়

মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই, ২০১৮ (১৮:১৯)

আরো ৩৮ জন বীরাঙ্গনা পেল মুক্তিযোদ্ধার সম্মান

একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনী ও তার দোসরদের হাতে নির্যাতিত আরো ৩৮ জন বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে

একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনী ও তার দোসরদের হাতে নির্যাতিত আরো ৩৮ জন বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ৫৪তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়ে সম্প্রতি গেজেট জারি করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি গেজেটও জারি করা হয়েছে—এ নিয়ে ২০১৫ সালের ১২ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ২৩১ জন বীরঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেন।

স্বীকৃতিপ্রাপ্তরা হলেন- নীলফামারীর জলঢাকার শাহেলা বেগম, ঠাকুরগাও সদরের আমেনা বেওয়া, লালমনিরহাট সদরের শেফালী রানী, রেজিয়া, মোসলেহা বেগম, শ্রীমতি জ্ঞানো বালা, চট্টগ্রামের পটিয়ার আছিয়া বেগম, ফেনীর ছাগলনাইয়ার রহিমা বেগম, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আফিয়া খাতুন খঞ্জনী, জয়পুরহাট সদরের জাহানারা বেগম, নওগা সাপাহারের মৃত পান বিলাসী, নাটোর বড়াইগ্রামের হনুফা, সিরাজগঞ্জের তাড়াশের অর্চনা সিংহ, মৃত পচি বেওয়া, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার ওজিফা খাতুন, দয়ারানী পরামানিক, রাবেয়া খাতুন, কুষ্টিয়ার কুমারখালীর মাছুদা খাতুন, মোমেনা খাতুন, এলেজান নেছা, কুষ্টিয়া সদরের মৃত রাজিয়া বেগম, বাগেরহাটের রামপালের ফরিদা বেগম, শেরপুরের নালিতাবাড়ীর মহিরন বেওয়া, আকিরন নেছা, জতিরন বেওয়া, হোসনে আরা, হাজেরা বেগম (পিতা মৃত উমেদ আলী), হাজেরা বেগম (পিতা মৃত হাসেন আলী), শেরপুরের ঝিনাইগাতীর মৃত ফিরোজা খাতুন, শরীয়তপুর সদরের জুগল বালা পোদ্দার, যোগমায়া, সুমিত্রা মালো, গোপালগঞ্জ সদরের হেলেনা বেগম, ফরিদা বেগম, গাজীপুরের কালীগঞ্জের আনোয়ারা বেগম, ঝালকাঠি সদরের সীমা বেগম, আলেয়া বেগম ও হবিগঞ্জের মাধবপুরের সন্ধ্যা ঘোষ।

২০১৩ সালের ডিসেম্বরে সমকালে মুক্তিযুদ্ধে ১২৬ জন বীরাঙ্গনার অবদান ও দুঃখ দুর্দশা নিয়ে ১২ পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্টে রিট করে একটি বেসরকারি সংগঠন।

ওই রিটে হাইকোর্টের দেয়া আদেশের ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের ২৯ জানুয়ারি বীরাঙ্গনাদের স্বীকৃতি দিতে জাতীয় সংসদে আইন পাস করে সরকার। এরপর ২৩১ জনকে বীরাঙ্গনা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হলো।

স্বীকৃতিপ্রাপ্তদের মধ্যে সমকালে প্রকাশিত ৫৮ জন বীরাঙ্গনা রয়েছেন। বর্তমানে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক দশ হাজার টাকা ভাতা পান। গেজেটভুক্ত বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধারাও একই সমান ভাতা পাবেন।

এ ছাড়া সরকারি চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবাসহ সকল ক্ষেত্রে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের সদস্যরা যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা পান, তার সবটাই পাবেন বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের সদস্যরা।

১৯৭১ সালে ডিসেম্বরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্যাতিত নারীদের ‘বীরাঙ্গনা’ স্বীকৃতি দিয়ে তাদের সম্মান জানান। তার নির্দেশনায় বীরাঙ্গনাদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের কাজ শুরু হয়, যা ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের আগ পর্যন্ত চলছিল।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এই প্রক্রিয়াটি বন্ধ হয়ে যায়।

শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের চার দশক পর ২০১৪ সালের ১০ অক্টোবর বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল। পরের বছরের ২৯ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে ওই প্রস্তাব পাস হয়।

 

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

ভীতি-ত্রাসমুক্ত নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

রাজধানীসহ সারাদেশে বিজিবি মোতায়েন

স্বাধীনতা বিরোধীরা মাথাচারা দেয়ার চেষ্টা করছে: আইনমন্ত্রী

শেখ হাসিনার ৪ জনসভা, ভিডিও কনফারেন্স ১০

বিদ্রোহী প্রার্থীরা সরে না দাঁড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: ওবায়দুল

সহিংসতা প্রতিরোধে ইসির নির্দেশনা অনুসরণ করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন থাকবে: মিলার

জনগণ কখনো সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে না: শেখ হাসিনা

সর্বশেষ খবর

জামাতের বিষয়ে আবেদন ৩ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ

নির্বাচনী ইশতেহারে আ.লীগের ২১ অঙ্গীকার

চলচ্চিত্র নির্মাতা সাইদুল আনাম টুটুল আর নেই

রাজধানীসহ সারাদেশে বিজিবি মোতায়েন