ভুটান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন শেখ হাসিনা

বৃহস্পতিবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৭ (১৮:২৪)
ভুটান-সফর-শেষে-দেশে-ফিরেছেন-শেখ-হাসিনা

শেখ হাসিনা

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৩২ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।

সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে প্যারো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা। প্যারো বিমানবন্দরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে ও ভুটানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জিষ্ণু রায় চৌধুরী শেখ হাসিনাকে বিদায় জানান।

এর আগে ভুটান সফরের দ্বিতীয় দিনে থিম্পুতে অটিজম বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী, অটিজমসহ প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে কার্যকর নীতিমালা ও কর্মসূচি গ্রহণে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

এ সময় প্রতিবন্ধীদের রাষ্ট্রীয় সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বলেন, কেউ অবহেলিত থাকবে না- এটা নিশ্চিত করতে হবে। পরে থিম্পুর হেজোতে বাংলাদেশ চ্যান্সেরি ভবনের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন শেখ হাসিনা। ওইদিন বিকেলে সম্মেলনের অংশ হিসেবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী, আর সঞ্চালনা করেন তারই কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন।

ভুটান সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার সকালে থিম্পুতে রাজকীয় আপ্যায়ন হলে 'অটিজম ও নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারস' শীর্ষক তিন দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অটিজমসহ প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে কার্যকর নীতিমালা ও কর্মসূচি গ্রহণের জন্য বিশ্বের সকল দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে অটিজম আক্রান্তদের সামাজিক নিরাপত্তা, সম্মান ও যথাযথ চিকিৎসা সেবার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠিত দিক-নির্দেশনার অভাবে অটিজমসহ আন্যান্য প্রতিবন্ধীদের যথাযথ সহায়তা দেয়া যাচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে তিনি অটিজমের ব্যাপারে বাংলাদেশে সচেতনতা সৃষ্টিতে সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের কার্যকর ভূমিকা তুলে ধরেন।

সম্মেলনে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে বাংলাদেশ-ভুটানের সম্পর্ক আরো উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

পরে থিম্পুর হেজোতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিল ওয়াংচুকের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের চ্যান্সেরি ভবনের জমি হস্তান্তর চুক্তি সই হয়। এরপর রাজা ওয়াংচুককে সঙ্গে নিয়ে চ্যান্সেরি ভবনের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন শেখ হাসিনা।

এ সময় বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে দুপুরে শেখ হাসিনার সম্মানে ভুটানের রাজা ও রাণীর দেয়া এক ব্যক্তিগত ভোজসভায় প্রধানমন্ত্রী যোগ দেন।

বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসেবে অটিজম ও অন্যান্য নিউরো ডেভেলপমেন্টাল সমস্যা সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের এক আলোচনা সভায় সঞ্চালনা করেন তাঁরই কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন।

সায়মা বাংলাদেশের অটিজম বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন। অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের 'চ্যাম্পিয়ন' ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

গত ১৮ এপ্রিল ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে দ্বিপক্ষীয় এ সফরে যান শেখ হাসিনা। এ সফরে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে ৫টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়।

এই ক্যাটাগরীর আরও খবর

দেশে স্বৈরশাসনের কবলে থাকায় দুর্নীতি শেকড় গেড়েছে: শেখ হাসিনা

তনু হত্যাকাণ্ড, তদন্তের স্বার্থেই বাবা-মাকে আনা হয়েছে: কামাল

বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি সাক্ষর

পুরনো অটোরিকশা অপসারণের দাবিতে বুধবার বিক্ষোভ, আন্দোলনের ভিত্তি নেই

সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে যা দরকার তাই করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া সব বাহিনীর সদস্যরা ভাতা পাবেন