বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে রাজউক চেয়ারম্যানকে নোটিশ

বৃহস্পতিবার, ০৯ মার্চ, ২০১৭ (১৭:১৭)
বিজিএমইএ-ভবন-ভাঙতে-রাজউক-চেয়ারম্যানকে-নোটিশ

বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে রাজউক চেয়ারম্যানকে নোটিশ

আগামী সাত দিনের মধ্যে রাজধানীর হাতিরঝিলে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ভবন ভাঙার পদক্ষেপ নিতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের-রাজউক চেয়ারম্যানকে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠিয়েছেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

বৃহস্পতিবার পাঠানো নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে এ সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ না নিলে রাজউক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে।

৯০ দিনের মধ্যে বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে গত ২ জুন বিজিএমইএ-এর আপিল খারিজ হয়ে যায়। রায়ে বলা হয়েছিলো, বিজিএমইএ তাদের ভবন না ভাঙলে রাজউককে ভবন ভাঙতে হবে। কিন্তু রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৯০ দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়ে যায়। এরপরেও রাজউক চেয়ারম্যান ভবন ভাঙতে কার্যকরী পদক্ষেপ না নেয়ায় আদালতের রায়ের প্রতি অশ্রদ্ধা এবং আদেশ অমান্যের শামিল বলে নোটিশের বলা হয়েছে।

নোটিশে রাজউক চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, এ নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করে আমাকে (মনজিল মোরসেদ) অবহিত করবেন।

গত ৫ মার্চ রিভিউ খারিজ :

রাজধানীর হাতিরঝিলে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ভবন ভাঙতে আর কোনো বাধা থাকল না।

বিজিএমইএ ভবন অবিলম্বে ভেঙে ফেলতে সর্বোচ্চ আদালতের দেয়া রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে (রিভিউ) করা আবেদন খারিজের ফলে বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে হবে।

ওইদিন- রোববার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানি শেষে খারিজ করে দেয়। বৃহস্পতিবারের মধ্যে বিজিএমইএ অন্যত্র সরাতে কত দিন সময় লাগবে তা জানিয়ে একটি আবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। ওই দিন আদালত পরবর্তী আদেশ দেয়ার কথা ছিল। এরইমধ্যে নোটিশ পাঠিয়েছে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের পূর্ব পাশে অবস্থিত পোশাকশিল্প প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ১৬ তলা ভবনটি অবিলম্বে সংগঠনের নিজ খরচায় ভেঙে ফেলতে রায় দেয় সর্বোচ্চ আদালত। গত বছরের ৮ নভেম্বর আদালতের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর হাতিরঝিলে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার বিষয়ে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেয়া রায় রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদনের ওপর শুনানি মুলতবি করা হয়।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেয়।

উল্লেখ, ২০১০ সালের ২ অক্টোবর রাজউকের অনুমোদন ছাড়া বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ করা নিয়ে একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপা হয়। পরে ওই প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ডি এইচ এম মুনিরউদ্দিন।

প্রাথমিক শুনানি নিয়ে একই বছরের ৩ অক্টোবর হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে। রুলে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে বিজিএমইএ ভবন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় হাইকোর্ট। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে বিজিএমইএ। এরপর গত বছরের ২ মে আপিল বিভাগ বিজিএমইএ-এর লিভ টু আপিল খারিজ করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে।

পরে একই বছরের ৮ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের ওই রায় রিভিউ চেয়ে আবেদন করে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। এরই ধারবাহিকতায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ওই রিভিউ আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগের কার্যতালিকাভুক্ত হয়।

প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, ‘বেগুনবাড়ি খাল’ ও ‘হাতিরঝিল’ জলাভূমিতে অবস্থিত ‘বিজিএমইএ কমপ্লেক্স’ নামের ভবনটি নিজ খরচে অবিলম্বে ভাঙতে আবেদনকারীকে (বিজিএমইএ) নির্দেশ দেয়া যাচ্ছে। এতে ব্যর্থ হলে রায়ের কপি হাতে পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে ভবনটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেয়া হয়। এক্ষেত্রে ভবন ভাঙার খরচা আবেদনকারীর (বিজিএমইএ) কাছ থেকে আদায় করবে তারা। এ রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করে বিজিএমইএ।

এই ক্যাটাগরীর আরও খবর

রোহিঙ্গা সংকট: চীন-জাপান-ইইউসহ পাঁচ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ঢাকা আসছেন

তুরাগ তীরে শুরু হয়েছে জোড় ইজতেমা

রংপুরে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করেছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণের স্বীকৃতিতে সমাবেশ শনিবার

রংপুরের ঘটনায় গভীর ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যাচ্ছে: কামাল

রাজশাহী-চট্টগ্রামেও চামড়া শিল্পাঞ্চল হবে: প্রধানমন্ত্রী