সেন্ট্রাল আফ্রিকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে বাংলাদেশি সৈনিক নিহত

শনিবার, ০৭ জানুয়ারী, ২০১৭ (১৩:৩৪)
সেন্ট্রাল-আফ্রিকায়-দুর্বৃত্তের-গুলিতে-বাংলাদেশি-সৈনিক-নিহত

সেন্ট্রাল আফ্রিকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে বাংলাদেশি সৈনিক নিহত

দেশের জন্য কাজ করার স্বপ্ন পূরণ হলো না বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিপাহী আব্দুর রহিমের। পারলেন না পরিবারের দারিদ্র্য দূর করে সবার মুখে হাসি ফোটাতেও।

সেন্ট্রাল আফ্রিকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হলেন জাতিসংঘ মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিপাহী আবদুর রহিম। তার বাড়ি সাতক্ষীরার হাজিরপুরে চলছে এখন শোকের মাতম। এই অকাল মৃত্যুতে দিশেহারা তার পরিবার।

গত বৃহস্পতিবার সকালে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে ব্যানব্যাট-৩ এর টহল দলে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। এসময় স্থানীয় একদল সন্ত্রাসীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় ব্যানবেট-৩। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ব্যানব্যাট-৩ টহল দলের সৈনিক আব্দুর রহিম মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পাল্টা আক্রমণে ওই সন্ত্রাসী দল দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়। রহিমের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে যথাযোগ্য মর্যাদায় সমাহিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গতকাল আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআর এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে মিশনে বাংলাদেশি অন্যান্য শান্তিরক্ষীগণ নিরাপদে রয়েছেন।

২০১৪ সাল থেকে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে জাতিসংঘ পরিচালিত শান্তিরক্ষা মিশনে (মিনুসকা) বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা নিয়োজিত আছেন।

রহিমের মৃত্যুতে শোকের মাতম চলছে সাতক্ষীরা সদরের হাজিপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে। কৃষক আব্দুল মাজেদ ও গৃহিনী রওশন আরার তিন সন্তানের মধ্যে সবার বড় আব্দুর রহিম। তার স্বপ্ন ছিলো দেশের জন্য কাজ করা ও পরিবারের দারিদ্রতা দূরে করে সবার মুখে হাসি ফোটানো। এই অকাল মৃত্যুতে পূরণ হলো না তার স্বপ্ন। প্রিয়জনকে হারানোর বেদনায় আহাজারি করছেন বাবা, মা, স্ত্রী, ভাই, বোন। আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন তাদের সান্তনা দিতে আসা প্রতিবেশি আর স্বজনরাও।

রহিমের পাঁচ মাসের সন্তান বাবাকে চেনার আগেই হারিয়ে ফেলেছে। ৪ বছর আগে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার রাজবাড়িয়া গ্রামের রুবাইয়া সুলতানা রানুকে বিয়ে করেন তিনি।

১৯৮৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর হাজিরপুর গ্রামে দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেন রহিম। স্থানীয় ঝাউডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাইস্কুল থেকে লেখা পড়া শেষ করে কলারোয়া উপজেলার সরকারি মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। কিন্তু অভাবের সংসার পড়াশোনা আর শেষ করতে পারেননি রহিম। পরে ২০০৫ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সিপাহী পদে নিয়োগ পান আবদুর রহিম। সেই থেকেই সংসারের দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।

এই ক্যাটাগরীর আরও খবর

রোহিঙ্গা সংকট: চীন-জাপান-ইইউসহ পাঁচ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ঢাকা আসছেন

তুরাগ তীরে শুরু হয়েছে জোড় ইজতেমা

রংপুরে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করেছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণের স্বীকৃতিতে সমাবেশ শনিবার

রংপুরের ঘটনায় গভীর ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যাচ্ছে: কামাল

রাজশাহী-চট্টগ্রামেও চামড়া শিল্পাঞ্চল হবে: প্রধানমন্ত্রী