শনিবার, ১২ আগস্ট, ২০১৭ (১৪:০৬)

কুড়িগ্রামে-লালমনিরহাট-মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

কুড়িগ্রামে-লালমনিরহাট-মৌলভীবাজারে-বন্যা-পরিস্থিতির-অবনতি

কুড়িগ্রামে-লালমনিরহাট-মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

কুড়িগ্রামে, লালমনিরহাট ও মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির আবারো অবনতি দেখা দিয়েছে, এতে লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের ধরলা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্রসহ সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

প্লাবিত হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রাম সদর, ফুলবাড়ী, চিলমারী ও উলিপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলের ২০ ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এসব এলাকার প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। তলিয়ে গেছে রোপা আমনসহ মৌসুমি ফসল। রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় ভেঙ্গে পড়েছে নিম্নাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ১২ ঘণ্টায় সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ৩৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৩৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়েছে তিস্তাসহ অন্যান্য নদীর পানিও।

ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে মৌলভীবাজারে মনু নদীর পানি বিপদ সীমার ৭ সেন্টিমিটার ও ধলাই নদী ১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অন্যদিকে হাকালুকি হাওরে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বড়লেখা, জুড়ি,কুলাউড়া এবং কাউয়াদীঘি হাওরের মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

শনিবার সকাল থেকে দোয়ানী পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২৫ সে.মি ও কুলাঘাট পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ৩২ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এতে জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, আদিতমারী ও সদর উপজেলার ২০টি ইউনিয়নের ৩৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অন্তত তিন লাখ মানুষ। তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, স্কুলকলেজ, মসজিদ মাদরাসাসহ অসংখ্য স্থাপনা।

যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুর্গোত এলাকার মানুষজনদের।

এদিকে, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা বালুর বাধটি বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে ২নং স্পার বাধ। অপরদিকে ধরলার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাটগ্রাম উপজেলার সড়ক, মহাসড়কের উপর পানি উঠছে। বুড়িমারী স্থল বন্দরের উপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হতে দেখা গেছে।

এছাড়াও সদর উপজেলার কুলাঘাট, ইটাপোতা, শীবেরকুটি, খুনিয়াগাছ, রাজপুরসহ বেশ কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি চরম আকার ধারন করেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ক্রমান্বয়ে পানি মাত্রা বেড়েই চলছে। আগামী বুধবার পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এদিকে, পানি নিয়ন্ত্রণে ডালিয়া ব্যারাজের সবকটি গেট খুলে দেয়া হয়েছে।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো এখন পর্যন্ত দুর্গোত এলাকায় কোন ধরনের সহায়তা প্রদান করা হয়নি।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী বিজয় ইন্দ্র শংকর বলেন, নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পেলে ফ্লাশ ফ্লাড হতে পারে।

লালমনিরহাটের দোয়ানী পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২৫ সে.মি ও কুলাঘাট পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ৩২ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ৩৮টি গ্রামের ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।

এই ক্যাটাগরীর আরও খবর

ফরিদপুরে গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে একজন নিহত

কুমিল্লায় বাসচাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু

গাজীপুরে নিরাপত্তা প্রহরীকে জবাই করে হত্যা

বিএনপি না আসলে নির্বাচন বন্ধ থাকবে না: কাদের

আরও খবর

কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব নিলেন রাহুল গান্ধী

শহীদ মুস্তাক একাদশের বিপক্ষে জিতেছে শহীদ জুয়েল একাদশ

দুবাইয়ে টি-টেন লিগের প্রথম ম্যাচেই ঝড় তামিমের

দুবাইয়ে জয় দিয়ে টি-টেন লিগ শুরু তামিম-সাকিবের

বিবিসি ওভারসীজ স্পোর্টস পারসোনালিটি অ্যাওয়ার্ড জিতলেন ফেদেরার

হুইলচেয়ার ক্রিকেট: ভারতকে হারালো বাংলাদেশ

শ্রবণ-বাক প্রতিবন্ধীদের জন্য আদালতে ইশারাভাষী নিয়োগের আহ্বান

সংসদ ভবনে ছায়েদুল হকের কফিনে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

উত্তর সিটি নির্বাচন: জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা

রংপুর সিটি নির্বাচন যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয় তা হবে বিএনপির সদিচ্ছাতেই