সাত খুন: রায়ে সন্তুষ্ট বাদীপক্ষ, দ্রুত কার্যকরের দাবি

মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০১৭ (১২:২৯)
সাত-খুন-রায়ে-সন্তুষ্ট-বাদীপক্ষ,-দ্রুত-কার্যক্ররের-দাবি

সেলিনা ইসলাম বিউটি

নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যবকর সাত খুনের মামলার রায় ঘোষণার পর কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

সোমবার আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের তিনি দোষীদের সাজা দ্রুত কার্যকরের আহ্বান জানান।

সেলিনা ইসলাম বলেন, ‘স্বামীকে হারিয়ে আমি যে অসহনীয় কষ্ট ও দুঃখের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আজকের রায়ের মধ্য দিয়ে কিছুটা হলেও সেই কষ্ট ভোলার চেষ্টা করব।’

তিনি আরো বলেন, আমি সরকারের কাছে দাবি জানাই, দ্রুত এ রায়ের বাস্তবায়ন হোক, আর উচ্চ আদালতেও এ রায় যেন ঠিক থাকে সেই প্রত্যাশা করি।

সকালে এ মামলায় ৩৫ আসামির মধ্যে প্রধান আসামি নূর হোসেন ও র্যা বের সাবেক কর্মকর্তাসহ ২৬ জনের ফাঁসি এবং বাকি ৯ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ঘোষণা করেছে আদালত।

জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।

এ মামলার ৩৫ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ২৩ জনকে আজ আদালতে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে ১৭ জন র্যা বের সদস্য। মামলার শুরু থেকেই র্যা বের সাবেক ৮ সদস্যসহ ১২ আসামি পলাতক রয়েছে।

এ মামলায় ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়, তারা হলো: চাকরিচ্যুত লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাসুদ রানা, হাবিলদার এমদাদুল হক, আরওজি-১ আরিফ হোসেন, ল্যান্স নায়েক হীরা মিয়া, ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন, সিপাহি আবু তৈয়ব, কনস্টেবল মো. শিহাব উদ্দিন, এসআই পূর্ণেন্দ বালা, করপোরাল রুহুল আমিন, এএসআই বজলুর রহমান, হাবিলদার নাসির উদ্দিন, এএসআই আবুল কালাম আজাদ, সৈনিক নুরুজ্জামান, কনস্টেবল বাবুল হাসান ও সৈনিক আসাদুজ্জামান নূর।

কারাগারে থাকা বাকি আসামিরা হল: সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন, তার সহযোগী আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান দীপু, রহম আলী, আবুল বাশার ও মোর্তুজা জামান (চার্চিল)।

পলাতক আসামিরা হল: করপোরাল মোখলেছুর রহমান, সৈনিক আবদুল আলীম, সৈনিক মহিউদ্দিন মুনশি, সৈনিক আল আমিন, সৈনিক তাজুল ইসলাম, সার্জেন্ট এনামুল কবীর, এএসআই কামাল হোসেন, কনস্টেবল হাবিবুর রহমান এবং নূর হোসেনের সহযোগী সেলিম, সানাউল্লাহ ছানা, ম্যানেজার শাহজাহান ও ম্যানেজার জামাল উদ্দিন।

নিহত নজরুলে স্ত্রী বিউটি বলেন, আমরা সন্তুষ্ট—কিন্তু আমরা চাই, এই রায় দ্রুত কার্যকর হোক, হাইকোর্টে যাতে এ রায় বহাল থাকে।

চন্দন সরকারের মেয়ে সুস্মিতা সরকারও রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, আসামিদের সাজা দ্রুত কার্যকর হোক- এটাই আমাদের চাওয়া, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আমার বাবা সারাজীবন ন্যায় বিচারের জন্য কাজ করেছেন— আজকে তার আত্মা শান্তি পাবে।

এ মামলার আলোচিত আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, এই রায়ে আমরা আনন্দিত— আমরা খুশি হয়েছি, ৩৫ জন আসামির মধ্যে সবার মৃত্যুদণ্ড হলে আরো বেশি খুশি হতাম।

নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, মূল আসামি নূর হোসেন ও তারেক সাঈদ রায়ের সময় ভাবলেশহীন ছিলেন। তাদের এ আচরণ প্রমাণ করে ‘তারা খুনি’।

রাষ্ট্রপক্ষ সব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে— রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। যে নয়জনের ফাঁসি হয়নি, পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর তা দেখে প্রয়োজনে আপিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত: ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের লামাপাড়া এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীর বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া শান্তিনগর এলাকায় মরদেহ ভেসে উঠলে অপহৃত ওই সাত জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এই ক্যাটাগরীর আরও খবর

রাবির অপহৃত ছাত্রী উদ্ধার

রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করলেন মার্কিন সিনেটর- কংগ্রেসম্যানরা

রংপুরে সনাতনধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

সীতাকুন্ড-হাটহাজারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪

নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জ থেকে জামাতের সেক্রেটারিসহ আটক ১৩

দিনাজপুরে ট্রেনের ধাক্কায় কাভার্ডভ্যান চালকের মৃত্যু