জীবনধারা

সোমবার, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ (১২:৪৫)

একাত্তরের জননী গ্রন্থের লেখক রমা চৌধুরী আর নেই

রমা চৌধুরী

একাত্তরের জননী গ্রন্থের লেখক ও বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী আর নেই। সোমবার ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তিনি মারা যান।

রমা চৌধুরীর বইয়ের প্রকাশক আলাউদ্দিন খোকন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আলাউদ্দিন খোকন বলেন, রোববার রাত ১১টার দিকে রমা চৌধুরীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্ট নেওয়া হয়। সোমবার ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে তার লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়।

সোমবার ভোররাত ৪টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।

রমা চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হাড়ের ব্যথাসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে বাসায় পড়ে গিয়ে কোমর ভেঙে গিয়েছিল তাঁর। সেই থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। কয়েক দিন আগে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। গতকাল রাত ১০টায় তাঁকে সেখানে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, ভোররাত ৪টা ৪০ মিনিটে রমা চৌধুরীর লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়। আজ চট্টগ্রাম শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বোয়ালখালীর গ্রামের বাড়িতে রমা চৌধুরীকে সমাহিত করা হবে।

রমা চৌধুরী ১৯৪১ সালে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পোপাদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন রমা চৌধুরী। তিনিই ছিলেন দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রথম নারী স্নাতকোত্তর (এমএ)। ১৯৬২ সালে কক্সবাজার বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ ১৬ বছর তিনি বিভিন্ন উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি তিন পুত্রসন্তানের জননী ছিলেন। থাকতেন পৈতৃক ভিটা পোপাদিয়ায়। তাঁর স্বামী ভারতে চলে যান। ১৩ মে সকালে পাকিস্তানি সেনারা এসে চড়াও হয় তাঁর ঘরে। এ সময় দুগ্ধপোষ্য সন্তান ছিল তাঁর কোলে। এরপরও তাঁকে নির্যাতন করা হয়। পাকিস্তানি সেনারা গানপাউডার দিয়ে আগুন জ্বেলে পুড়িয়ে দেয় তাঁর ঘরবাড়ি। পুড়িয়ে দেয় তাঁর সব সম্পদ। নিজের নিদারুণ এই কষ্টের কথা তিনি লিখেছেন ‘একাত্তরের জননী’ গ্রন্থে।

জয়লাভের পর ২০ ডিসেম্বর তাঁর বড় ছেলে সাগর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এর ১ মাস ২৮ দিন পর মারা যায় আরেক ছেলে টগর। এরপর তিনি জুতা পরা বাদ দেন। পরে অনিয়মিতভাবে জুতা পরতেন তিনি। ১৯৯৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর আরেক ছেলে মারা গেলে পুত্রশোকে তিনি আর জুতা পায়ে দেননি। খালি পায়ে হেঁটে নিজের লেখা বই বিক্রি করে চলতেন এই নারী।

২০ বছর ধরে লেখ্যবৃত্তিকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন রমা চৌধুরী। যদিও তাঁর লেখ্যবৃত্তির পেশা একেবারেই স্বনির্বাচিত ও স্বতন্ত্র। তিনি প্রথমে একটি পাক্ষিক পত্রিকায় লিখতেন। বিনিময়ে সম্মানীর বদলে পত্রিকার ৫০টি কপি পেতেন। সেই পত্রিকা বিক্রি করেই চলত তাঁর জীবন-জীবিকা। পরে নিজেই নিজের লেখা বই প্রকাশ করে বই ফেরি করতে শুরু করেন। প্রবন্ধ, উপন্যাস ও কবিতা মিলিয়ে বর্তমানে তিনি নিজের ১৫টি গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। ২০১০ সালের ১৫ ডিসেম্বর ‘একাত্তরের জননী রমা চৌধুরী’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে প্রথম আলো।

 

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

নয়াপল্টনে তরিকুলের জানাজা সম্পন্ন

না ফেরার দেশে তরিকুল ইসলাম

আজ শুভ বিজয়া দশমী

আইয়ুব বাচ্চুর শেষ ঠিকানা মায়ের কবরে

মহাষষ্ঠীতে আচার-অর্চনায় দেবীর অধিষ্ঠান মণ্ডপে মণ্ডপে

দুর্গোৎসবের পূণ্যলগ্ন শুভ মহালয়া আজ

ডিএনসিসির প্যানেল মেয়র ওসমান গণি আর নেই

পূজা, আরাধরায় পালন শ্রীকৃষ্ণের পবিত্র জন্মতিথি

৩০ ডিসেম্বরই নির্বাচন: ইসি সচিব

অগ্নিসংযোগ-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান শেখ হাসিনার

ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়বেন ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীরা

সমৃদ্ধশালী দেশ গড়তে কাজ করছে সরকার: শেখ হাসিনা