আন্তর্জাতিক

ksrm

রবিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ (১০:৩৮)

প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হওয়ার বোনের বিরোধিতা করলেন রাজা

থাই রাজার বড় বোন সাবেক রাজকুমারী উবোলরতানা মাহিডল

থাইল্যান্ডে সামনের মাসের নির্বাচনে রাজার বড় বোন প্রধানমন্ত্রীর পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর রাজা নিজেই এখন তাতে বাধ সেধেছেন।

রাজার বড় বোন সাবেক রাজকুমারী উবোলরতানা মাহিডল ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি থাই রাকসা পার্টি হতে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হবেন।

কিন্তু রাজা এক ফরমান জারি করে বলেন, থাই সংবিধানের মূলনীতি অনুযায়ী তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে প্রার্থী হতে পারেন না, যদিও তিনি রাজকীয় উপাধি ত্যাগ করেছেন।

থাই রাকসা পার্টি জানিয়েছে, তারা রাজার এ আদেশ মেনে চলবে, এ দলটি থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াতের দলের রাজনৈতিক মিত্র।

উবোলরতানা মাহিডল রাজউপাধি ত্যাগ করে রাজনীতিতে নামার ঘোষণা দিয়ে থাইল্যান্ডে রীতিমত চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন। থাই রাজপরিবার নিজেদেরকে রাজনৈতিক দলাদলির উর্ধ্ব রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু রাজার বড় বোনের রাজনীতিতে নামার ঘোষণা সেখানে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে।

রাজকুমারী উবোলরতানা রাজাকন্যা সিরিভাদানা বরনাভাদি হচ্ছেন থাইল্যান্ডের প্রয়াত রাজা ভুমিবলের প্রথম সন্তান। তার জন্ম ১৯৫১ সালে।

রাজকুমারী পড়াশোনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে। সেখানে তিনি এক মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করেন। এরপর তিনি রাজউপাধি ত্যাগ করেন। তবে স্বামীর সঙ্গে বিয়ে বিচ্ছেদের পর তিনি আবার থাইল্যান্ডে ফিরে আসেন ২০০১ সালে। তখন আবার তিনি রাজপরিবারের কাজ-কর্মে অংশ নিতে শুরু করেন।

রাজকুমারী উবোলরতানা সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সক্রিয়। তিনি কয়েকটি থাই চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন।

তার তিন সন্তানের একজন ২০০৪ সালের এশিয়ান সুনামিতে মারা যায়। বাকি দুই সন্তান থাইল্যান্ডেই থাকেন।

রাজা ভাজিরালংকর্ন শুক্রবার তার বোনের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা করে বলেন, এটি থাই সংবিধানের মূলনীতি এবং দেশটির রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিরোধী।

রাজপরিবারের কোন উর্ধ্বতন সদস্য রাজনীতিতে জড়ালে, সেটা যেভাবেই হোক, তা জাতির ঐতিহ্য, রীতি এবং সংস্কৃতির লঙ্ঘন। কাজেই এটি হবে খুবই অসঙ্গত একটি কাজ।

রাজার এই বিবৃতিতে সংবিধানের সেই ধারাটিও উল্লেখ করা হয় যেখানে বলা হয়েছে রাজপরিবার তাদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে।

থাইল্যান্ডে গত পাঁচ বছর ধরে সামরিক শাসন চলছে। সামনের মাসের নির্বাচনটিকে তাই বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

বিবিসির সংবাদদাতা জোনাথন হেড বলেন, একজন রাজকুমারীকে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য মনোনয়ন দেয়ার সিদ্ধান্তটি সিনাওয়াতপন্থী রাজনৈতিক জোটের জন্য এক বড় ভুল বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সামরিক বাহিনীকে রাজনীতি থেকে দূরে সরানো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই ঘটনা সিনাওয়াতপন্থী জোটকে দুর্বল করলো।

রাজার এই ঘোষণার আগে অবশ্য রাজকুমারী উবোলরতানা তার সিদ্ধান্তটি সঠিক বলে যুক্তি দিয়েছিলেন।

ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে তিনি বলেছিলেন, সব রাজকীয় উপাধি, সুযোগ-সুবিধা ত্যাগ করে তিনি সাধারণ মানুষের জীবনযাপন করছেন তিনি।

তিনি বলেছিলেন, একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেই তিনি তার অধিকার প্রয়োগ করতে চান। সেজন্যেই তিনি প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, সবার সঙ্গে মিলে তিনি কাজ করতে চান।

তবে রাজার বিবৃতির কিছু পরেই তিনি আরেকটি পোস্টে তার প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান তাদের সমর্থনের জন্য।

তিনি বলেন, থাইল্যান্ড যেন সামনে এগিয়ে যেতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায় সেটাই তিনি চান।

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টে ভোটাভুটি ছাড়াই ইমার্জেন্সি রেগুলেশনস আইন পাস

শ্রীলঙ্কায় আবারো বোমা বিস্ফোরণ

বৈঠকে বসেছেন পুতিন-কিম

শ্রীলঙ্কায় আত্মঘাতী হামলায় অংশ নেয় ৯ জন

মিয়ানমারের পাথর খনিতে ভূমিধসে অর্ধশতাধিক শ্রমিক নিহতের আশঙ্কা

শ্রীলঙ্কায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ জনে

ভারতে তৃতীয় দফার ভোট চলছে

ফিলিপাইনে ৬.৩ ভূমিকম্প, নিহত ১১

সর্বশেষ খবর

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

মধুমতি মডেল টাউন: আগের রায় আপিলেও বহাল

বাসায় ফিরেছে কৃত্রিম পা লাগানো রাসেল

চালক হত্যার প্রতিবাদে দিনাজপুর-রংপুরের চার জেলায় পরবিহন ধর্মঘট