আন্তর্জাতিক

শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ (১২:৪৬)

রোহিঙ্গা নির্যাতন: মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস

রোহিঙ্গা নির্যাতন: মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস

রোহিঙ্গা নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আরেকটি প্রস্তাব পাস হয়েছে জাতিসংঘে।

শুক্রবার পাস হওয়া এ প্রস্তাবে নিন্দার পাশাপাশি এই মুসলিম জনগোষ্ঠীকে নাগরিকত্ব দেওয়ার পথ তৈরি করতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মানবাধিকার বিষয়ক কমিটিতে (থার্ড কমিটি) ১৪২-২৬ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়। তবে ২৬টি দেশ ভোট দানে বিরত ছিল।

চীন ও রাশিয়ার পাশাপাশি মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশ ক্যাম্বোডিয়া ও লাওস প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়।

মুসলিম দেশগুলোর জোট ওআইসির পক্ষে বাংলাদেশ ও ইউরোপের জোট ইইউর পক্ষে অস্ট্রিয়া যৌথভাবে এ প্রস্তাব তুলে।

প্রস্তাবের পক্ষে ওআইসির পক্ষে বক্তব্যে জাতিসংঘ তুরস্কের স্থায়ী প্রতিনিধি ফরিদুন সিনিরলিগ্লু বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে নানা কৌশলে নির্যাতিত হয়ে আসছে। গত ২০১৭ সালে তাদের ওপর অভিযান ছিল ওই কৌশলেরই একটি ধাপ।

সবাই মিলে সমন্বিত একটি কৌশল প্রণয়ন করতে না পারলে এই সঙ্কটের সমাধান অসম্ভব বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

তুরস্কের প্রতিনিধি বলেন, ওআইসি মনে করে রোহিঙ্গাদের তাদের অধিকার নিয়ে মিয়ানমারে বসবাস নিশ্চিত করতে হবে, আর তাদের ওপর নিপীড়নকারীদের শাস্তি না হলেও এটা অসম্ভব।

মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি হাউ দো সুয়ান আলোচনায় বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও একপেশে এই প্রস্তাব পাস হলে রাখাইন রাজ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় মিয়ানমার সরকারের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করবে।

আলোচনায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের প্রতি দায়িত্ব পালনের স্বার্থে এই প্রস্তাব পাস করতে সবাইকে আহ্বান জানান।

মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে কয়েক দশক ধরে চার লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে ছিল। গত বছরে আগস্টে রাখাইন প্রদেশে মিয়ানমার সেনাবাহিনী অভিযান শুরুর পর আরও সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

পালিয়ে আসা এই রোহিঙ্গাদের মুখে মিয়ানমারের সৈন্যদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠে আসে। জাতিসংঘ একে বর্ণনা করে ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে।

বিশ্ব সম্প্রদায়ের চাপের মুখে মিয়ানমার এই শরণার্থীদের ফেরত নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করে; সেই অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার প্রত্যাবাসন শুরুর কথা ছিল। কিন্তু আতঙ্কিত রোহিঙ্গারা ফিরে যেতে চায়নি বলে বাংলাদেশও তাদের উপর জোর খাটায়নি।

মাসুদ বিন মোমেন বলেন, তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গা সদস্যরা মিয়ানমারের আশ্বাসের প্রতি কোনোভাবেই আস্থা রাখতে পারেনি এবং একটি পরিবারও মিয়ানমারে স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে সম্মত হয়নি।

তারা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, নাগরিকত্বের পূর্ণ নিশ্চয়তা, নিজভূমিতে অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষতিপূরণ প্রদান, সহিংসতা থেকে সুরক্ষা ও সহিংসতার বিচার করা এবং ন্যায় বিচার প্রাপ্তির পূর্ণ নিশ্চয়তা ব্যতীত মিয়ানমারে ফিরে যাবে না।

তাই রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরির নিশ্চয়তা বিধানে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহকে অবশ্যই মিয়ানমারে বাধাহীন প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে।

আলোচনার পর প্রস্তাবটি ভোটাভুটিতে যায় এবং তা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে পাস হয়।

গত বছর এই থার্ড কমিটিতে ওআইসির আহ্বানে একই ধরনের একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল, যা পরে সাধারণ পরিষদের প্লেনারিতে পাস হয়।

তখন থার্ড কমিটিতে ১৩৫টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিল, বিপক্ষে ছিল ১০টি দেশ। এবার প্রস্তাবের পক্ষে ভোট বেড়েছে।

থার্ড কমিটিতে গৃহীত এই প্রস্তাব আগামী ডিসেম্বরে সাধারণ পরিষদের প্লেনারিতে উপস্থাপিত হবে।

 

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশে বাধাহীন অংশগ্রহণ চায় মার্কিন কংগ্রেস

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি অস্ট্রেলিয়ার

ভারতে মন্দিরে প্রসাদ খেয়ে ১১ জনের মৃত্যু, ৮২ অসুস্থ

পদত্যাগ করেছেন মাহিন্দা রাজাপাকসে

খাশোগি হত্যা: সৌদি যুবরাজের নিন্দা জানালো মার্কিন সিনেট

জামাতে ইসলামী গণতন্ত্রের জন্য হুমকি: মার্কিন কংগ্রেসম্যান

ফ্রান্সে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীকে গুলি করে হত্যা

আবার আ.লীগই সরকার গঠন করবে: ইআইইউ

সর্বশেষ খবর

পদত্যাগ করেছেন মাহিন্দা রাজাপাকসে

সকলের সহযোগিতায় সুষ্ঠু-সুন্দর নির্বাচন সম্ভব: ইসি

ভোটকক্ষ থেকে সরাসরি সম্প্রচার নয়: সিইসি

ড. কামালকে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম