আন্তর্জাতিক

মঙ্গলবার, ০৬ নভেম্বর, ২০১৮ (১০:২২)

মধ্যবর্তী নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ

মধ্যবর্তী নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। বাংলাদেশের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে শুরু হবে এ মধ্যবর্তী নির্বাচন।

প্রতি চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত হওয়া এ মধ্যবর্তী নির্বাচনে এবার মূলত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে।

অর্থাৎ ভোটাররা হাউজ অব রিপ্রেসেন্টেটিভ ও সিনেটের সদস্য, যাকে কংগ্রেসও বলে তাদের নির্বাচন করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি চার বছর পরপর হয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। আর প্রেসিডেন্টের মেয়াদের মাঝামাঝিতে অর্থাৎ, দু’বছরের মাথায় হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন। এ নির্বাচনে জনগণ প্রেসিডেন্টকে নিয়ে তাদের সন্তোষ বা অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ পায়। আর তাই ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে নিয়ে মানুষ কি ভাবছে এবং তার আবারো ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা কতটুকু তা এ নির্বাচনেই স্পষ্ট হয়ে যায়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শাসনে এরই মধ্যে অবনতি হয়েছে মানবাধিকার। শিক্ষা, শ্রম এবং কর ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও কমে দাঁড়িয়েছে ৪০ শতাংশে।

সবকিছু মিলিয়েই ট্রাম্পের জন্য এ নির্বাচন এক পরীক্ষা। যদিও এখনো রিপাবলিকানদের বিশ্বাস জনরায় তাদের পক্ষেই যাবে।

ভোটাররা বাংলাদেশ সময় রাতে নির্বাচনে ভোট দেবেন। এদিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের সদস্যদের নির্বাচন করবেন। সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ভোট হবে ৩৫টিতে। আর হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এর সব কয়টি, অর্থাৎ ৪৩৫টি আসনেই ভোট হবে। পাশাপাশি ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ৩৬টির গভর্নর এবং যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি অঞ্চলের গভর্নর নির্বাচিত হবেন। এছাড়াও, অনেক নগরীর মেয়র এবং স্থানীয় কর্মকর্তা নির্বাচন করা হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। ফলে এ অবস্থায় সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলকে অন্তত দু’টি আসনে জিততে হবে। এমন হওয়া অসম্ভব নয়। তবে প্রতিনিধি পরিষদে লড়াইটা কঠিন হবে। হাউজের দখল নিতে হলে বিরোধী পক্ষকে অন্তত ২৩টি আসনে জিততে হবে।

এবারের নির্বাচনে আছে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নারী প্রার্থী। সেদিক থেকেও নির্বাচনটি গুরুত্বপূর্ণ। অ্যারিজোনায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। রিপাবলিকানদের এ শক্ত ঘাঁটিতে এবার ডেমোক্র্যাট দল থেকে দাঁড়াচ্ছেন তিন দফার সিনেটর কার্স্টেন সিনেমা। তিনি ভোটের ফল উল্টে দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে জর্জিয়াতেও। সেখানেও প্রতিপক্ষ দুই নারী প্রার্থী।

সাধারণত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তুলনায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম থাকে। তবে এবার রেকর্ড পরিমাণ ভোটার ভোট দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ভোটে একটি কক্ষ রিপাবলিকান আর অপরটি ডেমোক্র্যাটদের দখলে গেলে যে কোনও বিল পাস করাতেই বেগ পেতে হবে ট্রাম্প সরকারকে।

রোববার নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প এবং ডেমক্র্যাটদের পক্ষে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সমর্থকদের নিয়ে মিছিল করেছেন। জর্জিয়ার ম্যাকনে ট্রাম্প বলেন, “আপনারা মঙ্গলবার ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং নিজেদের ভোট দেবেন।”

ওদিকে, ফ্লোরিডার মিয়ামিতে ওবামা বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি আবারও আমাদের আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ করার মাধ্যমে নিজের ভেতর বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।

জরিপ কী বলছে?

সিএনএনের সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুযায়ী, বিরোধী ডেমক্র্যাটিক পার্টি বেশ কিছুটা এগিয়ে আছে। জরিপে ডেমক্র্যাটিক পার্টির পক্ষে ৫৫ শতাংশ এবং রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে ৪২ শতাংশ ভোট পড়েছে।

সিএনএন জানায়, ডেমক্র্যাটদের জরিপে এগিয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ নারী ভোটার। জরিপে অংশ নেয়া ৬২ শতাংশ নারী ডেমক্র্যাটদের পক্ষে এবং ৩৫ শতাংশ রিপাবলিকানদের পক্ষে মত দিয়েছেন।

কৃষ্ণাঙ্গ এবং ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলো থেকে আসা ভোটাররাও ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ৮৮ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান এবং ৬৬ শতাংশ ল্যাটিন ভোটার ডেমক্রেটদের ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন।

জরিপে ১০ জনের মধ্যে সাত জন ভোটারই বলেছেন, মঙ্গলবার ভোট দিয়ে তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কে তাদের মতামত জানাবেন।

৪২ শতাংশ বলেছেন, তারা প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তাদের মত প্রকাশ করবেন। বিপরীতে ২৮ শতাংশ ভোটার ট্রাম্পকে সমর্থন করবেন বলে জানিয়েছেন।

বাকি ২৮ শতাংশ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট নিয়ে তাদের মাথাব্যাথা নেই, বরং তারা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভোট দেবেন। এটি অনেকটা ২০০৬ সালের নির্বাচনের আগে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ. বুশের বিরুদ্ধে ভোটারদের অবস্থান নেওয়ার মত। সেবার ৪১ শতাংশ ভোটার ব্যক্তি বুশের বিরুদ্ধে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছিলেন।

সব মিলিয়ে এ জরিপে ট্রাম্পের পক্ষে ৩৯ শতাংশ ভোটার মত দিয়েছেন; বিপক্ষে ৫৫ শতাংশ। অক্টোবরের শুরুতে চালানো জরিপে ট্রাম্পের পক্ষে ৪১ শতাংশ এবং বিপক্ষে ৫২ শতাংশ ভোটার মত দিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কোনো প্রেসিডেন্ট এতটা জনপ্রিয়তা হারাননি বলে জানায় সিএনএন। ৫২ শতাংশ ভোটার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কৌশল নিয়ে অসন্তুষ্ট। ৩৫ শতাংশ মনে করেন, ট্রাম্প ঠিকঠাক মত তার দায়িত্ব পালন করছেন। বাকি ১১ শতাংশের ট্রাম্পকে নিয়ে কোনো মতামত নেই।

ট্রাম্প তার পূর্বসূরি বারাক ওবামার বেশ কিছু কৌশলের একদম বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন; বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা বিল ও অভিবাসন নীতিতে।

৫২ শতাংশ ভোটার বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা বিলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তারা মঙ্গলবার ভোট দিতে যাবেন। ৪৯ শতাংশ ভোটার অভিবাসন নীতির কথা বলেছেন। ৪৭ শতাংশ ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের অর্থনীতি, দুর্নীতিদমন এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কৌশল বিবেচনায় নিয়ে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে তদন্ত চলছে। ডেমক্র্যাটিক দলের বেশিরভাগ সমর্থক মধ্যবর্তী নির্বাচনেও রাশিয়া হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে মনে করেন। ৮ শতাংশ রিপাবলিকান সমর্থকও নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ গুরুতর বিষয়ে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

৪৮ শতাংশ ভোটার মনে করেন যদি কংগ্রেস পুনরায় ডেমক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে যায় তবে দেশের জন্য তা ভালো হবে। ৩৫ শতাংশ এতে অবনতি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

 

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

আবার আ.লীগই সরকার গঠন করবে: ইআইইউ

আস্থা ভোটে টিকে গেলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে

রোহিঙ্গাদের জন্য ৫০টি বাড়ি হস্তান্তর করলো দিল্লি

ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে এক বন্দুকধারীর গুলি, নিহত ৪

যুক্তরাষ্ট্রে বোমা আতঙ্কে খালি করা হলো ফেইসবুক ক্যাম্পাস ভবন

বেতন বাড়ানোসহ কর কমানোর প্রতিশ্রুতি ম্যাক্রোঁর

রোহিঙ্গাদের বাড়তি তহবিল দিল ইইউ

অভিশংসিত হওয়ার আশঙ্কায় ট্রাম্প

সর্বশেষ খবর

প্রশাসনের গোপন বৈঠকের তথ্য দিলেন রিজভী

নৌকায় ভোট না দিলে দেশ আবারো অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে

হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় সন্ত্রাসের আশ্রয় নিচ্ছে বিএনপি: কাদের

২৪ ডিসেম্বর থেকে সেনাবাহিনী মোতায়েন: সিইসি