আন্তর্জাতিক

মঙ্গলবার, ০৯ অক্টোবর, ২০১৮ (১৪:০০)

রাখাইনে আতঙ্ক-অবিশ্বাসের মধ্যে জীবন-যাপন রোহিঙ্গারা

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য নির্মিত একটি ট্রানজিট ক্যাম্প

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা আতঙ্ক ও অবিশ্বাসের মধ্যে জীবন-যাপন করছে আর তাদের মুক্তভাবে চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না।

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা-ইউএনএইচসিআর ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি-ইউএনডিপি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংস্থা দুটির প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যার্পণের প্রয়োজনীয় শর্ত এখনও পূরণ হয়নি।

জাতিসংঘ শরণার্থী দল সম্প্রতি রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলের পরিস্থিতি সরেজমিনে মূল্যায়নের পর এ তথ্য জানিয়েছে।

একবছরের বেশি সময় আগে রোহিঙ্গা সংকট তীব্র হওয়ার পর প্রথমবারের মতো সরেজমিনে রাখাইনের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেছে তারা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকা এ খবর নিশ্চিত করেছে।

গত ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় সাত লাখের মতো মানুষ। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় খুঁজে পেয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এ ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ আখ্যা দিয়েছে। তবে এইসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল দুটি রাখাইনের ২৩টি গ্রাম ও তিনটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

কর্মকর্তারা বলেন, তারা যেখানে খুশি যেতে পেরেছেন ও যার সঙ্গে ইচ্ছা কথা বলতে পেরেছেন। ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র আন্দ্রেজ মাহিকিক বলেন, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে দেখা করার মূল লক্ষ্য ছিল তারা কোন পরিস্থিতিতে বাস করছে ও কী কী সমস্যার মোকাবিলা করতে হচ্ছে তা খুঁজে বের করা।

মাহিকিক বলেন, গত বছর শুরু হওয়া সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে এসব মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তাই পরিষ্কারভাবে সেখানে মানুষ কিভাবে বাস করছে তার ওপর এটার প্রভাব রয়েছে। জাতিসংঘ দল যাদের সঙ্গে দেখা করেছে তাদের সবাই খুব কঠিন পরিস্থিতির মোকাবেলা করছে।

মাহিকিক বলেন, রাখাইনের লোকজন তাদের জীবন-ধারণের অক্ষমতার কথা সম্পর্কে জানিয়েছে।

মুক্তভাবে চলাফেরার বিষয়ে প্রচণ্ড বিধি-নিষেধ থাকায় তারা মৌলিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, আতঙ্ক, প্রতিবেশী সম্প্রদায়ের প্রতি অবিশ্বাস ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি অনেক এলাকায় প্রকট হয়ে উঠেছে।

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার মুখপাত্র বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য মৌলিক সেবা না পাওয়ার কারণেও এই আতঙ্ক ও অবিশ্বাসের প্রভাব রয়েছে। এটা সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে বোঝাপড়াকে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছে। এতে তাদের মধ্যে বিশ্বাস গড়ে ওঠার মতো সামাজিক সংযুক্তিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা যেসব সম্প্রদায় পরিদর্শন করেছি তারা বারবার স্বাস্থ্য সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার কথা জানিয়েছে।

এছাড়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষার সুযোগের ব্যাপারেও সেখানে বিধি-নিষেধ রয়েছে।

ইউএনএইচসিআর ও ইউএনডিপি গত জুন মাসে মিয়ানমারের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এই সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যার্পণে ও রাখাইন রাজ্যে তাদের প্রত্যাবাসন ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে পরিস্থিতির প্রাথমিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে মাহিকিক বলেন, এখনও এসব শর্তের কোনওটাই পূরণ হয়নি।

 

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

কাবুলে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত ৫০

সৌদির পক্ষে অবস্থান জারালো করল ট্রাম্প

ভারতে সেনা ডেপোতে বিস্ফোরণ, নিহত ৬

শিকাগোতে হাসপাতালে বন্দুকধারীর হামলা, পুলিশসহ নিহত ৪

খাসোগি হত্যার অডিও টেপ শুনতে চাননি ট্রাম্প

ভারতে ঘূর্ণিঝড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩, খাদ্য সংকট

পাকিস্তানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা তহবিল বাতিল

সিরিয়ার মার্কিন জোটের বিমান হামলা, নিহত ৪০

জনগণ ভোট দিলে আ.লীগ আবারও ক্ষমতায় আসবে: প্রধানমন্ত্রী

জোট শরীকদের সঙ্গে আসন বণ্টনের সমঝোতা শেষ আ.লীগের

প্রতীক বরাদ্দের আগেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে: ইসি সচিব

প্রীতি ফুটবল ম্যাচে জয় পেয়েছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা