আন্তর্জাতিক

ksrm

বুধবার, ০৯ মে, ২০১৮ (১১:৪৩)

পরমাণু চুক্তি বাতিল, কথা বরখেলাপ করেছে ট্রাম্প: রুহানি

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি

পরমাণু চুক্তি বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র কথা বরখেলাপ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।

গতকাল হোয়াইট হাউস থেকে চুক্তি বাতিলের ঘোষণা আসার পর এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে রুহানি এই মন্তব্য করেন।

যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে –এ অভিমত ব্যক্ত করে রুহানি বলেন,‘কম্প্রিহেনশিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) কিংবা ‘ইরান চুক্তি’ দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নয় এটি কয়েকটি দেশের সঙ্গে বহুজাতিক একটি চুক্তি। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও আরও পাঁচটি দেশ এ চুক্তিতে রয়েছে।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এসব বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে গেলেও অন্য পাঁচটি দেশের সঙ্গে এখনো চুক্তি কার্যকর আছে— চুক্তি বাতিলের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের মানুষের সঙ্গে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ তৈরির চেষ্টা করছেন বলেও মন্তব্য করেন রুহানি।

এদিকে, বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতিমধ্যেই প্রেসিডেন্ট রুহানি ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থাকে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ইউরেনিয়ামের মজুত বাড়ানোর জন্য তৈরি থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এখনই উৎপাদনে না গিয়ে দুই-এক সপ্তাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন বলে রুহানি জানান।

এক বিবৃতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থাকে ইউরেনিয়ামের মজুত বাড়ানোর জন্য তৈরি থাকার নির্দেশ দিয়েছি। তবে কয়েক সপ্তাহ দেখব, চুক্তিতে থাকা অন্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সবকিছুই আমাদের জাতীয় স্বার্থের ওপর নির্ভর করছে।

এর আগে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা দুইটার কিছু সময় পর হোয়াইট হাউসে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

এদিকে, এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ ঘোষণার বিরোধিতা করেছে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি।

গত ২০১৬ সালে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি ক্ষমতায় গেলে তার পূর্বসূরি বারাক ওবামার করা এ চুক্তি বাতিল করবেন।

২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশগুলো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এ চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। দীর্ঘ আলোচনার পর এ চুক্তিতে পৌঁছায় তারা।

ইরানের সঙ্গে হওয়া এই পরমাণু চুক্তির আনুষ্ঠানিক নাম জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ)।

চুক্তি মোতাবেক ইরান পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করতে সম্মত হয়। তেজস্ক্রিয় পদার্থ ইউরেনিয়ামের মজুত কমিয়ে আনতে রাজি হয় দেশটি। এই ইউরেনিয়াম পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ ছাড়া ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার জন্য ব্যবহৃত সেন্ট্রিফিউজের সংখ্যা কমিয়ে আনার শর্তও ছিল চুক্তিতে।

এসব শর্ত মেনে চলার বদলে ইরানের ওপর আরোপ করা বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়।

বিশেষ করে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউয়ের দেয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। পরমাণু চুক্তি হওয়ার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিদেশি বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ পায় ইরান। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশে বাজেয়াপ্ত থাকা কোটি কোটি ডলারের সম্পদের অধিকারও ফিরে পায় দেশটি।

ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তিটি করেছিল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য।

এই দেশগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন ও রাশিয়া এবং জার্মান। অবশ্য চুক্তির আগে ও পরে ইরান বরাবরই দাবি করে এসেছে যে তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র না চাইলেও চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী অন্যান্য দেশ চায় চুক্তিটি অটুট থাকুক।

 

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদের ইমাম তালিব গ্রেপ্তার

সীমান্তে সেনাবাহিনী-পুলিশ বাড়িয়েছে মিয়ানমার

নাইজেরিয়ায় জঙ্গি হামলায় নিহত ১৯

কেরালায় বন্যা-ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৭ জনে

হজ পালনের অনুমতি পায়নি কাতারের নাগরিক

রোহিঙ্গা নির্যাতন: মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় মিয়ানমারের দুটো সামরিক ইউনিট

পাক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ইমরান খান

প্রথমবারের মতো উত্তর মেরুতে বোমারু বিমান পাঠালো রাশিয়া

এবারো ঈদটা কারাগারেই কাটালো বিএনপি চেয়ারপারসনের

জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত

দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঈদ-উল-আযহা পালন

ধর্মীয় মর্যদা-ভাবগাম্ভীর্যের মাধ্যমে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা