আন্তর্জাতিক

ksrm

শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ (১৩:১৬)
রয়টার্সের অনুসন্ধান

রোহিঙ্গা হত্যায় জড়িত মিয়ানমারের সেনা-আধাসামরিক পুলিশ সদস্য

রোহিঙ্গা

রাখাইনের ইন দিন গ্রামে গত ২ সেপ্টেম্বর ১০ রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞে দেশটির সেনা ও আধা সামরিক পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা জড়িত ছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ২৫ আগস্ট, সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী যেদিন রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা উত্তর রাখাইনের ৩০টি পুলিশ ফাঁড়ি ও সেনাঘাঁটিতে আক্রমণ করে। এরপর থেকে সেনাবাহিনীর অভিযান শুরু হলে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মুখে তাদের ওপর নির্মম অত্যাচার-নির্যাতনের বর্ণনা শোনা যায়।

তবে এবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইনের ইন দিন গ্রামে গত ২ সেপ্টেম্বর বৌদ্ধ গ্রামবাসীরা রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে এবং ১০ মুসলমানদের হত্যা করে কবর খুড়ে মরদেহ পুঁতে ফেলার কথা স্বীকার করেছে।

ওই হত্যাযজ্ঞে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, আধাসামরিক পুলিশ বাহিনীও জড়িত ছিল তার তার প্রমাণ মিলেছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের স্বীকারোক্তিতে।

প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, ওই দিন ইন দিনের কয়েকজন বৌদ্ধ পুরুষ প্রথমে একটি কবর খোঁড়ার নির্দেশ পান। তারপর ১০ রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়। বৌদ্ধগ্রামবাসীরা অন্তত দুজনকে কুপিয়ে এবং বাকিদেরকে সেনাবাহিনী গুলি করে হত্যা করেছে।

বয়োজ্যেষ্ঠ এক বৌদ্ধ গ্রামবাসীর রয়টার্সকে দেয়া তিনটি আলোকচিত্রে রোহিঙ্গারা ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সৈন্যদের হাতে ধরা পড়া থেকে শুরু করে পরদিন সকাল ১০টায় তাদের হত্যা পর্যন্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ফুটে ওঠে।

সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে আগুন দিতে সেনাবাহিনী ও আধা সামরিক পুলিশ ইন দিন ও কাছের আরো দুটি গ্রামের বৌদ্ধদের সংগঠিত করে বলে বৌদ্ধ গ্রামবাসীরা নিশ্চিত করেছেন।

আধা সামরিক পুলিশের তিন কর্মকর্তা এবং এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, ইন দিনের রোহিঙ্গা পল্লী নিশ্চিহ্ন করার আদেশ সেনাবাহিনীর ওপর মহল থেকে এসেছিল।

আধা সামরিক পুলিশের কিছু সদস্য রোহিঙ্গাদের গরু ও মোটরসাইকেল লুট করে, পরে সেগুলো বিক্রি করেন বলে রয়টার্সকে জানান ইন দিনের বৌদ্ধ প্রশাসক ও আধা সামরিক পুলিশের এক কর্মকর্তা।

৪ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইন দিন অভিযানে সেনাবাহিনীর ৩৩ লাইট ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের ৮০ সেনা অংশ নেয়।

এ তদন্তের সূত্র ধরেই মিয়ানমান পুলিশ বার্তা সংস্থাটির দুই প্রতিবেদক ওয়া লোন ও কিয়াও সোয়ে ও'কে রাখাইন সংশ্লিষ্ট গোপন নথি হাতানোর অভিযোগে গত ১২ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করে।

পরে ১০ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে ইন দিনে ১০ রোহিঙ্গাকে হত্যার কথা নিশ্চিত করা হয়। বলা হচ্ছে তারা ২০০ রোহিঙ্গার অংশ, যারা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে।

রয়টার্সের এ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি মিয়ানমার।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগে অবশ্য সরকারি মুখপাত্র জ হাতয় বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘণের অভিযোগ আস্বীকার করা হচ্ছে না। অভিযোগের বিষয়ে জোড়ালো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিক, এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র হিদার নাউয়ার্ট বলেছেন, আগের পাওয়া গণকবরের পাশাপাশি রয়টার্সের প্রতিবেদনটি বলে দিচ্ছে রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধনের ঘটনার অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

এক টুইটে ইন দিনে গণহত্যার ঘটনায় নিরপেক্ষ ও নির্ভরযোগ্য তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক মানবাধিকার তদন্তকারী ইয়াংহি লি।

আর হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, রাখাইনে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের দোষী সাব্যস্ত করতে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত। ।

 

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

হজ পালনের অনুমতি পায়নি কাতারের নাগরিক

রোহিঙ্গা নির্যাতন: মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় মিয়ানমারের দুটো সামরিক ইউনিট

পাক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ইমরান খান

প্রথমবারের মতো উত্তর মেরুতে বোমারু বিমান পাঠালো রাশিয়া

ভারতে বন্যা-ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫০

কফি আনান আর নেই

কেরালায় বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০৬

ট্রাম্পের সামরিক কুচকাওয়াজ স্থগিত

ভারতের কাছে হেরে রানার্স আপ বাংলাদেশ

নারী নির্যাতন-ধর্ষণের মামলা দ্রুত নিস্পত্তির তাগিদ

জিয়া-খালেদা বঙ্গবন্ধুর খুনি: ইনু

চট্টগ্রামে ইয়াবাসহ পুলিশের এএসআই আটক