আন্তর্জাতিক

সোমবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ (১৫:৪৭)

রোহিঙ্গা শব্দটি বলায় পোপ ফ্রান্সিসের বিরুদ্ধে মিয়ানমারে তীব্র সমালোচনা

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির সাথে পোপ ফ্রান্সিস

বাংলাদেশ সফরের সময় পোপ ফ্রান্সিস রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করায় মিয়ানমারে সোশাল মিডিয়ায় তার তীব্র সমালোচনা করে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে এ বিষয়ে ফেসবুকে মন্তব্য পোস্ট করেছেন।

ঢাকায় রোহিঙ্গা শব্দটি বললেও এর মাত্র কয়েকদিন আগে পোপ ফ্রান্সিস যখন মিয়ানমারে ছিলেন তখন তিনি এই শব্দটি এড়িয়ে গেছেন।

শুক্রবার ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মীয় এই নেতা ঢাকার একটি গির্জায় কয়েকজন রোহিঙ্গার দুর্দশার কথা শোনেন এবং তিনি নিজেও রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেন।

এই রোহিঙ্গা শব্দটি মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়— তারা রোহিঙ্গাদেরকে কোনো জাতিগোষ্ঠী হিসেবেও স্বীকার করে না, তাদের কাছে তারা অবৈধ বাঙালি।

মিয়ানমারে গিয়ে তিনি যখন রোহিঙ্গা শব্দটি বলেন নি তখন মিয়ানমারের ক্ষুদ্র ক্যাথলিক গোষ্ঠী তার এ সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছিলো। প্রশংসা করেছিলেন কট্টরপন্থী বৌদ্ধরাও।

কিন্তু পোপ ফ্রান্সিস ঢাকায় রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেছেন এবং একই সাথে বাংলাদেশ থেকে রোমে ফিরে যাওয়ার পথে বিমানের ভেতরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন কেন তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শব্দটি না বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, পোপ ফ্রান্সিস রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করার পর মিয়ানমারের অনলাইনে এর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া চোখে পড়ছে। দেশটিতে পাঁচ দশকের মতো সময় মত প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ ছিলো। কিন্তু এখন এই দেশটিতে লোকজন সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করছেন।

গত তিন মাসে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

তিনি হচ্ছেন একটা গিরগিটির মতো, আবহাওয়ার কারণে যার গায়ের রঙ বদলে গেছে,’ ফেসবুকে এই মন্তব্য করেছেন অং সো লিন।

আরেকজন ফেসবুক ব্যবহারকারী সোয়ে সোয়ে মন্তব্য করেছেন, তার একজন সেলসম্যান বা দালাল হওয়া উচিত। একজন ধর্মীয় নেতা হওয়া সত্ত্বেও তিনি ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন।

মিয়ানমারের ক্যাথলিক চার্চ থেকে পোপ ফ্রান্সিসকে পরামর্শ দেয়া হয়েছিলো তিনি যাতে বিতর্কিত বিষয়ে কিছু না বলেন। কারণ সেরকম কিছু করলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে এবং সেখানে খ্রিস্টানদের জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে।

পোপ ফ্রান্সিস যখন মিয়ানমারে ভাষণ দেন তখন তিনি তাতে ঐক্য, ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে সম্মান জানানোর কথা বললেও, রোহিঙ্গা শব্দটি একবারের জন্যেও উচ্চারণ করেননি।

একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী ইয়ে লং মিন পোস্ট করেছেন, পোপ একজন পবিত্র মানুষ। কিন্তু তিনি মিয়ানমারে এক কথা বললেন আবার অন্য একটি দেশে গিয়ে অন্য কথা বললেন। তিনি যদি সত্যকে ভালোবাসেন তাহলে তার সবখানে একই কথা বলা উচিত ছিলো।

অন্যদিকে মিয়ানমারে একটি রাজনৈতিক দলের নেতা মং থোয়ে চুন পোপের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন।

তিনি বলেছেন, মানবাধিকার গ্রুপের চাপ সত্ত্বেও মিয়ানমারে তিনি 'রোহিঙ্গা' বলেন নি। তার অর্থ তিনি মিয়ানমারের লোকজনকে ভালোবাসেন। এই শব্দটি তিনি বাংলাদেশে বহুবার উচ্চারণ করেন নি। মাত্র একবারই এটা বলেছেন। আমার মনে হয়, মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে সন্তুষ্ট করার জন্যে তিনি একাজ করেছেন।

মিয়ানমার সফর শেষে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সফরে এসে শনিবার পোপ ফ্রান্সিস নিজ দেশে ফিরে গেছেন।

উল্লেখ গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনে রাখাইন রাজ্য থেকে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

এছাড়াও রয়েছে

বিএনপি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন: কানাডার ফেডারেল কোর্ট

ইরানের ওপর ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন’ নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

ঢাকামুখী সৌদি বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি, জরুরি অবতরণ

ভেনিজুয়েলার নতুন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো

পাকিস্তানে হিটস্ট্রোকে ৬৫ জনের মৃত্যু

রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিতে মিয়ানমারকে দৃঢ় পদক্ষেপের আহ্বান গ্রিনের

ভারতের সাবেক কূটনীতিক মাধুরী গুপ্তকে তিন বছরের কারাদণ্ড

ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান হলেই শান্তি ফিরবে: তুরস্ক

মাদক বিষয়ে বদির বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

না ফেরার দেশে তাজিন আহমেদ

ঈদে সিএনজি স্টেশন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে: ওবায়দুল

সাদা বলের ক্রিকেট ছেড়ে দিচ্ছেন জস বাটলার