রোহিঙ্গারা বিপর্যয়কর মানবিক পরিস্থিতির সম্মুখীন: জাতিসংঘ

বৃহস্পতিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ (১৩:০৭)
রোহিঙ্গারা-বিপর্যয়কর-মানবিক-পরিস্থিতির-সম্মুখীন-জাতিসংঘ

রোহিঙ্গারা বিপর্যয়কর মানবিক পরিস্থিতির সম্মুখীন: জাতিসংঘ

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমরা বিপর্যয়কর মানবিক পরিস্থিতির সম্মুখীন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

রাখাইনে চলমান সহিংসতার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং সেখানে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে দেশটির কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দিয়েছে জাতিসংঘ।

এর আগে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ এক জরুরি বৈঠকে বসে। বৈঠকে নিন্দা জানানোর পাশাপাশি সেখানে সেনা অভিযান বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বানও জানানো হয়।

বৈঠক শেষে নিরাপত্তা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রদূত টেকেদা আলেমু এ কথা জানান।

আলেমু বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা রাখাইন রাজ্যের অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

যে সহিংসতার শিকার হয়ে প্রায় চার লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে সেটিরও নিন্দা জানিয়েছে তারা। সেনা অভিযানের সময় অতিমাত্রায় সহিংসতার তারা উদ্বেগ জানিয়েছে।

পাশাপাশি রাখাইনে সহিংসতা বন্ধ করা, পরিস্থিতি শান্ত করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে স্বাভাবিক আর্থ-সামাজিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যার সমাধান করতে অতি দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ারও তাগিদ দিয়েছে।

গত নয় বছরের মধ্যে এই প্রথম মিয়ানমার নিয়ে বিবৃতি দিতে সম্মত হয়েছ নিরাপত্তা পরিষদ।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে পরিষদের স্থায়ী সদস্য যুক্তরাজ্য ও অস্থায়ী সদস্য সুইডেন।

বৈঠকের পর জাতিসংঘে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ রাইক্রফট বলেন, গত নয় বছরের মধ্যে এই প্রথম মিয়ানমার নিয়ে বিবৃতিতে সম্মত হয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ।

যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্স। এই দেশগুলোর প্রতিটির যে কোনো প্রস্তাব আটকে দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে।

মিয়ানমারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি রয়েছে চীনের, সম্প্রতি বাংলাদেশে নিয়োজিত দেশটির রাষ্ট্রদূত চলমান এই সংকটের জন্য রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের দায়ী করেন।

বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ) গত ২৪ আগস্ট রাতে রাখাইনে ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালানোর পর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

পরদিন থেকে বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গাদের ঢল। কয়েকশ দশক ধরে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গার ভার বহন করে আসা বাংলাদেশে নতুন করে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা এসেছে।

এদিকে, এর আগে লাখ লাখ রোহিঙ্গা যারা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে, তাদের সেই পরিস্থিতিকে 'বিপর্যয়কর' ও 'অত্যন্ত দুঃখজনক' বলে উল্লেখ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

নিউইয়র্কের একটি সংবাদ সম্মেলনে গুতেরেস বলেন, মিয়ানমারে দশকের পর দশক ধরে যে উৎপীড়ন চলছিলো তা এখন এমনই দশায় পৌঁছেছে যে, মিয়ানমারের সীমানা ছাড়িয়ে তা এখন আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণ হয়ে ওঠেছে। সেখানে মানবিক অবস্থাও 'বিপর্যকর'।

এরকম পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা দেয়ার জন্য বিশ্বের সকল দেশকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এই ক্যাটাগরীর আরও খবর

রোহিঙ্গা পুনর্বাসন প্রক্রিয়া স্বচ্ছের জন্য পার্লামেন্টের আহবান

মানুস দ্বীপের আশ্রয়কেন্দ্র থেকে সরতে বাধ্য হলেন শরণার্থীরা

জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট এমারসন ম্যানানগাগওয়া

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক চায় চীন

জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন মানানগাগওয়া

মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ইঙ্গিত টিলারসনের