স্বাস্থ্য

রবিবার, ০৩ মার্চ, ২০১৯ (১৮:২৭)

শঙ্কামুক্ত নন ওবায়দুল কাদের

ওবায়দুল কাদের

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এখনো শঙ্কামুক্ত না।

তবে আগের চেয়ে অবস্থার উন্নতি হয়েছে— এ অবস্থা আগামী ১২ ঘণ্টা স্থিতীশীল থাকলে তাকে শঙ্কামুক্ত বলা যাবে।

রোববার বিকেলে বিএসএমএমইউর উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

কার্ডিওলজি বিভা‌গের চেয়ারম্যান সৈয়দ আলী আহসান জানান, তিনি ( ওবায়দুল কাদের) প্রধানমন্ত্রী ডাকার পর সাড়া দিয়েছেন আর রাষ্ট্রপতির ডাকে সে চোখ খুলেছিল।

সিঙ্গাপুর থেকে টিম আসছে, তাদের যদি প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা থাকে এ ধরণের রোগী নেয়ার মতো, তখন আলোচনার করে বাইরে নেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে জানান বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া।

কাদেরের হৃদযন্ত্রে তিনটি ব্লক ধরা পড়েছে যার একটি এরইমধ্যে অপসারণ করেছেন চিকিৎসকরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক অসিত বরণ অধিকারী বলেন, ওবায়দুল কাদেরের অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলেও এখনও সে শঙ্কামুক্ত নয়।

এদিকে, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার প্রস্তুতি চলছে।

তিনি আরো বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য আমরা উনাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়ার জন্য যোগাযোগ করছি। আশা করছি তাকে সহসেই সিঙ্গাপুরে নিয়ে যেতে পারব।

রোববার ভোরে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ওবায়দুল কাদেরকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে এনে করোনারি কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

সকালে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের উপাচার্য অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়া এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এক ব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদেরর সর্বশেষ পরিস্থিতি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।

অধ্যাপক কনক কান্তি বলেন, উনার (ওবায়দুল কাদের) মেইন আর্টারিতে ব্লক ছিল, সেটা সরিয়ে দেয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করা হবে, তারপর বলা যাবে বাইপাস সার্জারি করা দরকার হবে কি না।

আর মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডাক্তার ও পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন, পরিস্থিতি মনিটর করছেন। উনি নির্দেশনা দিয়েছেন যেন হাসপাতালে অহেতুক ভিড় করা না হয়।

জানা যায়, ভোরে ফজরের নামাজের পর হঠাৎ করেই কাদেরের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে নিয়ে আসেন তার স্ত্রী ইশরাতুন্নেসা কাদের।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান পরে সাংবাদিকদের বলেন, কাদের সাহেব আসার সঙ্গে সঙ্গে সিটি স্ক্যান করা হয়েছ। তখন রক্তচাপ স্টেবল ছিল না, আমরা সেটা স্টেবল করেছি।

এনজিওগ্রামে ওবায়দুল কাদেরের হৃদযন্ত্রে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এর মধ্যে একটি আর্টারি থেকে ব্লক অপসারণ করা হয় বলে জানান তিনি।

উন্নত চিকিৎসার জন্য সেতুমন্ত্রীকে দেশের বাইরে নেয়ার পরামর্শ দেয়ার কথা জানিয়ে অধ্যাপক আলী আহসান বলেন, যে কোনো মুহূর্তে উনার অবস্থা অবনতির দিকে যেতে পারে। এ কারণে তাকে বাইরে পাঠানোর কথা আমরা বলেছি। আমাদের এখানেও ভালো চিকিৎসা হয়। হবে উন্নত চিকিৎসার যেহেতু শেষ নেই, সে কারণেই বিদেশে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।”

একটি ব্লক অপসারণের পর ওবায়দুল কাদেরের পরিস্থিতি জানতে চাইলে কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান বলেন, কাদের ক্রিটিক্যাল সিচুয়েশনে আছেন, ৭২ ঘণ্টার আগে কিছুই বলা যাবে না।

৬৭ বছর বয়সী ওবায়দুল কাদের ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবরে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তার আগে ছয় বছর তিনি দলের সভাপতি মণ্ডলীতে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর আড়াই বছর কারাগারে ছিলেন কাদের। সেখান থেকেই তিনি ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। পর পর দুই মেয়াদে তিনি ওই দায়িত্বে ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকোলে কোম্পানীগঞ্জ থানা মুজিব বাহিনীর (বিএলএফ) অধিনায়ক কাদের প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে। মোট চারবার তিনি নোয়াখালী-৫ আসনের ভোটারদের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জিতে আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন পর সরকার গঠন করলে ওবায়দুল কাদেরকে যুব, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। পরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ হেরে গেলে ২০০২ সালের সম্মেলনে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান ওবায়দুল কাদের।

২০০৭ সালে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ন সরকারের সময়ে জরুরি অবস্থার মধ্যে দেশের বহু রাজনীতিবিদের মত ওবায়দুল কাদেরও গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান। প্রায় ১৮ মাস কারাগারে কাটানোর পর ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনের দুই মাস আগে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

ওই নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবার ক্ষমতায় ফেরেন আওয়ামী লীগের এ নেতা। প্রথমে তাকে তথ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়। সরকারের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে তাকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রিত্ব দেয়া হয়।

তখন থেকেই ওই মন্ত্রণালয়ের দেখভাল করছেন ওবায়দুল কাদের। বর্তমানে এ মন্ত্রণালয়ের নাম সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়ে যেসব অভ্যাসে

গুলিস্তানে বিস্ফোরিত ককটেলটি অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল: ডিএমপি

আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ ওবায়দুল কাদের

বাসায় ফিরেছে কৃত্রিম পা লাগানো রাসেল

মঙ্গলবার সারাদেশে শুরু হচ্ছে ‘জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা সপ্তাহ’

সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে অগ্নিদগ্ধ নুসরাত

খাদ্যে ভেজাল দেয়া ক্ষমাহীন অপরাধ: খাদ্যমন্ত্রী

অগ্নিদগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রীর শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত: ডা. সামন্ত লাল

সর্বশেষ খবর

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আব্বাসি গ্রেপ্তার

রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন মিন্নি: পুলিশ সুপার

খুলনা টাইটান্সে শেন ওয়াটসন

জাতীয় পার্টির নতুন চেয়ারম্যান জিএম কাদের