নাসিক নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাই বড় চ্যালেঞ্জ: রিটার্নিং অফিসার

বুধবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৬ (১৮:১৮)
নাসিক-নির্বাচন-সুষ্ঠুভাবে-সম্পন্ন-করাই-বড়-চ্যালেঞ্জ-রিটার্নিং-অফিসার

কোথাও সহিংসতার চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা: রিটার্নিং কর্মকর্তা

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন- নাসিক নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছে জেলা রিটার্নিং অফিসার নুরুজ্জামান তালুকদার।

এরইমধ্যে নির্বাচন নিয়ে সবধরনের প্রস্তুতি শেষ—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মোট ১৭৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩৭টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে কাজ করা হয়েছে।

আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

নিয়মানুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নতুন মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচনে ভোট দেবেন পৌনে পাঁচ লাখ ভোটার।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, বুধবার বেলা ১১টায় শহরের আদালতপাড়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নির্বাচনী সরঞ্জাম কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার, প্যাড, সিল, অমোচনীয় কালিসহ অন্যান্য উপকরণ পুলিশি পাহারায় পাঠানো হচ্ছে ১৭৪টি ভোটকেন্দ্রে।

এসব সরঞ্জামের মধ্যে সুঁই, সুতা, সুপার গ্লু, স্ট্যাপলার,ভোটার তালিকা, কার্বন পেপার, মোমবাতি, স্কেল, কলমসহ ৬০টির বেশি উপকরণ রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান।

রিটার্নিং কর্মকর্তা নুরুজ্জামান তালুকদার বলেন, আমরা যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ১৭৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৩৭টিকে বেশি নজর দেয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

এক নজরে সিটি নির্বাচন ২০১৬:

*ভোটার ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৯৩১ জন।

*ভোট চলবে বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

*মেয়র পদে সাত জন, ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৩৮ জন এবং ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ১৫৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

*তিন পদের জন্য ব্যালট ছাপানো হয়েছে ১৪ লাখ ২৪ হাজার ৭৯৩টি।

*১৭৪ কেন্দ্রের ১৩০৪টি কক্ষে এসব ব্যালটে রায় দিবেন ভোটাররা।

* ভোটের দায়িত্বে রয়েছেন প্রায় ৪ হাজার কর্মকর্তা।

* আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার সদস্য রয়েছেন ভোটের নিরাপত্তায়।

*সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে এ ভোটগ্রহণ।

ভোটারদেরও প্রত্যাশিত নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।

জয়ের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থীত মেয়র প্রার্থী ড. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষেই ভোট পাওয়ার আশা। আবার বিএনপি সমর্থীত মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের পাল্লা ভারী। তাই এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে অনেকে মনে করছেন।

রাত পোহালেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এ নির্বাচনকে ঘিরেই পুরো নারায়ণগঞ্জ নগরী ঘিরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এদিকে, নির্বাচনে সন্ত্রাস ও কালো টাকার প্রভাবের আশঙ্কা করছেন সাধারণ ভোটাররা। শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠানে তারা চাইছেন প্রশাসনের শক্ত পদক্ষেপ।

ভোটাররা বলেন, নারায়ণগঞ্জকে যিনি সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করতে পারবেন এগিয়ে নেবেন চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম তাকেই নির্বাচিত করবেন।

আর, স্থানীয় রাজনীতিও ভোটের মাঠে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াবে মনে করেন অনেকে।

রাস্তা-ঘাট, বাজার-বন্দর, ভোটকেন্দ্র আর শহরের অলি-গলি সবখানেই ভোটের চিত্র ফুটে উঠেছে। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পোস্টারে ঢাকা পুরো নারায়ণগঞ্জ; চারদিকে উৎসবের আমেজ। এর ব্যতিক্রম নয় বন্দর থানাও। নির্বাচনী এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু যাদের ভোট নিতে এ আয়োজন সে ভোটাররা কি ভাবছেন নির্বাচন নিয়ে..?

অনেকে শান্তিপূর্ণ ভোটের কথা বললেও কেউ কেউ শঙ্কিত সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হবে কিনা সে বিষয়ে।

কারা সন্ত্রাস ও কালোটাকা ছড়াবে এমন প্রশ্নে তারা অবশ্য ভয়ে মুখ খুলতে চাননি।

ভোটারদের অনেকেই আবার এলাকার কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি কেমন জনপ্রতিনিধি চান সে বিষয়ে কথা বলেছেন।

তবে, স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বেশ বড় ফ্যাক্টর হতে পারে-এমন অনুমান অনেকের।

আজ সকাল ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠে রয়েছে র্যা বের ডগ স্কোয়ার্ড ও বোমা নিস্ক্রিয়করণ ইউনিট। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে চলছে তল্লাশি।

পুলিশ, বিজিবির পাশাপাশি র্যা বের ৬০০ সদস্য এ নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নরেশ চাকমা জানিয়েছেন।

এই ক্যাটাগরীর আরও খবর

নতুন বছরে ট্রাম্পকার্ড নিয়ে আসছে আ’লীগ-বিএনপি

নির্বাচানে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি: সিইসি

আগামী ২১ ডিসেম্বর রংপুর সিটি নির্বাচন

জিয়া গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠাতা নিজে ধারণ করি: সিইসি

বিএনপি বর্জন করলে ইসির পক্ষে নির্বাচন আয়োজন মুশকিল

সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচনের প্রস্তাব নারী প্রতিনিধিদের