শনিবার, ০৭ জানুয়ারী, ২০১৭ (১৮:২০)

ভুলে ভরা নতুন পাঠ্যবই নিয়ে বিপাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো

ভুলে ভরা নতুন পাঠ্যবই নিয়ে বিপাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো

ভুলে ভরা নতুন পাঠ্যবই নিয়ে সবচেয়ে বিপদে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। পাঠ্যবইয়ে ভুল শোধরাতে কমিটি কাজ করলেও বিদ্যালয়গুলোতে এখন পর্যন্ত কোনও সংশোধনী পৌঁছায়নি। ফলে শ্রেণী কক্ষে পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে পুরনো বই অনুসরণ করে পড়ানো হচ্ছে।

এদিকে, বিষয়টিকে রাজনৈতিক ইস্যু বলে মনে করছেন দেশের শিক্ষা গবেষকরা।

তাদের মতে, পাঠ্যবইয়ে এমন ভুল ভবিষ্যতের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের হুমকি।

নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত এবং পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পাশাপাশি বছরের শুরুতে জমকালো উৎসবের মধ্যদিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়া সরকারের বিরাট সাফল্য হিসেবে এরইমধ্যে স্বীকৃত। কিন্তু এ সাফল্য ছাপিয়ে বরাবরই বইয়ের মান কিংবা সুন্দর বিষয়বস্তুর ভুল-ত্রুটি সামনে আসে।

এবার বিগত দিনের সব অভিযোগ আলোচনা ছাড়িয়ে চরম বির্তকে নতুন পাঠ্যবই। মাধ্যমিক, প্রাথমিকের পাঠ্যবইয়ে ভুল ও অসর্ম্পূণ তথ্য বিকৃত ও বিতর্কিত বিষয় স্থান পেয়েছে পাঠ্যবইয়ের পাতায় পাতায়।

স্পর্শকাতর ভুলগুলোর মধ্যে, তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে কুসুমকুমারী দাসের " আদর্শ ছেলে" কবিতাটি বিকৃত করা হয়েছে। মূল কবিতায় " ‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে" সেখানে ছাপা হয়েছে " আমাদের দেশে সেই ছেলে কবে হবে"। এমন বিকৃত রূপ কবিতাটির আরো দুটি লাইনে রয়েছে।

তৃতীয় শ্রেণির আরেকটি বইয়ের পেছনের প্রচ্ছদে ছাপানো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবির নিচে ইংরেজিতে লেখা ডু নট হার্ট এনিবডি -এখানে হার্ট-আঘাত করা বোঝাতে গিয়ে ভুল বানানে হার্ট-হৃদয় ছাপানো হয়েছে।

এক সময়ে প্রথম শ্রেণির বইয়ে অ-তে অজগর শেখানো হলেও এবার তার বদলে শুনি ও বলি বাক্য পাঠে একটি ছাগলের ছবি দিয়ে লেখা হয়েছে, অজ অর্থাৎ ছাগল আসে। আম খাই। ছবিতে দেখানো হয়েছে ছাগল গাছ থেকে আম পেরে খায়। বিষয়টি সমালোচনার ঝড় তুলেছে।

প্রথম শ্রেণির এই বইটিতেই ও-দিয়ে বাক্য গঠন করা হয়েছে ওড়না চাই। যা নিয়ে চলছে বির্তক। এছাড়াও বিভিন্ন গল্প, কবিতায় রয়েছে অসংখ্য বানান ভুল।

নতুন পাঠ্যবইয়ে এসব ভুল নিয়ে সামাজিক গণমাধ্যম ফেইসবুকে তীব্র সমালোচনার পর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-এনসিটিবি একটি তদন্ত কমিঠি গঠন করা হয়েছে বলে জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান।

এদিকে, নতুন বই বিতরনের পাশাপাশি শুরু হয়েছে শ্রেণিকক্ষে নতুন পাঠদান। ভুলে ভরা ওইসব পাঠ্যবই নিয়ে অনেকটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

ভুল অংশের কি সংশোধনী আসবে বা কবে আসবে এমন কোনো নির্দেশনা এখনো পাননি বলে জানিয়েছেন মতিঝিল কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহিদুর রহমান।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, সংশোধনী এখনো আসেনি ফলে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। আবার কেউ কেউ ভুল অংশ বাদ দিয়ে পড়াচ্ছেন।

জীবনের শুরুর শিক্ষাক্রমে এমন ভুল অমার্জনীয় বলে উল্লেখ করেছেন দেশের শিক্ষা গবেষক ড. মনজুর আহমেদ।

তার মতে বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। এ ধরনের ভুল ভবিষ্যত শিক্ষার জন্য হুমকি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এই ক্যাটাগরীর আরও খবর

আদালতের নির্দেশনামা পেলেই প্রশ্নফাঁস রোধ কাজ শুরু

ঢাবির ভাস্কর্য বিভাগের ৫৫ বছর

প্রশ্নফাঁস রোধ: শিক্ষক-শিক্ষাবিদসহ সমন্বয় সাধনের মাধ্যমেই সম্ভব

প্রশ্ন ফাঁস রোধ করতে না পারায় অসহায়ত্ব প্রকাশ শিক্ষাসচিবের

ফাঁস হলো পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্ন

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগই সঠিক সমাধান নয়: ড জাফর

পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশে মোবাইল পেলেই গ্রেপ্তার

প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ইন্টারনেটের গতি কমানোর নির্দেশ

খালেদাকে ছাড়া কোনো নির্বাচন নয়: বিএনপি

খালেদার আরও বেশি সাজা হওয়া উচিত ছিল: আইনমন্ত্রী

বস্তা দেয়া হচ্ছে হিমাগারে: পাট সচিব

ইরান-মেক্সিকোতে বিমান-হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ৭৯