অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কোনো আলোচনায় নয় শিক্ষকেরা

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ (১৭:০৫)
অর্থমন্ত্রীর-সঙ্গে-কোনো-আলোচনায়-নয়-শিক্ষকেরা

শিক্ষকদের কর্মবিরতি

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে শিক্ষকেরা কোনো আলোচনায় বসবেন না—জানিয়েছে শিক্ষক সমিতি জোট বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন।

রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন সমিতির সভাপতি ফরিদউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্যোগ না নিলে তারা আন্দোলন থেকে এক ইঞ্চিও সরে আসবেন না।

সকাল থেকে ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আজও পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষকেরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো ক্লাস হচ্ছে না। কর্মবিরতি চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আলাদা বেতনস্কেল ও বিদ্যমান বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন।

ফেডারেশনের সভাপতি ফরিদউদ্দিন আহমেদ বলেন, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষকেরা কোনো আলোচনায় বসবেন না— প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি উদ্যোগ না নিলে আলোচনা শুরু হবে না। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ‘পাবলিকলি’ শুনতে চাই। নইলে আন্দোলন থেকে এক ইঞ্চিও সরব না।’

আলোচনায় অর্থমন্ত্রী থাকলে শিক্ষকেরা ন্যায়বিচার ও সুবিচার পাবেন না বলে তিনি মন্তব্য করে—অর্থমন্ত্রীকে স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার আহ্বানও জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফেডারেশনের মহাসচিব এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে বয়স্ক অর্থমন্ত্রী দেশের উচ্চশিক্ষাকে ধ্বংস করা এবং শিক্ষাঙ্গনকে অশান্ত করার নীলনকশা বাস্তবায়নে নেমেছেন। আমাদের প্রশ্ন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সাবেক আমলা ও বর্তমান আমলা পক্ষের একজন অর্থমন্ত্রী হয়ে তার পক্ষে বিভ্রান্তিকর তথ্য সংবলিত বক্তব্য দেয়া কী শোভা পায়? ঊচ্চ শিক্ষাবিরোধী মনোভাবের পরিচয় দিয়ে অথবা ঊচ্চশিক্ষাকে ধ্বংস করে তিনি কার স্বার্থ হাসিল করতে চাইছেন?’

মাকসুদ কামাল আরো বলেন, বেতন বৈষম্য বিষয়ক যে কমিটি হয়েছে স্বয়ং অর্থমন্ত্রী তার প্রধান—আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, এরমধ্যে যিনি শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেকে দাঁড় করিয়েছেন এবং শিক্ষকদের ব্যাপারে প্রতিহিংসাপরায়ণ বক্তব্য দিয়ে বিতর্কিত হয়েছেন সেই ব্যক্তির নেতৃত্বাধীন কোনো কমিটি গ্রহণযোগ্য নয়। এ ব্যাপারে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, বাস্তবমুখী ও গঠনমূলক পদক্ষেপ না নিলে ঈদের পরে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেয়া হবে এছাড়া আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরও শিক্ষকেরা পূর্বঘোষিত কর্মবিরতি পালন করবেন।

সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েই কর্মবিরতি পালনের খবর পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

মন্ত্রিসভায় নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুমোদনের পর গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের সবচেয়ে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী জ্ঞানের অভাবে আন্দোলন করছে এবং শিক্ষকদের এই ব্যবহারে তিনি অত্যন্ত দুঃখিত।

বেতনকাঠামোতে মর্যাদাহানি ও অবমূল্যায়ন করা হয়েছে- এমন দাবি করে ওই দিন কর্মবিরতি পালন করেন বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। মন্ত্রী বলেন, এই কর্মবিরতির কোনো যৌক্তিকতা নেই। তারা জানেনই না যে বেতনকাঠামোতে তাদের জন্য কী রাখা হয়েছে বা কী রাখা হয়নি। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, ‘কোথায় তাদের মানমর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে? আমি তো কোথাও কিছু দেখি না।’

এ বক্তব্যের পর শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার সিলেটে এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী তাঁর মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি যেভাবে বক্তব্যটি দিই তাতে অবশ্যই তাঁদের (শিক্ষকদের) মানহানি হয়েছে। কারণ জ্ঞানের অভাবে বলা এবং যথাযথ তথ্য সম্পর্কে অনবহিত বলার মধ্যে যথেষ্ট তফাৎ রয়েছে। আমি আমার বক্তব্য সম্পর্কে খুবই দুঃখিত।’ এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি কমিশনের সুপারিশ বিরোধী আন্দোলন সম্পর্কে সাংবাদিকেরা আমার মন্তব্য চান। তখন আমি বলি যে তাদের এই আন্দোলনটি অকারণে শুরু হয়েছে। এটা আমাকে গভীর পীড়া দেয় এ জন্য যে, দেশের সবচেয়ে শিক্ষিত গোষ্ঠী একটি আন্দোলন করছেন। সর্বোপরি সরকারি সিদ্ধান্ত না জেনেই তারা আন্দোলনে নেমে গেলেন। আমি বলতে চেয়েছিলাম, তারা আন্দোলনে চলে গেলেন যখন, তারা পুরো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।’ এসব বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আজ শিক্ষকেরা এ সংবাদ সম্মেলন করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাশাপাশি দেশের ঊচ্চশিক্ষার বেশির ভাগ কাজ হয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সরকারি কলেজগুলোতে। সেই কলেজগুলোতেও শিক্ষকদের আন্দোলন শুরু হয়েছে। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির ডাকে গত বৃহস্পতিবার কর্মবিরতি পালন করেছেন তারা। সমিতির মহাসচিব আই কে সেলিম উল্লাহ খন্দকার ‘এখন (গতকাল) পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি, কোনো আশ্বাসও দেয়া হয়নি। যদি ১৮ সেপ্টেম্বরের আগে যোগাযোগ করা না হয়, তাহলে আগামী ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর আবারো কর্মবিরতি পালন করা হবে।

দেশে এখন ৩০৫টি কলেজ ও সমপর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষক রয়েছেন।

এই ক্যাটাগরীর আরও খবর

শুরু হলো প্রাথমিক-ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা

সরকার না চাইলে এ পরীক্ষা বন্ধের সুযোগ নেই: মোস্তাফিজুর

নকলের অভিযোগে ৭ পরীক্ষার্থীকে ২০ দিনের কারাদণ্ড

১৯ নভেম্বর থেকে প্রাথমিক-ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা শুরু

৩৭তমর মৌখিক ২৯ নভেম্বর ও ৩৮তমর প্রিলি. ২৯ ডিসেম্বর

জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা শুরু