অর্থনীতি

ksrm

শনিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ (১৮:৩১)

বাণিজ্যমেলায় ২০০ কোটি টাকা রপ্তানি আদেশ: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার ২৪তম আসরে বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো প্রায় ২০০ কোটি টাকা রপ্তানি আদেশ পেয়েছে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

শনিবার বাণিজ্যমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এবারের মেলায় রপ্তানি আদেশ বেশি হয়েছে সব মিলিয়ে বিক্রিও অন্যান্যবারের তুলনায় বেশি হয়েছে।

দেশকে এগিয়ে নিতে হলে রপ্তানি বাড়াতে হবে। বর্তমানে রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশেই পোশাক খাত থেকে। কিন্তু রপ্তানি বাড়াতে হলে শুধু পোশাকের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকলে হবে না, পণ্যের বৈচিত্র্য আনতে হবে জানান তিনি।

তিনি বলেন, প্রতিবছরই আমাদের মেলার ক্রেতা ও দর্শণার্থীদের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে তাতে পূর্বাচলে স্থায়ী বাণিজ্যমেলা প্রাঙ্গণেও এ ধরনের মেলা আয়োজন করা সম্ভব নয়। একইসঙ্গে আজ থেকে ১০ বছর পরে এখানে এ মেলা করা যাবে কি-না তা নিয়ে এখন থেকেই ভাবতে হবে।

‘গত বছর ২৩তম আসরে ১৬৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকার রপ্তানি আদেশ পেয়েছে— আর এ বছর বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো প্রায় ২০০ কোটি টাকা রপ্তানি আদেশ পেয়েছে। সে হিসেবে এ বছর এ আদেশ বেড়েছে ৩৫ কোটি টাকা।

এসময় অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব এস এম রেজওয়ান হোসেন এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্যসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্যমেলা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ব্যবসায়ীদের অনুরোধে সময় একদিন বাড়ায় আয়োজনকারী কর্তৃপক্ষ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। এবারের মেলায় ১২ ক্যাটাগরিতে ৪২টি প্যাভিলিয়ন ও স্টলকে পুরস্কার দেয়া হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এবারের মেলায় সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো আমাদের দেশি পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। বায়াররা আমাদের পণ্যে আকৃষ্ট হচ্ছে। এর ফলে আগামীতে আমাদের আমদানি কমে যাবে। এছাড়া রফতানিতে আমাদের পোশাক খাতের নির্ভরতা কমিয়ে অন্যান্য পণ্য রফতানি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি চিন্তা ও চেতনায় আমাদের আরো এগোতে হবে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, পূর্বাচলে ৩০ একর জমিতে চায়না কোম্পানি বাণিজ্যমেলার স্থায়ী জায়গায় নির্মাণ কাজ করছে। হয়তো একটু সময় লাগবে। এবারের মেলায় রপ্তানি আদেশ ভালো হয়েছে। গতবার আমাদের রপ্তানি হয়েছিল ৪১ বিলিয়ন ডলার। এবার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৫ বিলিয়ন ডলার। ২০৪১ সালে আমাদের রপ্তানি হবে ৬০ বিলিয়ন ডলার। সবক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভালো করছে।

তিনি বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ প্রমাণ করে দিয়েছে তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। তাই এখন অনেক ভালো লাগে যখন সংসদে দেখি কোনো যুদ্ধাপরাধী নেই, কোনো খুনি নেই। আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়েই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। ব্যবসার ক্ষেত্রে আমাদের সমস্যাগুলো একসঙ্গে বসে সুন্দরভাবে সমাধান করতে সরকার আন্তরিক।

এবারের মেলায় অংশ নেয়া ৬০৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দিয়েছে ইপিবি। অনুষ্ঠানেই বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়।

বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরাদের গোল্ড কালার্ড ট্রফি এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থান অধিকারীদের মাঝে সিলভার ট্রফি ও ব্রাস ট্রফি দেয়া হয়।

এবার মেলায় সর্বোচ্চ ভ্যাট প্রদানকারী হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে হাতিল কমপ্লেক্স; এক্ষেত্রে ওয়াল্টন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ দ্বিতীয় এবং এসকোয়ার ইলেকট্রনিক্স তৃতীয় পুরস্কার জিতেছে।

মেলায় অনন্য সম্মাননা পুরস্কার পেয়েছে কারুপণ্য রংপুর লিমিটেড। সেরা প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ও সেরা সাধারণ প্যাভিলিয়নে প্রথম হয়েছে ওয়াল্টন হাই-টেক ইন্ড্রাসট্রিজ লিমিটেড। সেরা সংরক্ষিত প্যাভিলিয়নে প্রথম হয়েছে জুট ডাভার্সিফিকেশন প্রোমোশন সেন্টার (জেডিপিসি)।

এবার বিদেশি প্যাভিলিয়ন ক্যাটাগরিতে যৌথভাবে প্রথম হয়েছে জাপানের হালাল কোম্পানি লিমিটেড এবং তুরস্কের হাডেক্স হালি ডেরি টেক্সটাইল ডাইস টিআইসি এ এস।

সেরা প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়নে বিআরবি ক্যাবল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সেরা সাধারণ মিনি প্যাভিলিয়নে বঙ্গ মিলার্স লিমিটেড, সেরা সংরক্ষিত মিনি প্যাভিলিয়নে বাংলাদেশ পোস্ট অফিস, সেরা প্রিমিয়ার স্টলে এম/এস হেলাল ও ব্রাদ্রার্স এবং সেরা সাধারণ স্টলে প্রথম হয়েছে ফরচুন টেক লিমিটেড।

আর নারী উদ্যোক্তা বিভাগে সিলভার ট্রফি পেয়েছে গৃহিণী ফুড প্রোডাক্টস ও মা এন্টারপ্রাইজ।

এবারের মেলায় প্যাভিলিয়ন ছিল ১১০টি, মিনি-প্যাভিলিয়ন ছিল ৮৩টি ও রেস্তোরাঁসহ অন্যান্য স্টল ছিল ৪১২টি।

বাংলাদেশ বাদে ২৫টি দেশের ৫২টি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নেয়। দেশগুলো হলো- জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, হংকং, সিঙ্গাপুর, মরিশাস, দক্ষিণ কোরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

উল্লেখ্য, গত বছর ২৩তম আসরে ২০ মিলিয়ন ডলার বা ১৬৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকার রপ্তানি আদেশ পেয়েছে বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো। তার আগের বছর ২২তম আসরে মেলায় ২৪৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বা ৩০ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন ডলারের স্পট অর্ডার এসেছিল। ২০১৬ সালে ছিল ২৩৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা। রাজনৈতিক সহিংসতার দু’বছর ২০১৪ ও ২০১৫ সালে রফতানির আদেশ ছিল যথাক্রমে ৯৫ কোটি ও ৮০ কোটি টাকা। তার আগের বছর ২০১৩ সালে রফতানি আদেশ এসেছিল ১৫৭ কোটি টাকা।

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

রমজানে নিত্যপ্রয়োজনী ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

হাতিরঝিলে বিজিএমইএ ভবন নির্মাণের জন্য ইপিবি দায়ী

দুর্নীতি-রাজনীতিকরণই এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় বাধা

একনেকে ৭ প্রকল্পের অনুমোদন

বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ বর্ধনশীল অর্থনীতির একটি বাংলাদেশ: বিশ্ব ব্যাংক

চলতি অর্থবছরে ৮% জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস এডিবির

আগামী বাজেটে কর না বাড়িয়েই কর আদায় হবে: অর্থমন্ত্রী

রমজানের জন্য ২২ এপ্রিল থেকে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি শুরু

সর্বশেষ খবর

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে ৪ ধাপ নিচে নেমেছে বাংলাদেশ

২৮ এপ্রিল থেকে ট্রেনের ৫০% টিকিট অ্যাপে

যুক্তরাজ্যে তারেক-জোবাইদার ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ

রমজানে নিত্যপ্রয়োজনী ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী